বাংলাদেশ ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিকের ওপর হামলা, বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে শঙ্কা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৩০:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • ৫৬ Time View

স্টাফ রিপোর্টার- ভোলার বোরহানউদ্দিনে হেলিপ্যাড সংলগ্ন বাণিজ্য মেলা এলাকায় সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে মেলা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

অদ্য রোববার (২২ মার্চ) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মেলা এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় মেলা কর্তৃপক্ষের কিছু ব্যক্তি তাকে গোপনে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে বলে অভিযোগ ওঠেছে। স্থানীয়রা আরো জানান এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা— সাত্তার, আমজাদ’সহ আরও বেশ কয়েকজন জড়িত রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

 

স্থানীয় সাংবাদিক মো. এরশাদ জানান একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক পরাণ আহসান এর উপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী ছাত্রলীগ ক্যাডার মো. রবিন মেলা এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল। তাকে দেখে চিনতে পেরে আমি সহ সাংবাদিক আহসান আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেই। এসময় সাত্তার আমজাদ সহ বেশ কয়েকজ তাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন।

 

ভুক্তভোগী সাংবাদিক পরাণ আহসান জানান গত বছরের ২৭ অক্টোবর সাচড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দরুন বাজার এলাকায় লালমোহন উপজেলা থেকে সংবাদ সংগ্রহ শেষে মোটরসাইকেলে ভোলায় ফেরার পথে স্থানীয় কয়েকজন তাকে জানায় যে দরুন বাজার এলাকায় জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। সেখানে পৌঁছে তিনি ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ শুরু করলে সাচড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজ হাওলাদারের নির্দেশে স্থানীয় যুবলীগ নেতা কামাল হাওলাদার, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মো. জামাল হাওলাদার, মোসা. শিখা, ছাত্রলীগ ক্যাডার রবিন ও দলু হাওলাদারসহ আরও কয়েকজন দা, লাঠিসোটা নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

 

তিনি আরো বলেন, ‘তারা সাংবাদিক পরিচয় জেনেও  থামেনি বরং আমাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। একপর্যায়ে তারা আমাকে পাশের পুকুরে ফেলে দেয়। পরে আমাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করলে আবারও তারা হামলা চালিয়ে মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং হত্যার হুমকি দেয়। তৎকালীন পুলিশ সুপার মোঃ শরিফুল হকের নির্দেশে বোরহানউদ্দিন থানার ওসি একটি মামলা নেয় মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন, উক্ত মামলায় সে ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী।

আজকে বাণিজ্য মেলায় এলাকায় সে অবস্থান করছিল, তাকে দেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দিলে আমজাদ সাত্তার সহ বেশ কয়েকজন তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক ঘটনাটি পুলিশ সুপার, ভোলা র‍্যাব-৮ কোম্পানি কমান্ড, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সহ-সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেছি।

 

তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন যেন অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হয়। এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এদিকে, ঘটনার পরপরই বিষয়টি ভোলা জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

 

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, জাতীয় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির, জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন, সহ ভোলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ নিন্দা জানিয়ে বলেন, অতি দ্রুত উক্ত আসামিকে পালাতে সহায়তা কারীদেরসহ সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

 

অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে আমজাদ হোসেন জানান, মেলায় সার্বিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে বলে দুপক্ষকে দুই দিকে পাঠিয়ে দিয়েছি,। বার বার ওয়ারেন্টের আসামি বলা সত্ত্বেও কেন তাকে সরিয়ে দিলেন এ প্রশ্নের জবাবে সঠিক কোন সুদুত্তর দিতে পারেন নাই আমজাদ হোসেন।

 

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোঃ শহিদুল্লাহ কাউসার জানান বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

সাংবাদিকের ওপর হামলা, বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে শঙ্কা

Update Time : ০৯:৩০:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার- ভোলার বোরহানউদ্দিনে হেলিপ্যাড সংলগ্ন বাণিজ্য মেলা এলাকায় সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে মেলা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

অদ্য রোববার (২২ মার্চ) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মেলা এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় মেলা কর্তৃপক্ষের কিছু ব্যক্তি তাকে গোপনে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে বলে অভিযোগ ওঠেছে। স্থানীয়রা আরো জানান এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা— সাত্তার, আমজাদ’সহ আরও বেশ কয়েকজন জড়িত রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

 

স্থানীয় সাংবাদিক মো. এরশাদ জানান একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক পরাণ আহসান এর উপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী ছাত্রলীগ ক্যাডার মো. রবিন মেলা এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল। তাকে দেখে চিনতে পেরে আমি সহ সাংবাদিক আহসান আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেই। এসময় সাত্তার আমজাদ সহ বেশ কয়েকজ তাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন।

 

ভুক্তভোগী সাংবাদিক পরাণ আহসান জানান গত বছরের ২৭ অক্টোবর সাচড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দরুন বাজার এলাকায় লালমোহন উপজেলা থেকে সংবাদ সংগ্রহ শেষে মোটরসাইকেলে ভোলায় ফেরার পথে স্থানীয় কয়েকজন তাকে জানায় যে দরুন বাজার এলাকায় জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। সেখানে পৌঁছে তিনি ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ শুরু করলে সাচড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজ হাওলাদারের নির্দেশে স্থানীয় যুবলীগ নেতা কামাল হাওলাদার, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মো. জামাল হাওলাদার, মোসা. শিখা, ছাত্রলীগ ক্যাডার রবিন ও দলু হাওলাদারসহ আরও কয়েকজন দা, লাঠিসোটা নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

 

তিনি আরো বলেন, ‘তারা সাংবাদিক পরিচয় জেনেও  থামেনি বরং আমাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। একপর্যায়ে তারা আমাকে পাশের পুকুরে ফেলে দেয়। পরে আমাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করলে আবারও তারা হামলা চালিয়ে মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং হত্যার হুমকি দেয়। তৎকালীন পুলিশ সুপার মোঃ শরিফুল হকের নির্দেশে বোরহানউদ্দিন থানার ওসি একটি মামলা নেয় মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন, উক্ত মামলায় সে ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী।

আজকে বাণিজ্য মেলায় এলাকায় সে অবস্থান করছিল, তাকে দেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দিলে আমজাদ সাত্তার সহ বেশ কয়েকজন তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক ঘটনাটি পুলিশ সুপার, ভোলা র‍্যাব-৮ কোম্পানি কমান্ড, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সহ-সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেছি।

 

তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন যেন অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হয়। এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এদিকে, ঘটনার পরপরই বিষয়টি ভোলা জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

 

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, জাতীয় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির, জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন, সহ ভোলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ নিন্দা জানিয়ে বলেন, অতি দ্রুত উক্ত আসামিকে পালাতে সহায়তা কারীদেরসহ সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

 

অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে আমজাদ হোসেন জানান, মেলায় সার্বিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে বলে দুপক্ষকে দুই দিকে পাঠিয়ে দিয়েছি,। বার বার ওয়ারেন্টের আসামি বলা সত্ত্বেও কেন তাকে সরিয়ে দিলেন এ প্রশ্নের জবাবে সঠিক কোন সুদুত্তর দিতে পারেন নাই আমজাদ হোসেন।

 

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোঃ শহিদুল্লাহ কাউসার জানান বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।