মো:শুকুর আলী,স্টাফ রিপোর্টার:
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড এ কথা কার না জানা? কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কথাটার কতটুকু বাস্তবায়ন আছে এটা ভেবে দেখার সময় এসেছে! একটা দেশ প্রকৃত এবং টেকসই মানবসম্পদ তৈরী করতে হলে শিক্ষাকে সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে তবে যুগ যুগ ধরে এদশের শিক্ষা ও শিক্ষকরা প্রাপ্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে!
বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের অন্যতম ভিত্তি হলেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল , কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত প্রায় ৬ লক্ষ শিক্ষক-কর্মচারী বছরের পর বছর ধরে জাতি গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছেন, অথচ এই শিক্ষক সমাজ আজও বঞ্চিত জীবনমান, নিরাপত্তা ও মর্যাদার দিক থেকে। দেশের প্রায় ৯৭% মাধ্যমিক শিক্ষা এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের হাতে কিন্তু স্বাধীনতার দীর্ঘ বছর পর ও তাঁরা অবহেলিত , বিভিন্ন সরকারের আমলে ধাপে ধাপে জাতীয় বেতন স্কেলে বেতনভুক্ত হলে বাকি সুবিধা গুলো নাম মাত্র!
দীর্ঘদিনের বৈষম্যের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আগামী ১৩ই আগস্ট ২০২৫,রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য বৃহৎ শিক্ষক সমাবেশ হবে এই দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বিরুদ্ধে শিক্ষক সমাজের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের প্রতিচ্ছবি।
এই সমাবেশে শিক্ষকরা তাঁদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠে কথা বলবেন।
শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রধান সমস্যাসমূহ:
১. বাড়িভাড়ার বৈষম্য :
বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মাসিক মাত্র ১,০০০,টাকা বাড়িভাড়া ভাতা পান। যেখানে শহরাঞ্চলে বাসা ভাড়া গড়ে ৬,০০০-১৫,০০০ টাকা,সেখানে এই অপ্রতুল ভাতা শিক্ষক পরিবারে চরম সংকট সৃষ্টি করছে। ভাবতেই অবাক লাগে চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী থেকে শুরু করে অধ্যক্ষ পর্যন্ত সবার বাড়ি ভাড়া ১০০০/- টাকা! যেখানে সরকারি স্কুল কলেজের শিক্ষকরা মুল বেতনের ৪৫% বাড়ি ভাড়া পেয়ে থাকেন।
২. চিকিৎসা ভাতা:
প্রতিমাসে মাত্র ৫০০-টাকা চিকিৎসা ভাতা পেয়ে থাকেন- যেখানে সরকারি শিক্ষকরা ১৫০০-টাকা আর এমপিও ভুক্ত শিক্ষক এবং কর্মচারীরা
৫০০-টাকা আধুনিক চিকিৎসা খরচের তুলনায় তুচ্ছ। ফলে গুরুতর অসুস্থতায় চিকিৎসার অভাবে শিক্ষকরা মর্যাদাহীন জীবন যাপন করছেন।বর্তমান সময়ে ভাল একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হলে ভিজিট দিতে হয় ১০০০-টাকা!
৩. বদলির অনুপস্থিতি:
সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের মত বদলির সুযোগ নেই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের। দীর্ঘ ২৫-৩০ বছর এক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেও পারিবারিক, স্বাস্থ্যগত বা সামাজিক কারণে অন্যত্র বদলির কোনো পথ নেই। এটি একপ্রকার মানবাধিকার লঙ্ঘন। যেখানে শিক্ষকরা অন্যর সন্তানদের মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে সহায়ক সেখানে শিক্ষকরা নিজের পরিবার এবং সন্তানদের সময় দিতে পারছেন না এর একমাত্র প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে বদলি না থাকা। অনেক দিন যাবত শিক্ষকরা বদলি বিষয়ে দাবি করে আসলে এর কোন বাস্তবায়ন নেই ৬ লক্ষ এমপিও শিক্ষক বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নিয়মে এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাড়ি থেকে দূরে নিয়োগ পেয়েছেন তাঁরা নিজ উপজেলা এবং জেলায় বদলি চায়। বর্তমান সরকার এনটিআরসিএ কতৃক সুপারিশ প্রাপ্ত শিক্ষকদের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আশা করি ধাপে ধাপে সকল শিক্ষকদের বদলির আওয়তায় নিয়ে আসবে সরকার। বদলি ব্যবস্থা চালু হলে শিক্ষকরা উপকৃত হবে।
৪.এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ১০০% উৎসব ভাতা প্রাপ্তির ন্যায্য দাবি।
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড—এই কথাটি শুধু বাক্য নয়, একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের বাস্তব চিত্র। আর এই মেরুদণ্ডকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখেন শিক্ষক সমাজ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আজও নানাভাবে বঞ্চিত। তাঁদের অন্যতম বড় বঞ্চনা হলো ১০০% উৎসব ভাতা থেকে বঞ্চিত থাকা।
বর্তমান অবস্থা:
সরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতি বছর দুইবার উৎসব ভাতা হিসেবে শতভাগ মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পান। কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণ পান মাত্র ২৫% যা ১৭ বছর আগে বেগম খালেদা জিয়া সরকার প্রদান করেছিলেন বর্তমান ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস সরকারের সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টার আন্তরিকতায় আরো ২৫% যুক্ত হয়ে মোট ৫০% হয়েছে মাত্র!
