বাংলাদেশ ০৯:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানে নাটকীয় অভিযানে, ব্যবসায়ী ও জনমনে চরম ক্ষোভ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪০:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৯ Time View

তানজিল হোসেন, ভোলা- ভোলা বিসিক শিল্পনগরীতে গড়ে ওঠা উৎপাদনশীল শিল্পকারখানায় হঠাৎ করে তেলের অভিযান পরিচালনা করায় ভোলার ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ৩১ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখ সন্ধ্যায় ভোলার মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কাজ করে আসা মেসার্স খাঁন ফ্লাওয়ার মিলস একটি বিশ্বস্ত নাম হিসেবে পরিচিত। তাদের দৈনন্দিন খাদ্যদ্রব্য বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহনের জন্য বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

 

উল্লেখ্য যে, ভোলা শহরে খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয় (ওএমএস) নীতিমালা ২০২৪ খ্রিঃ মোতাবেক ভোলা পৌরসভার সুলভ মূল্যের ৪ জন ডিলারকে ৪ টি ওএমএস বিক্রয় কেন্দ্রে বিক্রির জন্য খাদ্য অধিদপ্তরের বণ্টন শাখার ১৩/১০/২০২৩ খ্রিঃ তারিখের ৭০৫ নং স্মারকের আদেশের ভিত্তিতে বরাদ্দ প্রদান করা হয়।

 

উক্ত আদেশ অনুযায়ী মেসার্স খাঁন ফ্লাওয়ার মিলস-এর প্রোঃ আলহাজ্ব মোঃ জামাল উদ্দিন খাঁনের নামে বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য নিজ খরচ ও ব্যবস্থাপনায় পরিবহন করে ভোলা সদর এলএসডিতে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়। এছাড়াও প্রাইমারি স্কুলের ফিডিং প্রোগ্রামে প্রতি সপ্তাহে নেছারাবাদ, পিরোজপুর ও বানরীপাড়া, পিরোজপুরে ১২০০ বস্তা ময়দা নদী পথে ডিজেল ব্যবহার করে ট্রলার যোগে পাঠানো হয় বলেও জানান।

 

এছাড়াও উৎপাদনশীল খাদ্যদ্রব্য বাজারজাত করার জন্য বিপুল পরিমাণ পরিবহনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ সকল পরিবহনে জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকার অনুমোদিত জ্বালানি তেল তার কাছে সংরক্ষিত থাকা প্রচলিত আইনে অপরাধ কি না—তা নিয়ে সচেতন জনগণ এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

 

এহেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক কার্যক্রম যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা সাধারণ মানুষের মনে প্রশাসনের প্রতি আস্থার সংকট সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা বিশ্বাস ও নির্ভরশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনসেবামুখী প্রশাসনিক কার্যক্রমের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিহার করে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।

 

মেসার্স খাঁন ফ্লাওয়ার মিলস-এর প্রোঃ আলহাজ্ব মোঃ জামাল উদ্দিন খাঁন গণমাধ্যমকে জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন গড়ে ৩২০ থেকে ৩৩৫ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। তবে লোডশেডিং বৃদ্ধি পেলে এই চাহিদা আরও বেড়ে যায়। তিনি আরও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মহোদয়ের বরাবর আবেদন করার পর বিষয়টি তদন্ত করেন ডিসি (ফুড)। তদন্ত সাপেক্ষে জেলা প্রশাসন মৌখিক অনুমতির মাধ্যমে পদ্মা ওয়েল পিএলসি থেকে ইলিশা এগ্রো ট্রেডিং-এর লাইসেন্সের বিপরীতে তাদের প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯,০০০ হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহ করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিজেল সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা বাজারে পণ্যের সরবরাহেও প্রভাব ফেলতে পারে।

 

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মেসার্স খাঁন ফ্লাওয়ার মিলস কোনো তেল মজুত কিংবা অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। মেসার্স খাঁন ফ্লাওয়ার মিলস-এর মালিক আলহাজ্ব মোঃ জামাল উদ্দিন খাঁন জানান, তার প্রতিষ্ঠান সবসময় সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে সম্পূর্ণ বৈধভাবে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

 

উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে যে পরিমাণ তেলের প্রয়োজন হয়, তা বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সংগ্রহ করা হয়। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র ও প্রমাণাদি উপস্থাপন করে তার নির্দোষিতা প্রমাণ করতে তিনি প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনের প্রতি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয় এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণের অপচেষ্টা বন্ধ করা যায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানে নাটকীয় অভিযানে, ব্যবসায়ী ও জনমনে চরম ক্ষোভ

