**একুশে টিভি ও দৈনিক জনকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধির কার্যালয়ে চাঁদা দাবি, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি।
মো:শুকুর আলী, স্টাফ রিপোর্টারঃ সুনামগঞ্জে দায়িত্বশীল ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কার্যক্রমে গুরুতর বাধা সৃষ্টি এবং ফৌজদারি অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ উঠেছে। জেলা শহরের পৌর বিপনী মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত একুশে টেলিভিশন ও দৈনিক জনকণ্ঠ–এর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক আব্দুস সালামের অফিসে সশস্ত্রভাবে প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর, চাঁদা দাবি, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনাটি শুক্রবার বিকেলে সংঘটিত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ছাতক উপজেলার শক্তিয়ারগাও গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী সংঘবদ্ধভাবে পরিকল্পিতভাবে ওই কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তারা বেআইনিভাবে অনধিকার প্রবেশ করে সাংবাদিকের কাজে বাধা প্রদান করে এবং প্রকাশ্যে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আব্দুস সালাম জানান, সম্প্রতি তার প্রকাশিত একটি সংবাদে অভিযুক্ত ইসলাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বার্থবিরোধী তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধমূলক উদ্দেশ্যে এই হামলা চালান। অভিযুক্তরা দাবি করে, উক্ত সংবাদে তাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে—এই অজুহাতে তারা জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালায়।
হামলার সময় অভিযুক্তরা অফিসের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি সাধন করে এবং দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে অফিসে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে রাখে। একই সঙ্গে সাংবাদিকের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যা ফৌজদারি অপরাধের শামিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় প্রকাশ্যে হুমকি দেয় যে—দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ না করা হলে ভবিষ্যতে আরও মারাত্মক হামলা এবং প্রাণনাশের ঘটনা ঘটানো হবে। এই হুমকি সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং পেশাগত স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, এটি কেবল একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা নয়; বরং এটি সংবিধান স্বীকৃত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীন কার্যক্রমের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ। তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত ইসলাম উদ্দিন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের আশ্বাস প্রদান করেছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো আসামি আটক হয়নি।
আইন সচেতন মহলের মতে, উক্ত ঘটনায় দণ্ডবিধি অনুযায়ী চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকি—সংক্রান্ত একাধিক ধারায় মামলা গ্রহণযোগ্য।
আইন উপদেষ্টা: অ্যাডভোকেট ফাতিমা আক্তার (ডে. এ. জে) ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, এবং আইনী সহকারী সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট। আইন উপদেষ্টা: এ্যাড.মো. রুবেল আল মামুন। (পাবলিক প্রসিকিউটর।) বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নং-১৯, ঢাকা। উপদেষ্টা: আলহাজ্ব এম.এ বারেক, সম্পাদক: মোঃ সাইফুল ইসলাম, প্রকাশক: ফকির আমির হোসেন, বার্তা সম্পাদক: আব্দুর রহিম। :: বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১০৭ মতিঝিল বা/এ (খান ম্যানশন) লিফট ৮ তলা ঢাকা ১০০০। মোবাঃ ০১৬২৫৫৫৫০১২ ই-মেইল bikalbarta@gmail.com Copyright @ চাঁদনী মিডিয়া গ্রুপ
The Daily BikalBarta - National Newspaper of Bangladesh