এতে করে একজন শিক্ষক পরিবার-পরিজন নিয়ে উৎসব উদযাপন তো দূরের কথা, জীবনধারণ করাই কঠিন হয়ে পড়ে।
কেন এই ভাতা প্রাপ্য:
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরকারি শিক্ষকদের মতো একই পাঠ্যক্রম, একই পরীক্ষার দায়িত্ব এবং একই জাতীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন। তাহলে উৎসব ভাতায় বৈষম্য কেন?
বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির যুগে উৎসব ভাতা একটি পরিবারের জন্য বিশেষ সহায়ক ভুমিকা পালন করবে।
৫. হাওর ভাতা থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বঞ্চিত!
বাংলাদেশের হাওর অঞ্চল প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, সৌন্দর্য এবং দুর্ভোগে পরিপূর্ণ একটি এলাকা। এই অঞ্চলে বসবাস করা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালন করা সাধারণ জনগণের জন্য যেমন কষ্টকর, তেমনি শিক্ষক পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য আরও চ্যালেঞ্জিং। দীর্ঘপথ, যাতায়াতের সীমাবদ্ধতা, মৌসুমি দুর্যোগ ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে হাওর অঞ্চলে শিক্ষকতা একটি কঠিন দায়িত্ব। অথচ এই দুর্ভোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য 'হাওর ভাতা'* থাকলেও, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এ ভাতা থেকে সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত।
হাওরের অনেক বিদ্যালয় এমন এলাকায় অবস্থিত, যেখানে বর্ষা মৌসুমে একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম নৌকা। শিক্ষকরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন। বর্ষায় কখনো কোমরসমান পানি মাড়িয়ে, কখনো দুর্বল নৌকায় চলাচল করে পাঠদান করেন।
সরকারি কর্মচারীরা এই ধরনের এলাকায় দায়িত্ব পালনের জন্য ২০% হাওর ভাতা পান — যা তাদের উৎসাহ, স্বস্তি এবং দায়িত্ব পালনে সহায়ক হয়। অথচ এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণ যাঁরা রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকেই বেতন পান, তাঁদের জন্য এই ভাতা প্রযোজ্য নয় — এটা শুধু দুঃখজনক নয়, অমানবিকও বটে।
- হাওর এলাকার কষ্ট শুধু সরকারি কর্মচারীদের নয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও তা সমানভাবে ভোগ করেন।
৬. ম্যানেজিং কমিটির অরাজকতা:
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অযোগ্য, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বা আত্মকেন্দ্রিক ম্যানেজিং কমিটি শিক্ষকদের প্রতি অন্যায় আচরণ করছে, নিয়োগে স্বজনপ্রীতি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অশান্তি সৃষ্টি করছে।তাই সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় যেভাবে পরিচালিত হয় এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সে ভাবে পরিচালনা দাবি শিক্ষকদের। সরকার এবং রাজনৈতিক দলের অবহেলার কারণে এই ম্যানেজিং কমিটির প্রথা থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে মুক্তি করা যাচ্ছে না।
৭. মর্যাদা ও সম্মানহীনতা:
একজন শিক্ষক জাতি গঠনের কারিগর হলেও, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বারবার অবহেলার শিকার। সরকারি শিক্ষকদের মতো সুযোগ-সুবিধা, পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ, পেনশন, উৎসব ভাতা এরা পান না বা অনেক সীমিত পর্যায়ে পান।তাই এখন সময় এসেছে বৈষম্য দূর করার। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শিক্ষকদের যে মর্যাদা দেওয়া হয় বাংলাদেশের শিক্ষক কি সে মর্যাদা পেয়ে থাকেন? আর না পেলে কেন পায় না এটা নিয়ে কি সরকারের কাজ করার সময় আসে নি? আমাদের দাবি সরকার শিক্ষকদের ন্যয্য মর্যাদা প্রদান করবেন।
৮. কো-কারিকুলার ও ফলাফলে অগ্রণী ভূমিকা:
বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও একাডেমিক ফলাফলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবদান তুলনাহীন, তারপরও তাদের অবহেলা করা হয় নীতিগতভাবেই।সার্বিক ভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাল ফলাফলা করে।
শিক্ষক সমাবেশের গুরুত্ব:
১৩ আগস্টের এই শিক্ষক সমাবেশ হবে একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ।
অন্তনর্তীকালীন সরকারের সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ শিক্ষকদের বৈষম্যর বিষয় গুলো বুঝতে পেরে তা থেকে মুক্তি জন্য কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন তার মধ্যে তিনি উৎসব ভাতা ২৫% বৃদ্ধি করেছেন এবং বর্তমান বাজেট থেকে ১০০% উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, শান্তি বিনোদন ভাতা বৃদ্ধি করবেন বলে প্রতিশুতিবদ্ধ হন কিন্তু কোন অদৃশ্য কারণে শিক্ষা মন্ত্রাণালয় যুক্তিক দাবি এবং সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা বর্তমান পরিকল্পনা উপদেষ্টা মহোদয়ের কথার বাস্তবায়ন হচ্ছে না!