Update Time : ০৫:৪০:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

তানজিল হোসেন, ভোলা- ভোলা বিসিক শিল্পনগরীতে গড়ে ওঠা উৎপাদনশীল শিল্পকারখানায় হঠাৎ করে তেলের অভিযান পরিচালনা করায় ভোলার ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ৩১ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখ সন্ধ্যায় ভোলার মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কাজ করে আসা মেসার্স খাঁন ফ্লাওয়ার মিলস একটি বিশ্বস্ত নাম হিসেবে পরিচিত। তাদের দৈনন্দিন খাদ্যদ্রব্য বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহনের জন্য বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

 

উল্লেখ্য যে, ভোলা শহরে খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয় (ওএমএস) নীতিমালা ২০২৪ খ্রিঃ মোতাবেক ভোলা পৌরসভার সুলভ মূল্যের ৪ জন ডিলারকে ৪ টি ওএমএস বিক্রয় কেন্দ্রে বিক্রির জন্য খাদ্য অধিদপ্তরের বণ্টন শাখার ১৩/১০/২০২৩ খ্রিঃ তারিখের ৭০৫ নং স্মারকের আদেশের ভিত্তিতে বরাদ্দ প্রদান করা হয়।

 

উক্ত আদেশ অনুযায়ী মেসার্স খাঁন ফ্লাওয়ার মিলস-এর প্রোঃ আলহাজ্ব মোঃ জামাল উদ্দিন খাঁনের নামে বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য নিজ খরচ ও ব্যবস্থাপনায় পরিবহন করে ভোলা সদর এলএসডিতে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়। এছাড়াও প্রাইমারি স্কুলের ফিডিং প্রোগ্রামে প্রতি সপ্তাহে নেছারাবাদ, পিরোজপুর ও বানরীপাড়া, পিরোজপুরে ১২০০ বস্তা ময়দা নদী পথে ডিজেল ব্যবহার করে ট্রলার যোগে পাঠানো হয় বলেও জানান।

 

এছাড়াও উৎপাদনশীল খাদ্যদ্রব্য বাজারজাত করার জন্য বিপুল পরিমাণ পরিবহনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ সকল পরিবহনে জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকার অনুমোদিত জ্বালানি তেল তার কাছে সংরক্ষিত থাকা প্রচলিত আইনে অপরাধ কি না—তা নিয়ে সচেতন জনগণ এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

 

এহেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক কার্যক্রম যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা সাধারণ মানুষের মনে প্রশাসনের প্রতি আস্থার সংকট সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা বিশ্বাস ও নির্ভরশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনসেবামুখী প্রশাসনিক কার্যক্রমের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিহার করে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।

 

মেসার্স খাঁন ফ্লাওয়ার মিলস-এর প্রোঃ আলহাজ্ব মোঃ জামাল উদ্দিন খাঁন গণমাধ্যমকে জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন গড়ে ৩২০ থেকে ৩৩৫ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। তবে লোডশেডিং বৃদ্ধি পেলে এই চাহিদা আরও বেড়ে যায়। তিনি আরও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মহোদয়ের বরাবর আবেদন করার পর বিষয়টি তদন্ত করেন ডিসি (ফুড)। তদন্ত সাপেক্ষে জেলা প্রশাসন মৌখিক অনুমতির মাধ্যমে পদ্মা ওয়েল পিএলসি থেকে ইলিশা এগ্রো ট্রেডিং-এর লাইসেন্সের বিপরীতে তাদের প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯,০০০ হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহ করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিজেল সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা বাজারে পণ্যের সরবরাহেও প্রভাব ফেলতে পারে।

 

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মেসার্স খাঁন ফ্লাওয়ার মিলস কোনো তেল মজুত কিংবা অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। মেসার্স খাঁন ফ্লাওয়ার মিলস-এর মালিক আলহাজ্ব মোঃ জামাল উদ্দিন খাঁন জানান, তার প্রতিষ্ঠান সবসময় সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে সম্পূর্ণ বৈধভাবে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

 

উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে যে পরিমাণ তেলের প্রয়োজন হয়, তা বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সংগ্রহ করা হয়। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র ও প্রমাণাদি উপস্থাপন করে তার নির্দোষিতা প্রমাণ করতে তিনি প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনের প্রতি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয় এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণের অপচেষ্টা বন্ধ করা যায়।