বাংলাদেশের মানুষ নতুন সরকারের প্রতি আশাবাদী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। গণতন্ত্র, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েই এই সরকারের যাত্রা। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই যদি মন্ত্রীপরিষদের কিছু সদস্যের বক্তব্য ও আচরণ বিতর্ক তৈরি করে, তবে তা কেবল ব্যক্তি নয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তিতেও প্রভাব ফেলে। তাই এখনই প্রয়োজন কঠোর বার্তা, শৃঙ্খলার স্পষ্ট নির্দেশনা এবং রাজনৈতিক সংযম।
চাঁদাবাজির বৈধতা নয়, নির্মূল চাই?
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির অভিযোগ পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি একসময় শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছেছিল। পতিত স্বৈরাচারের আমলে মালিক-শ্রমিক-প্রশাসনের কিছু অসাধু চক্র এই অপসংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। এখন যদি নতুন সরকারের কোনো মন্ত্রীর বক্তব্যে বা অবস্থানে সেই পুরনো চক্রের প্রতি নমনীয়তার আভাস পাওয়া যায়, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
চাঁদাবাজি কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয় নয় এটি সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ। এই অপরাধকে দলীয় আনুগত্য বা রাজনৈতিক সুরক্ষা দিয়ে ঢাকার চেষ্টা মানে রাষ্ট্রীয় নৈতিকতার অবক্ষয়কে প্রশ্রয় দেওয়া।
‘দল থেকে চলে যান’ বক্তব্যের অন্তর্নিহিত বার্তা?
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চাঁদাবাজদের উদ্দেশে দল ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বক্তব্যের তাৎপর্য ইতিবাচক হলেও প্রশ্ন উঠেছে এতে কি দলীয় কাঠামোর ভেতরে চাঁদাবাজির অস্তিত্ব স্বীকার করা হলো? যদি সত্যিই কেউ দলের নাম ভাঙিয়ে অপরাধ করে, তবে তার স্থান দল নয়,আইনের কাঠগড়ায়।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো-অনেকে অভিযোগ করছেন, কিছু চাঁদাবাজ, এমপি-মন্ত্রীদের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে অপকর্ম চালাচ্ছে। যদি এমন হয়ে থাকে, তবে আগে “ঘর সামলানো” জরুরি। আত্মীয়-স্বজন বা আশপাশের প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
কর্মী বনাম চাঁদাবাজ-বিভ্রান্তির অবসান চাই?
দলের তৃণমূল কর্মীরা দীর্ঘদিন নির্যাতন, মামলা ও দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন- এ বাস্তবতা অস্বীকারের সুযোগ নেই। তারা ভোটের মাঠে শ্রম দিয়েছেন, কারাবরণ করেছেন, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেছেন। তাদেরকে এককথায় ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যা দেওয়া অন্যায় ও মনোবল ভাঙার শামিল।
তবে এটিও সত্য, কেউ যদি দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করে, তবে সে কর্মী নয়; সে অপরাধী। কর্মীদের মর্যাদা রক্ষার জন্যই অপরাধীদের আলাদা করা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ও বক্তব্যের নিয়ন্ত্রণ?
সরকারের শুরুতেই কিছু মন্ত্রীর টালমাটাল ও উসকানিমূলক বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। কেউ কেউ নিজের দপ্তরের বাইরে গিয়ে ‘জিহাদ’ ঘোষণার ভাষা ব্যবহার করছেন যা প্রশাসনিক দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মন্ত্রীরা রাজনৈতিক মঞ্চে নন; তারা রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা উচিত
*মন্ত্রীরা দপ্তর-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মুখপাত্রের মাধ্যমে বক্তব্য দেবেন।
*অপ্রয়োজনীয় মিডিয়া উপস্থিতি এড়িয়ে চলবেন।
*নীতিগত অবস্থান ছাড়া ব্যক্তিগত মন্তব্য থেকে বিরত থাকবেন।
একটি সমন্বিত যোগাযোগ কৌশল না থাকলে সরকারের বার্তা বিভক্ত হবে, আর সেই ফাঁক গলে অপপ্রচার প্রবেশ করবে।
ভাতা ও কাঠামোগত সমাধান - বাস্তবতা বনাম আবেগ?
কর্মীদের জন্য ভাতা বা আইডি কার্ডের প্রস্তাব এসেছে। এটি রাজনৈতিকভাবে আকর্ষণীয় শোনালেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, যোগ্যতার মানদণ্ড ও জবাবদিহি নিশ্চিত না করলে নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে সংগঠিত, প্রশিক্ষিত ও নিবন্ধিত কর্মী কাঠামো গড়ে তোলা সময়ের দাবি-যাতে দলীয় পরিচয় অপব্যবহার কঠিন হয়।
এখনই সিদ্ধান্তের সময়?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জনগণ আপনাকে আশা ও আস্থার প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করেছে। কিন্তু ইতিহাস বলে- আওয়ামী লীগ সরকারের পতন শুরু হয় ভেতরের বিশৃঙ্খলা থেকে। কয়েকজন মন্ত্রীর বেফাঁস বক্তব্য, ঘনিষ্ঠজনদের অপকর্ম বা চাঁদাবাজির প্রতি নমনীয়তা যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনা হয়, তবে বিরোধীরা সুযোগ নেবে এবং জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এখন প্রয়োজন?
*জিরো টলারেন্স নীতি
*দলীয় ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা
*ঘনিষ্ঠজনদের ওপর কঠোর নজরদারি
*একক ও সমন্বিত সরকারি বার্তা
দল বাঁচলে দেশ বাঁচবে, এ কথা যেমন সত্য, তেমনি দেশ বাঁচাতে হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। কর্মীদের সম্মান দিন, অপরাধীদের শাস্তি দিন, আর মন্ত্রীদের লাগাম টানুন,এটাই আজকের সময়ের দাবি।
নিরপেক্ষ লেখক:
মোঃ সাইফুল ইসলাম
চেয়ারম্যান
জার্নালিস্ট নিউজ সোসাইটি (JNS)
আইন উপদেষ্টা: অ্যাডভোকেট ফাতিমা আক্তার (ডে. এ. জে) ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, এবং আইনী সহকারী সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট। আইন উপদেষ্টা: এ্যাড.মো. রুবেল আল মামুন। (পাবলিক প্রসিকিউটর।) বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নং-১৯, ঢাকা। উপদেষ্টা: আলহাজ্ব এম.এ বারেক, সম্পাদক: মোঃ সাইফুল ইসলাম, প্রকাশক: ফকির আমির হোসেন, বার্তা সম্পাদক: আব্দুর রহিম। :: বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১০৭ মতিঝিল বা/এ (খান ম্যানশন) লিফট ৮ তলা ঢাকা ১০০০। মোবাঃ ০১৬২৫৫৫৫০১২ ই-মেইল bikalbarta@gmail.com Copyright @ চাঁদনী মিডিয়া গ্রুপ
The Daily BikalBarta - National Newspaper of Bangladesh