স্টাফ রিপোর্টার: ভোলা সদর উপজেলার ১০নং ভেলুমিয়া ইউনিয়নে জি এম রাশেদকে ঘিরে এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে একটাই প্রশ্ন তিনি আসলে কে? জুলাই যোদ্ধা, নাকি সাংবাদিক, নাকি ভেলুমিয়া ইউনিয়ন যুবদলের কোনো বড় নেতা?
নিজ এলাকায় অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে বড় বড় বক্তব্য দেওয়া রাশেদকে নিয়েই এবার উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। বরিশালের বাকেরগঞ্জে ট্রলার চুরির অভিযোগে জনতার হাতে আটক হওয়ার ঘটনা সামনে আসার পর তার কথিত প্রতিবাদী ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
ভেলুমিয়াবাসী জানতে চাচ্ছেন, নিজ এলাকায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, আর বাইরে গিয়ে নিজের বিরুদ্ধেই যখন চুরির অভিযোগ তাহলে প্রতিবাদের সেই নৈতিক অবস্থান কোথায়?
সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। ‘দৈনিক দেশ প্রতিদিন’ নাম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তার পরিচয় নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয়দের জোরালো দাবি, এক ব্যক্তির এত পরিচয় কেন? কখনো জুলাই যোদ্ধা, কখনো সাংবাদিক, আবার কখনো যুবদল নেতা রাশেদের আসল পরিচয় কী?
অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা সহজ; কিন্তু নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মুখোমুখি হয়ে স্বচ্ছ জবাব দেওয়া কঠিন। তাই এখন ভেলুমিয়ার জনগণ জানতে চায় অন্যের অন্যায় খুঁজে বেড়ানোর আগে নিজের কর্মকাণ্ডের হিসাব কি রাশেদ প্রকাশ্যে দেবেন?
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার এবং রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরিচয়ের পক্ষে রাশেদের কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য রয়েছে কি না, সেটিও জানতে চাইছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে তার পরিচয়ের দাবির ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
স্থানীয়দের আরও দাবি, কোনো ব্যক্তি সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা কিংবা কোনো আন্দোলনের যোদ্ধা যে পরিচয়ই বহন করুন না কেন, সেই পরিচয়ের যথাযথ প্রমাণ ও স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে, তার বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে আসা প্রয়োজন।
বাকেরগঞ্জের ট্রলার চুরির অভিযোগের ঘটনার সত্যতা তদন্তেই নির্ধারিত হবে। তবে ঘটনাটি সামনে আসার পর রাশেদের কথিত বহুমুখী পরিচয় ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি না করে, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যই প্রকৃত সত্য উদঘাটনের পথ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জনগণের দাবি পরিচয়ের আড়ালে নয়, প্রমাণ ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে রাশেদকে তার প্রকৃত পরিচয় পরিষ্কার করতে হবে। একই সঙ্গে বাকেরগঞ্জের ঘটনার বিষয়ে তার নিজের বক্তব্যও প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার নৈতিক অবস্থান তখনই শক্তিশালী হয়, যখন নিজের বিরুদ্ধেও ওঠা অভিযোগের বিষয়ে স্বচ্ছভাবে জবাব দেওয়া হয়। তাই ভেলুমিয়ার মানুষের প্রশ্ন এখন একটাই—রাশেদের পরিচয় আসলে কোনটি এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য কী?
জুলাই যোদ্ধা? সাংবাদিক? নাকি ভেলুমিয়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা—জনগণ এখন রাশেদের কাছেই জানতে চায়।
আইন উপদেষ্টা: অ্যাডভোকেট ফাতিমা আক্তার (ডে. এ. জে) ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, এবং আইনী সহকারী সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট। আইন উপদেষ্টা: এ্যাড.মো. রুবেল আল মামুন। (পাবলিক প্রসিকিউটর।) বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নং-১৯, ঢাকা। উপদেষ্টা: আলহাজ্ব এম.এ বারেক, সম্পাদক: মোঃ সাইফুল ইসলাম, প্রকাশক: ফকির আমির হোসেন, বার্তা সম্পাদক: আব্দুর রহিম। :: বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১০৭ মতিঝিল বা/এ (খান ম্যানশন) লিফট ৮ তলা ঢাকা ১০০০। মোবাঃ ০১৬২৫৫৫৫০১২ ই-মেইল bikalbarta@gmail.com Copyright @ চাঁদনী মিডিয়া গ্রুপ
The Daily BikalBarta - National Newspaper of Bangladesh