
স্টাফ রিপোর্টার: রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক-এর স্টাফ কোয়ার্টার যেন ধীরে ধীরে শৃঙ্খলাহীনতা, অসামাজিক কার্যকলাপ ও নৈতিক অবক্ষয়ের এক ভয়াবহ কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অভিযোগ উপেক্ষিত থাকায় পরিস্থিতি এখন চরম উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। সর্বশেষ এক পরকীয়াজনিত পারিবারিক কলহ পুরো কোয়ার্টারজুড়ে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, কোয়ার্টারের সি-১/৩ নম্বর ভবনের ২য় তলার ফ্ল্যাটে আসলাম উদ্দিন সরকার অফিসার (ক্যাশ) এর বাসায় অবস্থানরত এক ভাড়াটিয়া পরিবারের মধ্যে পরকীয়াকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। তুচ্ছ বাকবিতণ্ডা দ্রুতই ভয়াবহ মারামারিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলে আশঙ্কা করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন সোনালী ব্যাংক স্টাফ কোয়ার্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার বাহিনীর পিসি বেল্লাল হোসেন। তবে তার হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও উত্তেজনা দীর্ঘ সময় ধরে বিরাজ করে,যা কোয়ার্টারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্বার্থে বিষয়টি সমাধান দিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সংশ্লিষ্ট পরিবারের দুই কন্যা সন্তান একজন কিশোরী (প্রায় ১৩ বছর) ও অপরজন অপ্রাপ্তবয়স্ক (৭ বছর) এমন সহিংস পরিবেশের মধ্যে বড় হচ্ছে, যা তাদের মানসিক বিকাশের জন্য মারাত্মক হুমকি। সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের ঘটনাগুলো শিশুদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এদিকে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, কোয়ার্টারের ফ্ল্যাট অবৈধভাবে দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী ও বহিরাগতদের কাছে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। ফলে কোয়ার্টারটি এখন বহিরাগতদের অবাধ বিচরণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে, একই সঙ্গে বেড়েছে মাদকসেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি।
বিশেষ করে এ-১/৮ নম্বর নিচ তলা ফ্ল্যাটে বসবাসরত দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ড্রাইভার আল আমিন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তার বাসায় অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ঘটনার পর বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী-এর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও প্রশ্ন উঠেছে এ ধরনের ঘটনা কেন বারবার ঘটছে।
অন্যদিকে, সোনালী ব্যাংকের এস্টেট ডিভিশনের একটি তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, যা বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যদি দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে এই স্টাফ কোয়ার্টার অচিরেই অসামাজিক কার্যকলাপ, অবৈধ বসবাস ও মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হবে।
তারা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষা ও একটি নিরাপদ, সুস্থ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
Reporter Name 


















