বাংলাদেশ ০১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোনালী ব্যাংকের এস্টেট ডিভিশনে নোটিশের ফাইলে বসে আছে অজগর সাপ।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০৬:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক পিএলসির এস্টেট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন ঘিরে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। ব্যাংকের মূল্যবান সম্পত্তিতে অবৈধ দখল, অনিয়মিত ভাড়াটিয়া, বকেয়া অর্থ আদায়ে বৈষম্য এবং কথিতভাবে ফাইল আটকে রাখার অভিযোগে ক্ষোভ বাড়ছে সংশ্লিষ্ট মহলে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নোটিশ দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু উচ্ছেদ হচ্ছে না; ব্যাংকের কর্মচারীর হিসাব নং একজনে লিয়েন করে অর্থ আদায় করেন , কিন্তু সবার ক্ষেত্রে নয় এ যেন নিয়মের বদলে চলছে বাছাই করা ব্যবস্থা।

অভিযোগ রয়েছে, দৈনিক মজুরি ভিত্তিক পাম্প অপারেটর আব্দুর রশিদের নির্দেশে নাজিম, মিজান, জয়নাল তারা পিটিএসের কয়েকজনের প্রবেশ ও অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে এস্টেট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের ডিএমডি আবু সাঈদের দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী ও ড্রাইভার ইসমাইল হোসেনের ব্যাংক হিসাব লিয়েন করে মাসে প্রায় ১৮ হাজার টাকা করে ২ মাসে প্রায় ৩৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে তবু দুঃখ নেই বলে জানিয়েছেন।

কিন্তু এখানেই বড় প্রশ্ন একজনের কাছ থেকে দ্রুত অর্থ আদায় করা সম্ভব হলে অবৈধভাবে দখলে থাকা অন্যদের কাছ থেকে অর্থ আদায় কিংবা উচ্ছেদ কেন হচ্ছে না?

অভিযোগ অনুযায়ী, অবৈধভাবে তালা ভেঙে দখলে নেওয়া প্রায় ৩৫ জনের কাছ থেকে এখনো অর্থ কর্তন করা হয়নি। এমনকি তিন বছরের বেশি সময় ধরে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের কাছ থেকেও বকেয়া অর্থ আদায়ে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ। এতে ব্যাংকের রাজস্ব যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, দৈনিক মজুরি ভিত্তিক পাম্প অপারেটর আব্দুর রশিদ নিজেই এখনো ভাড়াটিয়া হিসেবে অবস্থান করছেন। বিভিন্ন ভবনে ভাড়াটিয়ারা অবস্থান করলেও তাদের বৈধতা যাচাই, বকেয়া আদায় কিংবা উচ্ছেদের ক্ষেত্রে এস্টেট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ফাইলে নোটিশ, নোটিশে তারিখ, তারিখের পর আবার নীরবতা এভাবেই চলছে উচ্ছেদের নামে দীর্ঘসূত্রতা। বাস্তবে অবৈধ দখলমুক্ত করার উদ্যোগ না থাকায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কার স্বার্থে এই নিষ্ক্রিয়তা?

এদিকে ডিভিশনের কয়েকজন কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও নানা অভিযোগ ও আলোচনা রয়েছে। ডিজিএম শাহাবীর, এজিএম তৌফিক ইমাম ও এসপিও রবিউল ইসলামের দায়িত্বাধীন কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকের সম্পত্তি ও রাজস্ব সুরক্ষায় যদি যথাযথ তদারকি না থাকে, তাহলে অবৈধ দখলদারদের দৌরাত্ম্য আরও বাড়বে।

