
মন্জুরুল আহসান শামীম,স্টাফ রিপোর্টারঃ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় ধান কাটার ধুম পড়েছে। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। মাঠের বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে এখন শ্রমিকের কাস্তের বদলে শোনা যাচ্ছে ‘কম্বাইন্ড হারভেস্টার’ মেশিনের গর্জন। আধুনিক এই কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহারে একদিকে যেমন সময় ও শ্রমিক সংকট দূর হচ্ছে, অন্যদিকে বিঘাপ্রতি খরচ অর্ধেকের নিচে নেমে আসায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ সোনালী ধানের সমারোহ। বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কায় দ্রুত ধান ঘরে তুলতে কৃষকরা এখন যান্ত্রিক পদ্ধতির দিকেই ঝুঁকছেন। কৃষকরা জানান, আগে এক দোন (বিঘা) জমির ধান কাটতে শ্রমিক সংকটে বিপাকে পড়তে হতো এবং খরচও হতো অনেক বেশি। বর্তমানে হারভেস্টার মেশিনের মাধ্যমে প্রতি দোন জমি মাত্র ২০০০ থেকে ২২০০ টাকার মধ্যে কাটা ও মাড়াই করা সম্ভব হচ্ছে।
উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের হরিশ্বর গ্রামের আলম মিয়া বলেন, “আগে শ্রমিক খুঁজে পাওয়া যেত না, আবার বেশি মজুরি দিয়েও ধান কাটতে দেরি হতো। এখন মেশিনে অল্প সময়েই ধান কেটে বস্তাবন্দি করা যাচ্ছে। এতে বৃষ্টির ভয় নেই এবং খরচও অনেক কম।”
কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার এর মতে, সরকারের কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের মাঝে এসব মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে ধান কাটার অপচয় কমছে এবং সঠিক সময়ে কৃষক ফসল ঘরে তুলতে পারছেন। কাউনিয়ার কৃষিতে এই যান্ত্রিক বিপ্লব আগামীতে খাদ্য উৎপাদন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Reporter Name 

















