
অনিক ইসলাম প্রতিবেদক, ঢাকা: ফুটবল মানেই এক অন্যরকম আবেগ, আর সেই আবেগ যদি হয় পুরান ঢাকার অলিতে-গলিতে, তবে তার রঙ যেন আরও খোলতাই হয়ে ওঠে। চিরচেনা সেই ফুটবল উন্মাদনার এক অনন্য রূপ দেখা গেল পুরান ঢাকার সূত্রাপুর এলাকার ডাল পট্টিতে। আর্জেন্টিনা বনাম মিশরের মধ্যকার রোমাঞ্চকর ম্যাচটিকে ঘিরে পুরো এলাকা রূপ নিয়েছিল এক উৎসবের নগরীতে।
স্থানটি মূলত বাণিজ্যিক ব্যস্ততার জন্য পরিচিত হলেও, খেলাকে কেন্দ্র করে গতকাল রাতে সেটি যেন ফুটবল ভক্তদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। স্থানীয় এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে সেখানে আয়োজন করা হয় এক বিশাল প্রজেক্টরের, যেখানে বড়পর্দায় লাইভ দেখানো হয় আর্জেন্টিনা ও মিশরের সেই হাইভোল্টেজ ম্যাচ।
এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ ও উৎসবমুখর পরিবেশ
সূত্রাপুরের ডাল পট্টির স্থানীয় তরুণ ও মুরব্বিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই বড়পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হয়। খেলা শুরুর বেশ আগে থেকেই বড় পর্দার সামনে জড়ো হতে শুরু করেন ফুটবলপ্রেমীরা। শুধু সূত্রাপুরই নয়, আশেপাশের বিভিন্ন গলি ও এলাকা থেকেও শত শত মানুষ ছুটে আসেন এই যৌথ উন্মাদনার অংশ হতে।
খেলা চলাকালীন সময়ে পুরো এলাকায় এক অভূতপূর্ব পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আর্জেন্টিনার প্রতিটি আক্রমণ, ডিফেন্স আর আক্রমণভাগের নৈপুণ্যে দর্শকদের উল্লাস এবং করতালি যেন পুরো ডাল পট্টি এলাকাকে কাঁপিয়ে তুলছিল। তরুণদের পাশাপাশি প্রবীণ এবং শিশু-কিশোরদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
ঐতিহ্যের পুরান ঢাকা ও ফুটবল প্রেম
পুরান ঢাকার মানুষ বরাবরই ক্রীড়ামোদী, বিশেষ করে ফুটবলের প্রতি তাদের টান ঐতিহাসিক। বড়পর্দায় একসঙ্গে খেলা দেখার এই আয়োজনটি কেবল একটি ম্যাচ উপভোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি যেন হয়ে উঠেছিল পাড়ার মানুষের মধ্যকার পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও মেলবন্ধনের এক দারুণ মাধ্যম। খেলা শেষেও চলে আর্জেন্টিনা ও ফুটবলের নানা খুঁটিনাটি নিয়ে চায়ের কাপে জমজমাট আড্ডা।
আয়োজকদের একজন জানান, “আমরা চেয়েছিলাম সবাই মিলে যেন একসঙ্গে আনন্দ করতে পারি। পুরান ঢাকার এই ঐতিহ্য আমরা ধরে রাখতে চাই। সবার এই উপস্থিতি এবং আনন্দই আমাদের এই উদ্যোগকে সফল করেছে।”
ক্রীড়া উদ্দীপনার এমন চমৎকার দৃশ্য প্রমাণ করে, মাঠের দূরত্ব যতই হোক না কেন, ফুটবলের জাদু বাঙালিকে এক সুতোয় বেঁধে রাখতে সবসময়ই অনন্য।
Reporter Name 