ডিভিশনের অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয় নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। জিএম আব্দুল কুদ্দুসের সঙ্গে এক নারী আনসার সদস্যকে ঘিরে কথিত একটি বিতর্কের বিষয়ও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচিত হচ্ছে সেই সদস্য কে পরবর্তীতে ট্রান্সফার করে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে । ব্যাংকের রাজস্ব আদায় ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ব্যর্থতায় ফাইলের ওপর যেন ‘তিন কাল সাপ’ ফণা তুলে বসে আছে। গুরুত্বপূর্ণ নথি পড়ে থাকছে, সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকছে, আর এর সুযোগ নিচ্ছে অবৈধ দখলদাররা ও ভাড়াটিয়ারা এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

প্রশ্ন উঠছে, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা যদি এস্টেট ডিভিশনের থাকে, তাহলে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ হচ্ছে না কেন? কার স্বার্থে নোটিশের পর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে?, আর কার ক্ষেত্রে চোখ বন্ধ রাখা হচ্ছে? দীর্ঘদিন ধরে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধা কোথায়?

‘নোটিশের নামে সাপের খেলা’ বন্ধ করে এবার দৃশ্যমান উচ্ছেদ ও রাজস্ব আদায় অভিযান চালানোর দাবি উঠেছে।

এদিকে এস্টেট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন গত ২২/০৮/২৬ তারিখে একটি নোটিশ প্রদান করেন অর্থ আদায়ে জন্য ১ সপ্তাহে সময় দেওয়া হয় কিন্তু তাহা কোন আলোর মুখ দেখে নাই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সোনালী ব্যাংক জনগণের অর্থে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এর সম্পত্তি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। তাই অবৈধ দখল, পক্ষপাতমূলক অর্থ আদায় কিংবা ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে এস্টেট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা শাহাবীর কে আমাদের প্রতিবেদক ফোন দিবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

এখন দেখার বিষয় ফাইলের ওপর বসে থাকা ‘সাপ’ সরিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি অর্থ উদ্ধার করা হবে, নাকি নোটিশের কাগুজে খেলাতেই আটকে থাকবে সোনালী ব্যাংকের কোটি টাকার সম্পদ?

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post

জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কি গভীর সংকটে? : মোঃ সাইফুল ইসলাম

error: Content is protected !!

সোনালী ব্যাংকের এস্টেট ডিভিশনে নোটিশের ফাইলে বসে আছে অজগর সাপ।

Update Time : ০৮:০৬:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক পিএলসির এস্টেট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন ঘিরে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। ব্যাংকের মূল্যবান সম্পত্তিতে অবৈধ দখল, অনিয়মিত ভাড়াটিয়া, বকেয়া অর্থ আদায়ে বৈষম্য এবং কথিতভাবে ফাইল আটকে রাখার অভিযোগে ক্ষোভ বাড়ছে সংশ্লিষ্ট মহলে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নোটিশ দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু উচ্ছেদ হচ্ছে না; ব্যাংকের কর্মচারীর হিসাব নং একজনে লিয়েন করে অর্থ আদায় করেন , কিন্তু সবার ক্ষেত্রে নয় এ যেন নিয়মের বদলে চলছে বাছাই করা ব্যবস্থা।

অভিযোগ রয়েছে, দৈনিক মজুরি ভিত্তিক পাম্প অপারেটর আব্দুর রশিদের নির্দেশে নাজিম, মিজান, জয়নাল তারা পিটিএসের কয়েকজনের প্রবেশ ও অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে এস্টেট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের ডিএমডি আবু সাঈদের দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী ও ড্রাইভার ইসমাইল হোসেনের ব্যাংক হিসাব লিয়েন করে মাসে প্রায় ১৮ হাজার টাকা করে ২ মাসে প্রায় ৩৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে তবু দুঃখ নেই বলে জানিয়েছেন।

কিন্তু এখানেই বড় প্রশ্ন একজনের কাছ থেকে দ্রুত অর্থ আদায় করা সম্ভব হলে অবৈধভাবে দখলে থাকা অন্যদের কাছ থেকে অর্থ আদায় কিংবা উচ্ছেদ কেন হচ্ছে না?

