বাংলাদেশ ০১:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরায় সোনালী আঁশ পাটের বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে হাসি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০ Time View

এস এম পলাশ সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :সাতক্ষীরার মাঠে ঘাটে বাতাসে বাতাসে দুলছে সবুজ রংয়ের পাটের পাতা। রোদের আলোয় যেন খেলা করছে উপকূলীয় কৃষকের স্বপ্ন। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং বড় ধরনের কোনো ক্ষতির সম্মুখীন না হওয়ায় সাতক্ষীরায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। রোগ-বালাইয়ের প্রাদুর্ভাব কম থাকায় এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের সঠিক দিকনির্দেশনায় এবার কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনের আশা করছেন স্থানীয় পাটচাষীরা।

​কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার ৭টি উপজেলায় ১১ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। যা থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাজারে পাটের বাজারদর ভালো থাকলে এবার জেলা থেকে উৎপাদিত পাটের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলাজুড়ে মাঠ ঘুরে দেখা যায়, অন্য বছরগুলোতে এ সময়ে পাটে ছত্রাকজনিত গোড়া পঁচা রোগ, পাতা শুকিয়ে ঝরে পড়া কিংবা বিছা পোকার উপদ্রব দেখা গেলেও এবার তা একেবারেই কম। সময়মতো বৃষ্টিপাত এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সঠিক পরামর্শে গাছে রোগবালাই থেকে অনেকটাই মুক্ত।

​সাতক্ষীরা সদর উপজেলার একজন কৃষক বলেন, “আগে পাটের নানা রোগে ওষুধ দিতে লাভের অনেকটাই খরচ হয়ে যেত। এবার আলহামদুলিল্লাহ আবাদ খুব ভালো হয়েছে। এক বিঘা জমিতে পাট আবাদ করতে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা খরচ হয়। আবহাওয়া এমন ভালো থাকলে আর বাজারে পাটের ভালো দাম পেলে প্রতি বিঘার পাট ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা যাবে।”

​সাতক্ষীরায়

আবাদের শুরু থেকেই কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরামর্শ পেয়েছি। কখন কোন ওষুধ দিতে হবে, কীভাবে পরিচর্যা করতে হবে সব বিষয়ে ঋষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা পেয়েছি। ফলে এবার ক্ষেতে রোগবালাই কম হয়েছে, গাছও বেশ শক্ত-পুষ্ট হয়েছে।

​পাট চাষিরা আরো জানান, ভালো ফলনের পাশাপাশি আবাদের শুরুতেই সরকারের দেওয়া প্রণোদনা বীজ ও সার সময়মতো হাতে পাওয়ায় চাষের খরচ অনেক কমে এসেছে। ফলে এবার লাভের মুখ দেখার ব্যাপারে তারা বেশ আশাবাদী।

​এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ জামাল উদ্দিন জানান, সাতক্ষীরার ৭টি উপজেলার মাঠ পর্যায়ে আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাটের আবাদ শুরুর প্রথম দিন থেকেই গাছ কীভাবে নিরোগ ও সতেজ রাখা যায়, সে বিষয়ে কৃষকদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার ঘোষিত পাট চাষীদের প্রণোদনা কর্মসূচি আমরা শতভাগ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছি। কৃষি বিভাগের সার্বক্ষণিক তদারকি এবং কৃষকদের পরিশ্রমে এবার জেলায় পাটের রোগবালাই অনেক কম। আশা করছি লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ভালো ফলন হবে এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য পেয়ে আমাদের কৃষকরা আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হবেন।

​বর্তমানে জেলার বিভিন্ন জায়গায় পাট কাটা, পচানো ও আঁশ ছাড়ানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। ভালো দাম আর বাম্পার ফলনে সাতক্ষীরার কৃষকের ঘরে ঘরে এখন সোনালী আঁশের নতুন উৎসবের হাওয়া বইছে ।

এস এম পলাশ সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :সাতক্ষীরার মাঠে ঘাটে বাতাসে বাতাসে দুলছে সবুজ রংয়ের পাটের পাতা। রোদের আলোয় যেন খেলা করছে উপকূলীয় কৃষকের স্বপ্ন। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং বড় ধরনের কোনো ক্ষতির সম্মুখীন না হওয়ায় সাতক্ষীরায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। রোগ-বালাইয়ের প্রাদুর্ভাব কম থাকায় এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের সঠিক দিকনির্দেশনায় এবার কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনের আশা করছেন স্থানীয় পাটচাষীরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার ৭টি উপজেলায় ১১ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। যা থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাজারে পাটের বাজারদর ভালো থাকলে এবার জেলা থেকে উৎপাদিত পাটের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলাজুড়ে মাঠ ঘুরে দেখা যায়, অন্য বছরগুলোতে এ সময়ে পাটে ছত্রাকজনিত গোড়া পঁচা রোগ, পাতা শুকিয়ে ঝরে পড়া কিংবা বিছা পোকার উপদ্রব দেখা গেলেও এবার তা একেবারেই কম। সময়মতো বৃষ্টিপাত এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সঠিক পরামর্শে গাছে রোগবালাই থেকে অনেকটাই মুক্ত।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার একজন কৃষক বলেন, “আগে পাটের নানা রোগে ওষুধ দিতে লাভের অনেকটাই খরচ হয়ে যেত। এবার আলহামদুলিল্লাহ আবাদ খুব ভালো হয়েছে। এক বিঘা জমিতে পাট আবাদ করতে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা খরচ হয়। আবহাওয়া এমন ভালো থাকলে আর বাজারে পাটের ভালো দাম পেলে প্রতি বিঘার পাট ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা যাবে।”

