
বিশেষ প্রতিনিধি: রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় সরকারি ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কর্মসূচির চাল ও আটা কালোবাজারির এক সংঘবদ্ধ অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দিবাগত রাতে কিউর স্পেশালাইজড হাসপাতালের সামনে সাংবাদিক ও পুলিশের এক ঝটিকা অভিযানে ট্রাকভর্তি পাচার হওয়া মালামালসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একদল সাহসী সাংবাদিক জানতে পারেন যে, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি রেশন রাতের আঁধারে ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিজয় সরণি মোড় এলাকায় সাংবাদিকরা ট্রাকটি থামিয়ে মালামাল পরিবহনের বৈধ চালান দেখতে চাইলে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচনের ভয়ে ট্রাক চালক ও তার সহযোগীরা তাৎক্ষণিক মোবাইল ফোনে তাদের নিজস্ব ক্যাডার বাহিনীকে ডেকে আনে। একপর্যায়ে তারা একটি কৃত্রিম মব বা জনরোষ তৈরির অপচেষ্টা চালিয়ে সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক হামলার চেষ্টা করে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংবাদকর্মীরা দ্রুত তেজগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) হস্তক্ষেপ কামনা করেন। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অপরাধী চক্রটি পুলিশের ওপরও চড়াও হওয়ার স্পর্ধা দেখায়। তবে পুলিশের পেশাদার ও কঠোর অবস্থানের মুখে হামলাকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে পাচার হতে যাওয়া বিপুল পরিমাণ চাল ও আটা জব্দ করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই চালক-সহকারীসহ ৪ জনকে আটক করে পুলিশ।
আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে ওএমএস পণ্যের এক বিশাল কারসাজির তথ্য। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চক্রের মূল হোতা খিলক্ষেত এলাকার বিতর্কিত ডিলার সুজন। তার নিয়ন্ত্রিত গুদামে সরকারি ছাপমারা বস্তা বদলে ফেলে নতুন মোড়কে প্যাকেটজাত করে এসব পণ্য চড়া দামে খোলা বাজারে বিক্রি করা হতো। পাচারের গন্তব্য সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়াতে তারা একেকবার সাভারের ডিলার আরিফ ও মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের নাম ব্যবহার করছিল।
জব্দকৃত পণ্য ও ট্রাকটি বর্তমানে তেজগাঁও থানা হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা নং ২৭(৩-২৬)-এর অধীনে আসামিদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। জনস্বার্থে এই প্রভাবশালী কালোবাজারি চক্রের শেকড় উপড়ে ফেলতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
Reporter Name 


















