বাংলাদেশ ০১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোনালী ব্যাংকের এস্টেট ডিভিশনের ‘নোটিশ বাণিজ্য’: উচ্ছেদে ব্যর্থতা, রাজস্ব হারাচ্ছে ব্যাংক?

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩৯:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮৭ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক পিএলসির মতিঝিল স্টাফ কোয়ার্টারে অবৈধ দখলদার ও ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এস্টেট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন মাসের পর মাস নামমাত্র নোটিশ জারি করলেও বাস্তবে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না। ফলে ব্যাংকের সম্পত্তি থেকে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে কথিত ‘ভাড়াটিয়া বাণিজ্য’।

অভিযোগকারীদের দাবি, উচ্ছেদের নামে একের পর এক নোটিশ দেওয়া হলেও এর বাস্তব প্রয়োগ না থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি অনেকের কাছে লোকদেখানো কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। এমনকি সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ ভাড়াটিয়াদের আশ্বস্ত করছেন ‘আপনারা থাকেন, নোটিশ দেওয়া আমাদের কাজ।’ অভিযোগটি সত্য হলে, তা কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়; বরং ব্যাংকের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করে।

এ নিয়ে এস্টেট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের ডিজিএম মো. শাহাবীর, এজিএম তৌফিক ইমাম এবং এসপিও রবিউল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের ইঙ্গিতেই কথিতভাবে অবৈধভাবে অবস্থানরত ভাড়াটিয়াদের থাকতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সোনালী ব্যাংকের স্টাফ কোয়ার্টারের সম্পত্তি থেকে রাজস্ব আদায় না হওয়ার দায় নেবে কে?

ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তি বছরের পর বছর অবৈধভাবে দখলে থাকলে একদিকে যেমন প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অন্যদিকে নিয়মিত নোটিশ জারি করেও উচ্ছেদ না করতে পারার পেছনে কারও স্বার্থ জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি।

এদিকে এস্টেট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে নিয়মিত স্বাক্ষর করে অফিসে উপস্থিত না থাকা এবং দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগও উঠেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে যারা ব্যাংকের সম্পত্তি রক্ষা ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেই যদি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠে, তাহলে প্রতিষ্ঠানটির সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা কতটা জবাবদিহিমূলক?

সোনালী ব্যাংকের স্টাফ কোয়ার্টার নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ, নোটিশের পর নোটিশ, কিন্তু কার্যকর উচ্ছেদ নেই এই ধারাবাহিকতা এখন নতুন করে তদন্তের দাবি তুলেছে।

ব্যাংকের সম্পত্তি কি কাগজে-কলমে রক্ষা হচ্ছে, নাকি নোটিশ জারির আড়ালে চলছে ‘ভাড়াটিয়া বাণিজ্য’?

অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন, অবৈধ দখলদারদের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা এবং ব্যাংকের বকেয়া রাজস্ব আদায়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post

জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কি গভীর সংকটে? : মোঃ সাইফুল ইসলাম

error: Content is protected !!

সোনালী ব্যাংকের এস্টেট ডিভিশনের ‘নোটিশ বাণিজ্য’: উচ্ছেদে ব্যর্থতা, রাজস্ব হারাচ্ছে ব্যাংক?

Update Time : ০৩:৩৯:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক পিএলসির মতিঝিল স্টাফ কোয়ার্টারে অবৈধ দখলদার ও ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এস্টেট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন মাসের পর মাস নামমাত্র নোটিশ জারি করলেও বাস্তবে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না। ফলে ব্যাংকের সম্পত্তি থেকে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে কথিত ‘ভাড়াটিয়া বাণিজ্য’।

অভিযোগকারীদের দাবি, উচ্ছেদের নামে একের পর এক নোটিশ দেওয়া হলেও এর বাস্তব প্রয়োগ না থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি অনেকের কাছে লোকদেখানো কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। এমনকি সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ ভাড়াটিয়াদের আশ্বস্ত করছেন ‘আপনারা থাকেন, নোটিশ দেওয়া আমাদের কাজ।’ অভিযোগটি সত্য হলে, তা কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়; বরং ব্যাংকের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করে।

এ নিয়ে এস্টেট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের ডিজিএম মো. শাহাবীর, এজিএম তৌফিক ইমাম এবং এসপিও রবিউল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের ইঙ্গিতেই কথিতভাবে অবৈধভাবে অবস্থানরত ভাড়াটিয়াদের থাকতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সোনালী ব্যাংকের স্টাফ কোয়ার্টারের সম্পত্তি থেকে রাজস্ব আদায় না হওয়ার দায় নেবে কে?

ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তি বছরের পর বছর অবৈধভাবে দখলে থাকলে একদিকে যেমন প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অন্যদিকে নিয়মিত নোটিশ জারি করেও উচ্ছেদ না করতে পারার পেছনে কারও স্বার্থ জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি।

এদিকে এস্টেট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে নিয়মিত স্বাক্ষর করে অফিসে উপস্থিত না থাকা এবং দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগও উঠেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে যারা ব্যাংকের সম্পত্তি রক্ষা ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেই যদি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠে, তাহলে প্রতিষ্ঠানটির সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা কতটা জবাবদিহিমূলক?

সোনালী ব্যাংকের স্টাফ কোয়ার্টার নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ, নোটিশের পর নোটিশ, কিন্তু কার্যকর উচ্ছেদ নেই এই ধারাবাহিকতা এখন নতুন করে তদন্তের দাবি তুলেছে।

ব্যাংকের সম্পত্তি কি কাগজে-কলমে রক্ষা হচ্ছে, নাকি নোটিশ জারির আড়ালে চলছে ‘ভাড়াটিয়া বাণিজ্য’?

অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন, অবৈধ দখলদারদের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা এবং ব্যাংকের বকেয়া রাজস্ব আদায়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।