
আশাহীদ আলী আশা,স্টাফ রিপোর্টার।। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক তৎপরতা। নির্বাচনী হাওয়া বইতে না বইতেই মাঠে নেমেছেন প্রার্থীরা। তাদের মধ্যে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন সোহায়েদ আহমেদ চৌধুরী জুয়েল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিশেষ করে তরুণ ও যুব সমাজের মাঝে তার উপস্থিতি ইতোমধ্যেই ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। স্থানীয়ভাবে একজন হাস্যোজ্জ্বল, মিষ্টভাষী ও সহজ-সরল ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত জুয়েল চৌধুরী। সাধারণ মানুষের সাথে তার সহজ যোগাযোগ ও সম্পর্ক তাকে অন্যান্যদের থেকে আলাদা করেছে। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছেও তিনি আস্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
পারিবারিকভাবেও তিনি একটি রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারক। তার পিতা মরহুম মনির উদ্দীন চৌধুরী এবং মরহুম দাদা আনিস চৌধুরী নবীগঞ্জ পশু হাসপাতালের ভূমি দাতা হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত ছিলেন। এছাড়া তার পরিবারে রয়েছে জনপ্রতিনিধিত্বের দীর্ঘ ইতিহাস- তার বড় ভাই খলিলুর রহমান রফি সাবেক এমপি, এক চাচা কূশি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং অপর চাচা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে শৈশব থেকেই রাজনীতি ও জনসেবার একটি পরিবেশে বেড়ে ওঠেন তিনি।
জুয়েল চৌধুরীর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ছাত্র রাজনীতির হাত ধরে। ১৯৮৭ সালে নবীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে পদার্পণ করেন। এরপর ধাপে ধাপে তিনি উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং বর্তমানে নবীগঞ্জ পৌর বিএনপির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেও তার রয়েছে উল্লেখযোগ্য অবদান। তিনি সাব-রেজিস্টার অফিস জামে মসজিদের সেক্রেটারি, আব্দুল্লাহ ইসমাঈল হিফজুল কোরআন ও এতিমখানার সেক্রেটারি, রাইয়াপুর (বড় বাড়ি) হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার সভাপতি এবং নবীগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার ফলে মানুষের জন্য কাজ করার এক ধরনের দায়বদ্ধতা তৈরি হয়েছে তার মধ্যে। তিনি মনে করেন, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সরাসরি জনগণের সেবা করার সুযোগই একজন রাজনীতিকের সবচেয়ে বড় অর্জন।
নবীগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি কিছুটা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। স্বাস্থ্যখাত, রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধায় এখনও অনেক ঘাটতি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পৌরসভার প্রতিটি এলাকা ঘুরে তিনি মানুষের সমস্যা ও ভোগান্তি কাছ থেকে দেখেছেন। উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে জুয়েল চৌধুরী বলেন, শুধুমাত্র সরকারি বরাদ্দের উপর নির্ভর করে একটি পৌরসভার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা যেমন এডিপি, জাইকা’সহ আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রকল্প আনতে হবে। আর এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। স্বচ্ছতার অভাব হলে ভবিষ্যতে এসব সংস্থা থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নবীগঞ্জের মানুষ শান্তিপ্রিয় হলেও অনেক সময় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হন না। তাই তিনি নির্বাচিত হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জনগণকে সচেতন করে একটি আধুনিক ও উন্নত পৌরসভা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।
নবীগঞ্জ পৌরবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার চেয়েও বেশি কিছু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সোহায়েদ আহমেদ চৌধুরী জুয়েল বলেন, আমি নির্বাচিত হলে নিজেকে পুরোপুরি জনগণের সেবায় নিয়োজিত রাখবো। নবীগঞ্জকে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও উন্নত পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলাই হবে আমার মূল লক্ষ্য। এটাই আমার রাজনৈতিক জীবনের স্বার্থকতা।
আসন্ন পৌর নির্বাচনে তিনি কতটা সফল হন, সেটি সময়ই বলে দেবে। তবে ইতোমধ্যে তার সক্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ততা নবীগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Reporter Name 


















