
*দখল-বাণিজ্যে কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি, ৩১ ফ্ল্যাট ছাড়ার নোটিশে প্রশ্ন আরও ঘনীভূত।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:
রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক-এর কর্মচারী নিবাসে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ফ্ল্যাট দখল, অবৈধ ভাড়া বাণিজ্য এবং রাজস্ব ফাঁকির একটি বিস্তৃত চিত্র উঠে এসেছে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে।
সম্প্রতি স্টেট (Estate) ডিভিশনের পক্ষ থেকে ৩১টি ফ্ল্যাট খালি করার নোটিশ জারি করা হলে বিষয়টি সামনে এলেও, অনুসন্ধানে দেখা গেছে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং একটি সুসংগঠিত অনিয়মের চক্র আওয়ামী লীগ সরকার আমল থেকে সক্রিয়।
যেভাবে গড়ে উঠেছে ‘ভাড়া সিন্ডিকেট’
ব্যাংকের একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্র নিশ্চিত করেছে, কর্মচারী নিবাসের ফ্ল্যাটগুলোকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।
বৈধ বরাদ্দপ্রাপ্তদের একটি অংশ নিয়ম ভেঙে ফ্ল্যাট ভাড়া দিচ্ছেন
অবৈধ দখলদাররা তালা ভেঙে ফ্ল্যাট দখল করছেন
দখলকৃত ফ্ল্যাট আবার তৃতীয় পক্ষের কাছে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।
অপরাধী আস্তানা:
সোনালী ব্যাংক কর্মচারী নিবাসে বেশিরভাগই বহিরাগত ব্যক্তির কাছে ভাড়া দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে উক্ত নিবাসী শৃঙ্খলা ভঙ্গ মাদক সেবীদের কারখানায় পরিণত হয়েছে এতে সোনালী ব্যাংক কর্মচারীদের জীবনের নিরাপত্তা নেই বর্তমানে কর্মচারীদের জীবনের ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ফলে সরকারি আবাসন সুবিধা পরিণত হয়েছে ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে।
কারা দখলে, কারা ভাড়া দিচ্ছে?
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, শুধু কর্মকর্তা নন:
দৈনিক মজুরিভিত্তিক কিছু কর্মচারী (যেমন পিটিএস, পিটিসি, পাম্প অপারেটর) পর্যন্ত অবৈধভাবে ফ্ল্যাট দখল করে বসবাস করছেন এবং উক্ত বাসা ভাড়া দিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্য থেকেই কেউ কেউ আবার ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে নিয়মিত অর্থ উপার্জন করছেন যা পুরো ব্যবস্থাপনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সরকারি নিয়ম কোথায় ভেঙেছে?
সরকারি বিধি অনুযায়ী:
*ফ্ল্যাট বরাদ্দ শুধুমাত্র অনুমোদিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য?
*নির্দিষ্ট সময় (সাধারণত ১০ বছর) পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য
*অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ?
*অবসর বা মৃত্যুর পর নির্ধারিত সময়ের বেশি বসবাস বেআইনি
বাস্তবতা:
এই নিয়মগুলোর প্রায় সবই লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি দায় কার?
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো:
এই অবৈধ ভাড়া বাণিজ্যের ফলে ২০২৪ সালে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারিয়েছে এবং এখনো তা অব্যাহত রয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে?
*এই ভাড়া থেকে আদায়কৃত অর্থ কোথায় যাচ্ছে?
*সরকার কেন রাজস্ব পাচ্ছে না?
*কারা এই অর্থের সুবিধাভোগী
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ প্রাপ্ত:
বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে দৈনিক মজুরী ভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত দেওয়া হয়েছে পিটিএস,পিটিসি, পাম্ম অপারেটর সহ অন্যান্য ব্যক্তিদের যারা সোনালী ব্যাংক কর্মচারী নিবাসে ফ্লাটে তালা ভেঙ্গে উঠেছেন।
তাদেরকে সোনালী ব্যাংক স্টেট ডিভিশন থেকে ৩০ শে মার্চের মধ্যে ফ্লাট বাসা ছাড়ার জন্য একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে তারা লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন যেমন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সময়ে থেকে ফ্লাট থেকে রাজস্ব হারিয়েছেন এই রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে সরকার উক্ত টাকা সরকার পাওয়ার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়নি.
কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন।
অভিযোগ উঠেছে, স্টেট ডিভিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে জানলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেননি।
অভিযোগের তালিকায় রয়েছে:
*জিএম আব্দুল কুদ্দুস
*ডিজিএম মোহাম্মদ শাহাবির
*এজিএম তৌফিক ইমাম
*এসপিও রবিউল ইসলাম
কর্মচারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিকবার অভিযোগ জানানোর পরও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
৩১ ফ্ল্যাট ছাড়ার নোটিশ সমাধান নাকি ‘আইওয়াশ’?
স্টেট ডিভিশনের সাম্প্রতিক ৩১টি ফ্ল্যাট খালি করার নোটিশকে অনেকেই ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও, ভেতরের অনেকে এটিকে দায় এড়ানোর কৌশল বলছেন।
কারণ?
অতীতেও এমন নোটিশ দেওয়া হয়েছিল পরে পরিস্থিতি “স্বাভাবিক” হয়ে যায় অনিয়ম বন্ধ হয়নি।
দখলদারদের বক্তব্য কী?
*কিছু দখলদার জানিয়েছেন: “এ ধরনের নোটিশ নতুন কিছু নয়। কিছুদিন পর সব ঠিক হয়ে যায়।”
এই বক্তব্যই ইঙ্গিত দেয়:
অনিয়মের পেছনে কোনো অদৃশ্য প্রভাব বা ‘ম্যানেজমেন্ট’ কাজ করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা জরুরি?
মূল প্রশ্নগুলো এখনো উত্তরহীন?
*এই ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে
*কারা এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে?
*কতগুলো ফ্ল্যাট অবৈধভাবে দখলে রয়েছে?
*বছরে কত টাকা ভাড়া লেনদেন হচ্ছে?
*সরকারের প্রকৃত রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ কত?
*সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা কোথায়?
সমাধান কী?
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য জরুরি?
*উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন
*অবৈধ দখলদারদের দ্রুত উচ্ছেদ
*ভাড়া বাণিজ্যের আর্থিক লেনদেন ট্র্যাক করা
*দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থার
শেষ কথা?
সোনালী ব্যাংকের কর্মচারী নিবাসের এই চিত্র শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম নয়: এটি সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের দুর্বলতা ও জবাবদিহিতার সংকটের প্রতিফলন।
একটি স্বচ্ছ তদন্তই পারে এই ‘ভাড়া সিন্ডিকেট’-এর অন্তরালে থাকা প্রকৃত চিত্র উন্মোচন করতে হবে।
Reporter Name 


















