বাংলাদেশ ০১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোনালী ব্যাংকের স্টাফ কোয়ার্টারে ‘নোটিশ বাণিজ্য’, ফের ঢুকছে অবৈধ ভাড়াটিয়া!

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬১ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক পিএলসি’র মতিঝিলস্থ স্টাফ কোয়ার্টারে অবৈধ দখলদার ও ভাড়াটিয়া উচ্ছেদে এস্টেট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের কার্যক্রম নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বছরের পর বছর নোটিশ, চিঠি ও উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হলেও বাস্তবে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে দৃশ্যমান সাফল্য নেই। বরং উচ্ছেদ কার্যক্রমের মধ্যেই নতুন করে ৩টি অবৈধ ভাড়াটিয়াদের কোয়ার্টারে প্রবেশের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে সোনালী ব্যাংকের এস্টেট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা। ডিভিশনে কর্মরত ডিজিএম মোঃ শাহাবীর, এজিএম তৌফিক ইমাম ও এসপিও রবিউল ইসলামের কার্যক্রম নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

প্রশ্ন উঠেছে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করে গুরুত্বপূর্ণ এই ডিভিশনের কর্মকর্তারা যদি ব্যাংকের নিজস্ব সম্পত্তি দখলমুক্ত করতেই ব্যর্থ হন, তাহলে তাদের দায়িত্ব পালনের জবাবদিহিতা কোথায়?

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, স্টাফ কোয়ার্টারে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে বারবার ‘লোক দেখানো’ নোটিশ জারি করা হচ্ছে। নোটিশ দেওয়ার পরও যদি দখলদাররা বহাল থাকে এবং নতুন করে ভাড়াটিয়া প্রবেশের সুযোগ পায়, তাহলে এই ব্যর্থতার নেপথ্যে কারা রয়েছেন এ প্রশ্ন এখন সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুখে মুখে।

ব্যাংকের মূল্যবান সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্বে থাকা এস্টেট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের এমন কার্যক্রমে ক্ষোভ বাড়ছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, এটি কি নিছক প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নাকি এর পেছনে কোনো অদৃশ্য ইন্ধন বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহলের প্রভাব রয়েছে?

স্টাফ কোয়ার্টারে নতুন করে অবৈধ ভাড়াটিয়াদের প্রবেশের অভিযোগ সত্য হলে তাদের প্রবেশের অনুমতি বা সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো, কারা তাদের সহযোগিতা করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কী পদক্ষেপ নিয়েছেন এসব বিষয় খতিয়ে দেখা জরুরি।

ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, শুধু কাগজে-কলমে নোটিশ দিয়ে দায় সারা নয়; অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রকাশ, প্রকৃত উচ্ছেদ, সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

এখন প্রশ্ন একটাই সোনালী ব্যাংকের স্টাফ কোয়ার্টার কি সত্যিই দখলমুক্ত হবে, নাকি নোটিশের পর নোটিশ দিয়েই চলবে ‘উচ্ছেদ নাটক’?

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post

জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কি গভীর সংকটে? : মোঃ সাইফুল ইসলাম

error: Content is protected !!

সোনালী ব্যাংকের স্টাফ কোয়ার্টারে ‘নোটিশ বাণিজ্য’, ফের ঢুকছে অবৈধ ভাড়াটিয়া!

Update Time : ১০:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক পিএলসি’র মতিঝিলস্থ স্টাফ কোয়ার্টারে অবৈধ দখলদার ও ভাড়াটিয়া উচ্ছেদে এস্টেট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের কার্যক্রম নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বছরের পর বছর নোটিশ, চিঠি ও উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হলেও বাস্তবে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে দৃশ্যমান সাফল্য নেই। বরং উচ্ছেদ কার্যক্রমের মধ্যেই নতুন করে ৩টি অবৈধ ভাড়াটিয়াদের কোয়ার্টারে প্রবেশের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে সোনালী ব্যাংকের এস্টেট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা। ডিভিশনে কর্মরত ডিজিএম মোঃ শাহাবীর, এজিএম তৌফিক ইমাম ও এসপিও রবিউল ইসলামের কার্যক্রম নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

প্রশ্ন উঠেছে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করে গুরুত্বপূর্ণ এই ডিভিশনের কর্মকর্তারা যদি ব্যাংকের নিজস্ব সম্পত্তি দখলমুক্ত করতেই ব্যর্থ হন, তাহলে তাদের দায়িত্ব পালনের জবাবদিহিতা কোথায়?

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, স্টাফ কোয়ার্টারে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে বারবার ‘লোক দেখানো’ নোটিশ জারি করা হচ্ছে। নোটিশ দেওয়ার পরও যদি দখলদাররা বহাল থাকে এবং নতুন করে ভাড়াটিয়া প্রবেশের সুযোগ পায়, তাহলে এই ব্যর্থতার নেপথ্যে কারা রয়েছেন এ প্রশ্ন এখন সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুখে মুখে।

ব্যাংকের মূল্যবান সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্বে থাকা এস্টেট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের এমন কার্যক্রমে ক্ষোভ বাড়ছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, এটি কি নিছক প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নাকি এর পেছনে কোনো অদৃশ্য ইন্ধন বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহলের প্রভাব রয়েছে?

স্টাফ কোয়ার্টারে নতুন করে অবৈধ ভাড়াটিয়াদের প্রবেশের অভিযোগ সত্য হলে তাদের প্রবেশের অনুমতি বা সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো, কারা তাদের সহযোগিতা করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কী পদক্ষেপ নিয়েছেন এসব বিষয় খতিয়ে দেখা জরুরি।

ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, শুধু কাগজে-কলমে নোটিশ দিয়ে দায় সারা নয়; অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রকাশ, প্রকৃত উচ্ছেদ, সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

এখন প্রশ্ন একটাই সোনালী ব্যাংকের স্টাফ কোয়ার্টার কি সত্যিই দখলমুক্ত হবে, নাকি নোটিশের পর নোটিশ দিয়েই চলবে ‘উচ্ছেদ নাটক’?

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।