এফ,এম,এ রাজ্জাক, খুলনা জেলা প্রতিনিধি :- শীতের শুরুতেই খুলনার পাইকগাছায় নদী ও বিল অঞ্চলে অসংখ্য অতিথি পাখি আসতে শুরু করেছে। পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠছে চারপাশ। কিন্তু একশ্রেণির শৌখিন ও পেশাদার শিকারি অবাধে পাখি শিকার শুরু করেছে।
১২ নভেম্বর দুপুরে পাইকগাছার সকল ইউনিয়নের মহল্লায় এবং একই দিন বিকেলে মধ্য চাঁদখালী দুই ব্যক্তিকে পাখি বিক্রির জন্য ঘুরতে দেখা যায়। তাঁদের হাতে দুটি সারস ও দুটি করে বালিহাঁস ছিল।
চাঁদখালীতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যক্তি জানায়, বাজারে তাদের নির্দিষ্ট পাখির ক্রেতা রয়েছে। প্রতি জোড়া সারস দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা, সাদা বক ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ও বালিহাঁস ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এ ছাড়া ছোট আকৃতির বিভিন্ন পাখি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় জোড়া পাওয়া যায়। সে ভোরে নদীর চর ও খাল বিল থেকে তিনটি সারস, আটটি বালিহাঁস ও সাতটি বক ধরে। তার মতো আরও অনেকেই পাখি ধরছে। পাখি শিকারে বেশি লাভ হওয়ায় অনেকেই মাছধরা বাদ দিয়ে পাখি শিকার শুরু করেছে। এ বিষয়ে এ্যাডঃ জি, এ সবুর বলেন, এখন প্রায়ই শহরে অতিথি পাখি ফেরি করে বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। খাঁচা ও বস্তায় করে পাখি এনে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু কখনো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
২০১২ সালের বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক লাখ টাকা জরিমানা, এক বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড। একই অপরাধ পুনরায় করলে দুই লাখ টাকা জরিমানা, দুই বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
পরিবেশ কর্মী সঞ্চয় ঢালী বলেন, পাখিরা শোভাবর্ধনের পাশাপাশি প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে। ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকার করে। কিন্তু পাখি নিধন বন্ধে আইন থাকলেও তা ঠিকমতো প্রয়োগ করা হয় না। স্থানীয় প্রশাসনের সামনেই অনেক সময় ফেরি করে পাখি বিক্রি করতে দেখা যায়। কিন্তু কেউ তাদের কিছু বলে না। ফলে দেশ থেকে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন বলেন, ‘পাইকগাছার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও মহল্যায় সদর থেকে আমাদের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অভিযান চালাতে হয়। লোকবলসংকটের কারণে অনেক সময় সব এলাকার খবর রাখা সম্ভব হয় না। স্থানীয় প্রশাসন একটু সজাগ থাকলে পাখি নিধন অনেকাংশে কমানো সম্ভব।’
গত শনিবার বিকেলে পাইকগাছা উপজেলার শিবসা নদীর তিরে ওয়াবদায় যেয়ে দেখা যায়, পানি কমে যাওয়ায় নদীর মাঝে জেগে উঠেছে বড় বড় চর। ফাঁকা চরে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে বক, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, গাঙচিলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। তারা নদীর পাড়ের অল্প পানি থেকে মাছ ধরে উড়ে গিয়ে বসছে চরে। নদী এলাকার আট-দশজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যত দিন নদীতে ও ধান খেতে পাখি থাকে, তত দিনই শিকারিরা তাদের তাড়া করে বেড়ায়। কিন্তু কখনো শিকারিদের থামানোর জন্য কাউকে দেখা যায়নি। লস্কর, সোলাদানা, গড়ইখালী, চাঁদখালী, গদাইপুর, ইউনিয়নের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায়।
এসব এলাকার লোকজন জানান, শীতে কালে মাছ ধরার শেষ মৌসুম ও ধানের মৌসুমে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও অথিতি পাখির আনাগোনা খুব বেড়ে যায়। ফলে শীতের শুরুতেই এসব এলাকায় শিকারিদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এবারও শীতের শুরুতে পাখি আসতে শুরু করেছে। অন্যদিকে শিকারির সংখ্যা বাড়ছে। তবে বিল অঞ্চলে পাখি নিধন বন্ধে কখনো প্রশাসনের কাউকে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
আইন উপদেষ্টা: অ্যাডভোকেট ফাতিমা আক্তার (ডে. এ. জে) ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, এবং আইনী সহকারী সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট। আইন উপদেষ্টা: এ্যাড.মো. রুবেল আল মামুন। (পাবলিক প্রসিকিউটর।) বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নং-১৯, ঢাকা। উপদেষ্টা: আলহাজ্ব এম.এ বারেক, সম্পাদক: মোঃ সাইফুল ইসলাম, প্রকাশক: ফকির আমির হোসেন, বার্তা সম্পাদক: আব্দুর রহিম। :: বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১০৭ মতিঝিল বা/এ (খান ম্যানশন) লিফট ৮ তলা ঢাকা ১০০০। মোবাঃ ০১৬২৫৫৫৫০১২ ই-মেইল bikalbarta@gmail.com Copyright @ চাঁদনী মিডিয়া গ্রুপ
The Daily BikalBarta - National Newspaper of Bangladesh