অভিযোগ অনুযায়ী, অবৈধভাবে তালা ভেঙে দখলে নেওয়া প্রায় ৩৫ জনের কাছ থেকে এখনো অর্থ কর্তন করা হয়নি। এমনকি তিন বছরের বেশি সময় ধরে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের কাছ থেকেও বকেয়া অর্থ আদায়ে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ। এতে ব্যাংকের রাজস্ব যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, দৈনিক মজুরি ভিত্তিক পাম্প অপারেটর আব্দুর রশিদ নিজেই এখনো ভাড়াটিয়া হিসেবে অবস্থান করছেন। বিভিন্ন ভবনে ভাড়াটিয়ারা অবস্থান করলেও তাদের বৈধতা যাচাই, বকেয়া আদায় কিংবা উচ্ছেদের ক্ষেত্রে এস্টেট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ফাইলে নোটিশ, নোটিশে তারিখ, তারিখের পর আবার নীরবতা এভাবেই চলছে উচ্ছেদের নামে দীর্ঘসূত্রতা। বাস্তবে অবৈধ দখলমুক্ত করার উদ্যোগ না থাকায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কার স্বার্থে এই নিষ্ক্রিয়তা?

এদিকে ডিভিশনের কয়েকজন কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও নানা অভিযোগ ও আলোচনা রয়েছে। ডিজিএম শাহাবীর, এজিএম তৌফিক ইমাম ও এসপিও রবিউল ইসলামের দায়িত্বাধীন কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকের সম্পত্তি ও রাজস্ব সুরক্ষায় যদি যথাযথ তদারকি না থাকে, তাহলে অবৈধ দখলদারদের দৌরাত্ম্য আরও বাড়বে।

ডিভিশনের অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয় নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। জিএম আব্দুল কুদ্দুসের সঙ্গে এক নারী আনসার সদস্যকে ঘিরে কথিত একটি বিতর্কের বিষয়ও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচিত হচ্ছে সেই সদস্য কে পরবর্তীতে ট্রান্সফার করে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে । ব্যাংকের রাজস্ব আদায় ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ব্যর্থতায় ফাইলের ওপর যেন ‘তিন কাল সাপ’ ফণা তুলে বসে আছে। গুরুত্বপূর্ণ নথি পড়ে থাকছে, সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকছে, আর এর সুযোগ নিচ্ছে অবৈধ দখলদাররা ও ভাড়াটিয়ারা এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

প্রশ্ন উঠছে, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা যদি এস্টেট ডিভিশনের থাকে, তাহলে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ হচ্ছে না কেন? কার স্বার্থে নোটিশের পর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে?, আর কার ক্ষেত্রে চোখ বন্ধ রাখা হচ্ছে? দীর্ঘদিন ধরে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধা কোথায়?

‘নোটিশের নামে সাপের খেলা’ বন্ধ করে এবার দৃশ্যমান উচ্ছেদ ও রাজস্ব আদায় অভিযান চালানোর দাবি উঠেছে।

এদিকে এস্টেট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন গত ২২/০৮/২৬ তারিখে একটি নোটিশ প্রদান করেন অর্থ আদায়ে জন্য ১ সপ্তাহে সময় দেওয়া হয় কিন্তু তাহা কোন আলোর মুখ দেখে নাই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সোনালী ব্যাংক জনগণের অর্থে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এর সম্পত্তি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। তাই অবৈধ দখল, পক্ষপাতমূলক অর্থ আদায় কিংবা ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে এস্টেট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা শাহাবীর কে আমাদের প্রতিবেদক ফোন দিবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

এখন দেখার বিষয় ফাইলের ওপর বসে থাকা ‘সাপ’ সরিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি অর্থ উদ্ধার করা হবে, নাকি নোটিশের কাগুজে খেলাতেই আটকে থাকবে সোনালী ব্যাংকের কোটি টাকার সম্পদ?