বাংলাদেশ ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ভাড়া বাণিজ্যের মহাকেলেঙ্কারি: কোটি কোটি টাকা গায়েব, প্রশ্নের মুখে সংশ্লিষ্টরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:১৬:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯১ Time View

বিকাল বার্তা প্রতিবেদকঃ সিলেট জেলা স্টেডিয়ামকে ঘিরে ভয়াবহ ভাড়া বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্টেডিয়ামের আড়াই শতাধিক দোকান থেকে প্রতি মাসে কোটি টাকা আদায় হলেও সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে সামান্য অংশ এমন তথ্য সামনে আসায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, স্টেডিয়ামের প্রতিটি দোকান ভাড়া বর্তমানে মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। অথচ স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী পাচ্ছে মাত্র ১ হাজার ২০০ টাকা। বাকি ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা কোথায় যাচ্ছে এই প্রশ্ন এখন সর্বত্র।

সূত্র মতে, স্টেডিয়ামে মোট প্রায় ২২৯টি দোকান রয়েছে। সেই হিসেবে সরকারি হিসেবে মাসে আয় দেখানো হচ্ছে মাত্র ২ লাখ ৭৪ হাজার ৮ শত টাকা। অথচ প্রকৃত আদায়ের হিসাব ধরলে প্রতি মাসে প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ‘উধাও’ হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই বিপুল অর্থ একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভাগ-বাটোয়ারা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হচ্ছে, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দোকান ভাড়া ছিল মাত্র ২৫০ টাকা। সেই সময়েও নাকি একইভাবে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় মাসে প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা পর্যন্ত অনিয়মের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, বছরে ১৩ কোটি ৪০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা এবং ১৭ বছরে প্রায় ২ শত ২৭কোটি ৯৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে, একই সময়ে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে মাত্র বছরে ৩২ লাখ ৯৭ হাজার ৬শত টাকা, যা ১৭ বছরে দাঁড়ায় মাত্র ৫ কোটি ৬০ লাখ ৫৯ হাজার ২০০/ টাকা মোট আদায়ের তুলনায় নগণ্য।

এদিকে, সম্প্রতি জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলম ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এখনো পর্যন্ত এই বিপুল অর্থ কোথায় গেছে, কারা এর সাথে জড়িত তা নিয়ে কোনো স্পষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হোক এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক। অন্যথায়, এই ‘স্টেডিয়াম সিন্ডিকেট’ ভবিষ্যতেও একইভাবে সরকারি অর্থ লুটপাট চালিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

এ ব্যপারে সিলেট জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা নূর হোসেন এই প্রতিবেদক বলেন অনেক আগের লিজ, তাই ইজারাদার কাছ থেকে উদ্ধারের উদ্যোগ নিলেও সম্ভব হচ্ছেনা। ব্যবসায়ীরা রিট করে উদ্ধার পক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে দেয়।

প্রশ্ন এখন একটাই সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের কোটি কোটি টাকার এই হিসাবের জবাব দেবে কে?

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ভাড়া বাণিজ্যের মহাকেলেঙ্কারি: কোটি কোটি টাকা গায়েব, প্রশ্নের মুখে সংশ্লিষ্টরা

Update Time : ০৭:১৬:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

বিকাল বার্তা প্রতিবেদকঃ সিলেট জেলা স্টেডিয়ামকে ঘিরে ভয়াবহ ভাড়া বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্টেডিয়ামের আড়াই শতাধিক দোকান থেকে প্রতি মাসে কোটি টাকা আদায় হলেও সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে সামান্য অংশ এমন তথ্য সামনে আসায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, স্টেডিয়ামের প্রতিটি দোকান ভাড়া বর্তমানে মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। অথচ স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী পাচ্ছে মাত্র ১ হাজার ২০০ টাকা। বাকি ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা কোথায় যাচ্ছে এই প্রশ্ন এখন সর্বত্র।

সূত্র মতে, স্টেডিয়ামে মোট প্রায় ২২৯টি দোকান রয়েছে। সেই হিসেবে সরকারি হিসেবে মাসে আয় দেখানো হচ্ছে মাত্র ২ লাখ ৭৪ হাজার ৮ শত টাকা। অথচ প্রকৃত আদায়ের হিসাব ধরলে প্রতি মাসে প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ‘উধাও’ হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই বিপুল অর্থ একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভাগ-বাটোয়ারা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হচ্ছে, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দোকান ভাড়া ছিল মাত্র ২৫০ টাকা। সেই সময়েও নাকি একইভাবে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় মাসে প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা পর্যন্ত অনিয়মের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, বছরে ১৩ কোটি ৪০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা এবং ১৭ বছরে প্রায় ২ শত ২৭কোটি ৯৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে, একই সময়ে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে মাত্র বছরে ৩২ লাখ ৯৭ হাজার ৬শত টাকা, যা ১৭ বছরে দাঁড়ায় মাত্র ৫ কোটি ৬০ লাখ ৫৯ হাজার ২০০/ টাকা মোট আদায়ের তুলনায় নগণ্য।

এদিকে, সম্প্রতি জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলম ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এখনো পর্যন্ত এই বিপুল অর্থ কোথায় গেছে, কারা এর সাথে জড়িত তা নিয়ে কোনো স্পষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হোক এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক। অন্যথায়, এই ‘স্টেডিয়াম সিন্ডিকেট’ ভবিষ্যতেও একইভাবে সরকারি অর্থ লুটপাট চালিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

এ ব্যপারে সিলেট জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা নূর হোসেন এই প্রতিবেদক বলেন অনেক আগের লিজ, তাই ইজারাদার কাছ থেকে উদ্ধারের উদ্যোগ নিলেও সম্ভব হচ্ছেনা। ব্যবসায়ীরা রিট করে উদ্ধার পক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে দেয়।

প্রশ্ন এখন একটাই সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের কোটি কোটি টাকার এই হিসাবের জবাব দেবে কে?