বাংলাদেশ ০১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাঙ্গায় ৩২৫ কৃষকের মাঝে ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪০:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ১১ Time View

 (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: কৃষকের বাড়ির আঙিনা ও পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে ফলদ ও বনজ গাছের বাগান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম খান বাবুল।

তিনি বলেন, “একটি গাছ যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, তেমনি ফলদ গাছ ভবিষ্যতে কৃষকের পরিবারের বাড়তি আয়ের উৎস হতে পারে। শুধু চারা হাতে তুলে দিলেই হবে না, প্রতিটি চারাকে সন্তানের মতো যত্ন নিয়ে বড় করে তুলতে হবে।”

রোববার (৩০ আগস্ট) ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের ঈদগাহ মাঠে ‘পার্টনারশিপ ইন ব্র্যাক ব্যাংক-ডিএই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় কৃষক-কৃষাণীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ফরিদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. খয়ের উদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ফলদ ও বনজ গাছ কৃষকের পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, মাটির ক্ষয় রোধ এবং সবুজায়ন বাড়ানো সম্ভব।

তিনি বলেন, চারা রোপণের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা এবং প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পরিকল্পিতভাবে ফলদ ও বনজ গাছের চাষ বাড়ানো গেলে কৃষি ও পরিবেশ—উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

কর্মসূচির আওতায় প্রকল্পভুক্ত কৃষি উন্নয়ন সমিতির কৃষক-কৃষাণী এবং সমিতির পার্শ্ববর্তী কৃষকদের মধ্যে আম, লিচু, কাঁঠাল, কদবেল, লেবু, পেয়ারা, জাম, আতা, নিম ও আমলকীসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

চারা নিতে আসা স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। তারা জানান, বাড়ির আশপাশ ও পতিত জমিতে এসব চারা রোপণ করে নিয়মিত পরিচর্যা করবেন। গাছগুলো বড় হলে পরিবারের ফলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি আয়েও সহায়ক হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। এ সময় স্বাগত বক্তব্যে বিস্তারিত তুলে ধরেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোল্লা আল-মামুন, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কাজী রমজান আলী,।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ মো. নজরুল ইসলাম, উপপরিচালক (লিসাসা), প্রশাসন ও অর্থ উইং, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, ফরিদপুর অঞ্চলের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শাহাদুজ্জামান।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মো. মিজানুর রহমান, অফিসার ইনচার্জ, ভাঙ্গা থানা, ফরিদপুরসহ স্থানীয় কৃষি উন্নয়ন সমিতির সদস্য, কৃষক-কৃষাণী ও সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মোসা. শারমিন সুলতানা, মনিটরিং অফিসার, পার্টনারশিপ ইন ব্র্যাক ব্যাংক-ডিএই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে ব্র্যাক। কর্মসূচির আওতায় মোট ৩২৫ জন কৃষক-কৃষাণীর মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ৩ হাজার ২, শ ৫০ টি ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post

জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কি গভীর সংকটে? : মোঃ সাইফুল ইসলাম

error: Content is protected !!

ভাঙ্গায় ৩২৫ কৃষকের মাঝে ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ

Update Time : ০৫:৪০:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

 (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: কৃষকের বাড়ির আঙিনা ও পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে ফলদ ও বনজ গাছের বাগান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম খান বাবুল।

তিনি বলেন, “একটি গাছ যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, তেমনি ফলদ গাছ ভবিষ্যতে কৃষকের পরিবারের বাড়তি আয়ের উৎস হতে পারে। শুধু চারা হাতে তুলে দিলেই হবে না, প্রতিটি চারাকে সন্তানের মতো যত্ন নিয়ে বড় করে তুলতে হবে।”

রোববার (৩০ আগস্ট) ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের ঈদগাহ মাঠে ‘পার্টনারশিপ ইন ব্র্যাক ব্যাংক-ডিএই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় কৃষক-কৃষাণীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ফরিদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. খয়ের উদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ফলদ ও বনজ গাছ কৃষকের পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, মাটির ক্ষয় রোধ এবং সবুজায়ন বাড়ানো সম্ভব।

তিনি বলেন, চারা রোপণের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা এবং প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পরিকল্পিতভাবে ফলদ ও বনজ গাছের চাষ বাড়ানো গেলে কৃষি ও পরিবেশ—উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

কর্মসূচির আওতায় প্রকল্পভুক্ত কৃষি উন্নয়ন সমিতির কৃষক-কৃষাণী এবং সমিতির পার্শ্ববর্তী কৃষকদের মধ্যে আম, লিচু, কাঁঠাল, কদবেল, লেবু, পেয়ারা, জাম, আতা, নিম ও আমলকীসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

চারা নিতে আসা স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। তারা জানান, বাড়ির আশপাশ ও পতিত জমিতে এসব চারা রোপণ করে নিয়মিত পরিচর্যা করবেন। গাছগুলো বড় হলে পরিবারের ফলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি আয়েও সহায়ক হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। এ সময় স্বাগত বক্তব্যে বিস্তারিত তুলে ধরেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোল্লা আল-মামুন, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কাজী রমজান আলী,।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ মো. নজরুল ইসলাম, উপপরিচালক (লিসাসা), প্রশাসন ও অর্থ উইং, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, ফরিদপুর অঞ্চলের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শাহাদুজ্জামান।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মো. মিজানুর রহমান, অফিসার ইনচার্জ, ভাঙ্গা থানা, ফরিদপুরসহ স্থানীয় কৃষি উন্নয়ন সমিতির সদস্য, কৃষক-কৃষাণী ও সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মোসা. শারমিন সুলতানা, মনিটরিং অফিসার, পার্টনারশিপ ইন ব্র্যাক ব্যাংক-ডিএই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে ব্র্যাক। কর্মসূচির আওতায় মোট ৩২৫ জন কৃষক-কৃষাণীর মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ৩ হাজার ২, শ ৫০ টি ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।