আগামী সমাবেশে-শিক্ষক নেতৃবৃন্দ সরকারের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি পেশ করবেন—আশা করছি:-
- বেতন স্কেল পুনর্বিন্যাস করে সরকারি শিক্ষকদের সমান মর্যাদা।
- বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও বিনোদন ভাতা বৃদ্ধি।
- বদলি নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।
- ম্যানেজিং কমিটির আধুনিকায়ন ও নিরপেক্ষীকরণ।
- শিক্ষকদের জন্য পেনশন ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী।
- উপজেলা মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার হিসাবে যোগ্য মেধাবী এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের নিয়োগ প্রদান।
- সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের এমএড স্কেল প্রদান।
- এমফিল এবং ডক্টরেট ডিগ্রির জন্য স্ববেতনে ইচ্ছুক শিক্ষকদের ছুটি প্রদান।
একটা জাতির মেরুদণ্ড হল শিক্ষা আর শিক্ষার মেরুদণ্ড হল শিক্ষক,শিক্ষক জাতির আলোকবর্তিকা। তারা যদি বঞ্চিত থাকেন, তাহলে সেই জাতির উন্নয়ন টেকসই হবে না। ১৩ আগস্টের শিক্ষক সমাবেশ হবে শুধু একটি দাবি আদায়ের দিন নয়, এটি হবে শিক্ষক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের এক নতুন সূচনা।
এই সমাবেশে সকল শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণই পারে এই ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের পথ সুগম করতে। সমস্কেল সমান শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কেন সরকারি এবং এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্য থাকবে?
শিক্ষকদের সম্মান ফিরিয়ে আনুন, শিক্ষার মান নিশ্চিত করুন, মানসম্মত শিক্ষা একটা জাতি উন্নয়নে মুল হাতিয়ার তাই শিক্ষা এবং শিক্ষকদের অবহেলা নয় দিতে হবে গুরুত্ব।
লেখক
এমদাদুল হক মিলন
সহকারি শিক্ষক( ইংরেজি)
সোনাপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়,
দোয়ারাবাজার, সুনামগঞ্জ।
মোবা:- ০১৭৯৪৩৩১৯১৯
প্রধান সমন্বয়ক
এমপিও ভুক্ত শিক্ষক পরিষদ
সুনামগঞ্জ জেলা।
শ্রেষ্ঠ শিক্ষক -সুনামগঞ্জ জেলা।
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ -২০২৪।
আইন উপদেষ্টা: অ্যাডভোকেট ফাতিমা আক্তার (ডে. এ. জে) ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, এবং আইনী সহকারী সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট। আইন উপদেষ্টা: এ্যাড.মো. রুবেল আল মামুন। (পাবলিক প্রসিকিউটর।) বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নং-১৯, ঢাকা। উপদেষ্টা: আলহাজ্ব এম.এ বারেক, সম্পাদক: মোঃ সাইফুল ইসলাম, প্রকাশক: ফকির আমির হোসেন, বার্তা সম্পাদক: আব্দুর রহিম। :: বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১০৭ মতিঝিল বা/এ (খান ম্যানশন) লিফট ৮ তলা ঢাকা ১০০০। মোবাঃ ০১৬২৫৫৫৫০১২ ই-মেইল bikalbarta@gmail.com Copyright @ চাঁদনী মিডিয়া গ্রুপ
The Daily BikalBarta - National Newspaper of Bangladesh