শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজী: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রেলওয়ে স্টেশন দীর্ঘদিন যাবৎ টিকেট কালোবাজারিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। টিকেট কালোবাজারিরা রেলওয়ে স্টেশনকে একপ্রকার বাণিজ্যিক কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তরিত করেছে। অনেকে টিকিট কালোবাজারিদের বিষয়টিকে স্বাভাবিকীকরণ করার অপচেষ্টা করেন কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আপনারা হয়তো মনে করেন লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা নেই, অতিরিক্ত ২০০-৩০০ টাকা দিলেই টিকেট পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি এত সহজ নয়। টিকেট আপনার মৌলিক নাগরিক অধিকার। এই টিকেটগুলো কালোবাজারিরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে নিজেদের দখলে নিয়ে যাচ্ছে এবং পরবর্তীতে দ্বিগুণ, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে তিনগুণ মূল্যে বিক্রয় করছে।
বিস্ময়কর হলেও সত্য এত বড় অপরাধের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ না করে অনেকে নির্বিকারভাবে এই অনিয়মকে মেনে নিচ্ছেন। অথচ, তারা যদি এই টিকেটগুলো অবৈধভাবে আটকে না রাখত, তাহলে আপনার টিকেট আপনি যথাসময়ে পেতেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর প্রয়োজন হতো না।
আন্তঃনগর ট্রেনসমূহ এখন সম্পূর্ণরূপে অনলাইনভিত্তিক। টিকেট ছাড়ার সাথে সাথেই এই চক্রটি সংঘবদ্ধভাবে অধিকাংশ টিকেট ক্রয় করে ফেলে। অতঃপর যাত্রার দিন বা তার পূর্বমুহূর্তে স্টেশন, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা নির্দিষ্ট এলাকায় এসব টিকেট উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হয়।
তিতাস ও কমিউটার ট্রেনের টিকেটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কালোবাজারিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এতে সংশ্লিষ্ট কাউন্টারের কিছু অসাধু কর্মচারীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা থাকা অস্বীকার করার উপায় নেই। যে টিকেট দীর্ঘ ২-৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও দুইটি সংগ্রহ করা দুরূহ, সেই টিকেটই কিভাবে ৫০-৬০টি কালোবাজারিদের হাতে পৌঁছে যায়এ প্রশ্ন আজ রেখে গেলাম।
টিকেট ব্ল্যাকাররা রেলওয়ে স্টেশনের পরিচিত মুখ তাদের আবাসস্থলও স্টেশন সংলগ্ন এলাকায়। তারা স্বল্প অর্থের বিনিময়ে টিকেট বিক্রি করলেও তাদের পশ্চাতে রয়েছে প্রভাবশালী গডফাদার চক্র, যারা তাদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে এবং আড়ালে থেকে এই বিশাল অবৈধ বাণিজ্য পরিচালনা করে। জাতির স্বার্থে এই আড়ালবাসী নেপথ্য নায়কদের উন্মোচন করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় বর্তমানে বিপুল সংখ্যক টিকেট জাল, ভুয়া বা প্রযুক্তিগতভাবে (এডিটকৃত)। একটি টিকেট একাধিক ব্যক্তির নিকট বিক্রয়ের মতো প্রতারণামূলক কার্যক্রমও সংঘটিত হচ্ছে। ফলে যাত্রীরা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন ট্রেনে উঠে সিট পাচ্ছেন না, রেলওয়ে টিটির নিকট জরিমানা গুনতে হচ্ছে, এমনকি পুনরায় জরিমানার শিকার হচ্ছেন। এ যেন এক অন্তহীন ভোগান্তির চক্র।এক্ষেত্রে শুধুমাত্র কালোবাজারিদের দোষারোপ করলেই দায় শেষ হয় না দায়ভার সেইসব যাত্রীদেরও, যারা যাচাই-বাছাই ব্যতিরেকে কালোবাজারিদের ওপর আস্থা স্থাপন করে টিকেট ক্রয় করছেন।
অধিকাংশ কালোবাজারি বিপুল অর্থ উপার্জন করে তা মাদকাসক্তি ও জুয়ায় অপচয় করছে। তাদের আয়ের কোনো স্থায়িত্ব নেই তারা এক অশান্ত, অনিশ্চিত জীবনযাপন করছে। মহান আল্লাহ তাদেরকে হেদায়েত দান করুন তাদের জন্য রইল দোয়া।
আমরা যদি সচেতন না হই, যদি তাদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট না করি, তবে এই দুর্যোগ অচিরেই সর্বস্তরে বিস্তার লাভ করবে। সর্বোপরি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যাত্রীসংখ্যার তুলনায় টিকেটের সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল। পর্যাপ্ত যাত্রী থাকা সত্ত্বেও সিটসংকট ও ট্রেনসংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।
রাজস্ব আয়ের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই রেলস্টেশনে একটি কমিউটার ট্রেন চালু করা, সকল আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা এবং সিটসংখ্যা বৃদ্ধি করা সময়ের অনিবার্য দাবি। আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এই দাবিসমূহ উত্থাপন করে আসছি।
-মুখপাত্র
ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আইন উপদেষ্টা: অ্যাডভোকেট ফাতিমা আক্তার (ডে. এ. জে) ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, এবং আইনী সহকারী সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট। আইন উপদেষ্টা: এ্যাড.মো. রুবেল আল মামুন। (পাবলিক প্রসিকিউটর।) বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নং-১৯, ঢাকা। উপদেষ্টা: আলহাজ্ব এম.এ বারেক, সম্পাদক: মোঃ সাইফুল ইসলাম, প্রকাশক: ফকির আমির হোসেন, বার্তা সম্পাদক: আব্দুর রহিম। :: বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১০৭ মতিঝিল বা/এ (খান ম্যানশন) লিফট ৮ তলা ঢাকা ১০০০। মোবাঃ ০১৬২৫৫৫৫০১২ ই-মেইল bikalbarta@gmail.com Copyright @ চাঁদনী মিডিয়া গ্রুপ
The Daily BikalBarta - National Newspaper of Bangladesh