সাতক্ষীরায় আবাদের শুরু থেকেই কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরামর্শ পেয়েছি। কখন কোন ওষুধ দিতে হবে, কীভাবে পরিচর্যা করতে হবে সব বিষয়ে ঋষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা পেয়েছি। ফলে এবার ক্ষেতে রোগবালাই কম হয়েছে, গাছও বেশ শক্ত-পুষ্ট হয়েছে।

পাট চাষিরা আরো জানান, ভালো ফলনের পাশাপাশি আবাদের শুরুতেই সরকারের দেওয়া প্রণোদনা বীজ ও সার সময়মতো হাতে পাওয়ায় চাষের খরচ অনেক কমে এসেছে। ফলে এবার লাভের মুখ দেখার ব্যাপারে তারা বেশ আশাবাদী।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ জামাল উদ্দিন জানান, সাতক্ষীরার ৭টি উপজেলার মাঠ পর্যায়ে আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাটের আবাদ শুরুর প্রথম দিন থেকেই গাছ কীভাবে নিরোগ ও সতেজ রাখা যায়, সে বিষয়ে কৃষকদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার ঘোষিত পাট চাষীদের প্রণোদনা কর্মসূচি আমরা শতভাগ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছি। কৃষি বিভাগের সার্বক্ষণিক তদারকি এবং কৃষকদের পরিশ্রমে এবার জেলায় পাটের রোগবালাই অনেক কম। আশা করছি লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ভালো ফলন হবে এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য পেয়ে আমাদের কৃষকরা আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হবেন।

বর্তমানে জেলার বিভিন্ন জায়গায় পাট কাটা, পচানো ও আঁশ ছাড়ানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। ভালো দাম আর বাম্পার ফলনে সাতক্ষীরার কৃষকের ঘরে ঘরে এখন সোনালী আঁশের নতুন উৎসবের হাওয়া বইছে ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post

জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কি গভীর সংকটে? : মোঃ সাইফুল ইসলাম

error: Content is protected !!

সাতক্ষীরায় সোনালী আঁশ পাটের বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে হাসি

Update Time : ০৩:০৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

এস এম পলাশ সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :সাতক্ষীরার মাঠে ঘাটে বাতাসে বাতাসে দুলছে সবুজ রংয়ের পাটের পাতা। রোদের আলোয় যেন খেলা করছে উপকূলীয় কৃষকের স্বপ্ন। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং বড় ধরনের কোনো ক্ষতির সম্মুখীন না হওয়ায় সাতক্ষীরায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। রোগ-বালাইয়ের প্রাদুর্ভাব কম থাকায় এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের সঠিক দিকনির্দেশনায় এবার কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনের আশা করছেন স্থানীয় পাটচাষীরা।

​কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার ৭টি উপজেলায় ১১ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। যা থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাজারে পাটের বাজারদর ভালো থাকলে এবার জেলা থেকে উৎপাদিত পাটের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলাজুড়ে মাঠ ঘুরে দেখা যায়, অন্য বছরগুলোতে এ সময়ে পাটে ছত্রাকজনিত গোড়া পঁচা রোগ, পাতা শুকিয়ে ঝরে পড়া কিংবা বিছা পোকার উপদ্রব দেখা গেলেও এবার তা একেবারেই কম। সময়মতো বৃষ্টিপাত এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সঠিক পরামর্শে গাছে রোগবালাই থেকে অনেকটাই মুক্ত।

​সাতক্ষীরা সদর উপজেলার একজন কৃষক বলেন, “আগে পাটের নানা রোগে ওষুধ দিতে লাভের অনেকটাই খরচ হয়ে যেত। এবার আলহামদুলিল্লাহ আবাদ খুব ভালো হয়েছে। এক বিঘা জমিতে পাট আবাদ করতে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা খরচ হয়। আবহাওয়া এমন ভালো থাকলে আর বাজারে পাটের ভালো দাম পেলে প্রতি বিঘার পাট ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা যাবে।”

​সাতক্ষীরায়

আবাদের শুরু থেকেই কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরামর্শ পেয়েছি। কখন কোন ওষুধ দিতে হবে, কীভাবে পরিচর্যা করতে হবে সব বিষয়ে ঋষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা পেয়েছি। ফলে এবার ক্ষেতে রোগবালাই কম হয়েছে, গাছও বেশ শক্ত-পুষ্ট হয়েছে।

​পাট চাষিরা আরো জানান, ভালো ফলনের পাশাপাশি আবাদের শুরুতেই সরকারের দেওয়া প্রণোদনা বীজ ও সার সময়মতো হাতে পাওয়ায় চাষের খরচ অনেক কমে এসেছে। ফলে এবার লাভের মুখ দেখার ব্যাপারে তারা বেশ আশাবাদী।

​এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ জামাল উদ্দিন জানান, সাতক্ষীরার ৭টি উপজেলার মাঠ পর্যায়ে আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাটের আবাদ শুরুর প্রথম দিন থেকেই গাছ কীভাবে নিরোগ ও সতেজ রাখা যায়, সে বিষয়ে কৃষকদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার ঘোষিত পাট চাষীদের প্রণোদনা কর্মসূচি আমরা শতভাগ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছি। কৃষি বিভাগের সার্বক্ষণিক তদারকি এবং কৃষকদের পরিশ্রমে এবার জেলায় পাটের রোগবালাই অনেক কম। আশা করছি লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ভালো ফলন হবে এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য পেয়ে আমাদের কৃষকরা আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হবেন।

​বর্তমানে জেলার বিভিন্ন জায়গায় পাট কাটা, পচানো ও আঁশ ছাড়ানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। ভালো দাম আর বাম্পার ফলনে সাতক্ষীরার কৃষকের ঘরে ঘরে এখন সোনালী আঁশের নতুন উৎসবের হাওয়া বইছে ।

এস এম পলাশ সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :সাতক্ষীরার মাঠে ঘাটে বাতাসে বাতাসে দুলছে সবুজ রংয়ের পাটের পাতা। রোদের আলোয় যেন খেলা করছে উপকূলীয় কৃষকের স্বপ্ন। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং বড় ধরনের কোনো ক্ষতির সম্মুখীন না হওয়ায় সাতক্ষীরায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। রোগ-বালাইয়ের প্রাদুর্ভাব কম থাকায় এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের সঠিক দিকনির্দেশনায় এবার কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনের আশা করছেন স্থানীয় পাটচাষীরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার ৭টি উপজেলায় ১১ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। যা থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাজারে পাটের বাজারদর ভালো থাকলে এবার জেলা থেকে উৎপাদিত পাটের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলাজুড়ে মাঠ ঘুরে দেখা যায়, অন্য বছরগুলোতে এ সময়ে পাটে ছত্রাকজনিত গোড়া পঁচা রোগ, পাতা শুকিয়ে ঝরে পড়া কিংবা বিছা পোকার উপদ্রব দেখা গেলেও এবার তা একেবারেই কম। সময়মতো বৃষ্টিপাত এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সঠিক পরামর্শে গাছে রোগবালাই থেকে অনেকটাই মুক্ত।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার একজন কৃষক বলেন, “আগে পাটের নানা রোগে ওষুধ দিতে লাভের অনেকটাই খরচ হয়ে যেত। এবার আলহামদুলিল্লাহ আবাদ খুব ভালো হয়েছে। এক বিঘা জমিতে পাট আবাদ করতে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা খরচ হয়। আবহাওয়া এমন ভালো থাকলে আর বাজারে পাটের ভালো দাম পেলে প্রতি বিঘার পাট ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা যাবে।”

সাতক্ষীরায় আবাদের শুরু থেকেই কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরামর্শ পেয়েছি। কখন কোন ওষুধ দিতে হবে, কীভাবে পরিচর্যা করতে হবে সব বিষয়ে ঋষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা পেয়েছি। ফলে এবার ক্ষেতে রোগবালাই কম হয়েছে, গাছও বেশ শক্ত-পুষ্ট হয়েছে।

পাট চাষিরা আরো জানান, ভালো ফলনের পাশাপাশি আবাদের শুরুতেই সরকারের দেওয়া প্রণোদনা বীজ ও সার সময়মতো হাতে পাওয়ায় চাষের খরচ অনেক কমে এসেছে। ফলে এবার লাভের মুখ দেখার ব্যাপারে তারা বেশ আশাবাদী।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ জামাল উদ্দিন জানান, সাতক্ষীরার ৭টি উপজেলার মাঠ পর্যায়ে আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাটের আবাদ শুরুর প্রথম দিন থেকেই গাছ কীভাবে নিরোগ ও সতেজ রাখা যায়, সে বিষয়ে কৃষকদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার ঘোষিত পাট চাষীদের প্রণোদনা কর্মসূচি আমরা শতভাগ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছি। কৃষি বিভাগের সার্বক্ষণিক তদারকি এবং কৃষকদের পরিশ্রমে এবার জেলায় পাটের রোগবালাই অনেক কম। আশা করছি লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ভালো ফলন হবে এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য পেয়ে আমাদের কৃষকরা আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হবেন।

বর্তমানে জেলার বিভিন্ন জায়গায় পাট কাটা, পচানো ও আঁশ ছাড়ানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। ভালো দাম আর বাম্পার ফলনে সাতক্ষীরার কৃষকের ঘরে ঘরে এখন সোনালী আঁশের নতুন উৎসবের হাওয়া বইছে ।