বাংলাদেশ ১১:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালীগঞ্জে বিদ্যুতের ‘মরণকামড়’: দিনে রাতে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:০৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ১০০ Time View

ক্রাইম রিপোর্টার মোঃ জসিম হোসেন ঝিনাইদহ: তীব্র দাবদাহের মধ্যে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন চরমে পৌঁছেছে। উপজেলায় দিন ও রাত মিলিয়ে গড়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার এই বিরামহীন ‘লুকাচুরি’ খেলায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরের ১ঘণ্টার বেশি অন্ধকার—এমন অসহনীয় রুটিন এখন স্থানীয়দের জীবনে স্থায়ী রূপ নিয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কাজকর্ম, বাড়ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় দেখা দিয়েছে চরম বিঘ্ন।

 

কালীগঞ্জ পৌরসভা ও আশপাশের ইউনিয়নগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিদ্যুতের দেখা পাওয়া যেন এখন ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে ও রাতে সমানতালে লোডশেডিং চলছে। বিশেষ করে রাতে যখন মানুষ সারাদিনের ক্লান্তি শেষে বিশ্রামের প্রস্তুতি নেয়, তখন বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ফলে কারো পক্ষেই শান্তিতে ঘুমানো সম্ভব হচ্ছে না।

 

টানা কয়েকদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা দ্রুত বাড়ছে। পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে কর্মজীবী মানুষের মেজাজ খিটমিটে হয়ে থাকছে, যার প্রভাব পড়ছে তাদের প্রাত্যহিক কাজ ও পারিবারিক জীবনে। গরমে দীর্ঘক্ষণ ঘামানো এবং ঘুমের অভাবে জ্বর, ডিহাইড্রেশন ও উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে। সবথেকে বেশি কষ্টে আছে শিশুরা; গরমে তাদের পড়াশোনায় মন বসছে না এবং রাতে ঘুমাতে না পেরে তারা প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

 

অফিস-আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। কম্পিউটারে কাজ শুরু করতে না করতেই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আটকে থাকছে। বাজার ঘাট ব্যবসায়ীদের বলা হয়েছে, লোডশেডিংয়ের কারণে সন্ধ্যা পরপরই দোকান শো রুম বন্ধ করে দিতে।

 

এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ আক্ষেপ করে বলছেন, বিদ্যুৎ এখন তাদের কাছে ‘অমাবস্যার চাঁদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে এবং অন্তত রাতের বেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা না গেলে ঝিনাইদহ, কালীগঞ্জ বাসীর জনজীবনে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

কালীগঞ্জে বিদ্যুতের ‘মরণকামড়’: দিনে রাতে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন।

Update Time : ০৪:০৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

ক্রাইম রিপোর্টার মোঃ জসিম হোসেন ঝিনাইদহ: তীব্র দাবদাহের মধ্যে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন চরমে পৌঁছেছে। উপজেলায় দিন ও রাত মিলিয়ে গড়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার এই বিরামহীন ‘লুকাচুরি’ খেলায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরের ১ঘণ্টার বেশি অন্ধকার—এমন অসহনীয় রুটিন এখন স্থানীয়দের জীবনে স্থায়ী রূপ নিয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কাজকর্ম, বাড়ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় দেখা দিয়েছে চরম বিঘ্ন।

 

কালীগঞ্জ পৌরসভা ও আশপাশের ইউনিয়নগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিদ্যুতের দেখা পাওয়া যেন এখন ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে ও রাতে সমানতালে লোডশেডিং চলছে। বিশেষ করে রাতে যখন মানুষ সারাদিনের ক্লান্তি শেষে বিশ্রামের প্রস্তুতি নেয়, তখন বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ফলে কারো পক্ষেই শান্তিতে ঘুমানো সম্ভব হচ্ছে না।

 

টানা কয়েকদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা দ্রুত বাড়ছে। পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে কর্মজীবী মানুষের মেজাজ খিটমিটে হয়ে থাকছে, যার প্রভাব পড়ছে তাদের প্রাত্যহিক কাজ ও পারিবারিক জীবনে। গরমে দীর্ঘক্ষণ ঘামানো এবং ঘুমের অভাবে জ্বর, ডিহাইড্রেশন ও উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে। সবথেকে বেশি কষ্টে আছে শিশুরা; গরমে তাদের পড়াশোনায় মন বসছে না এবং রাতে ঘুমাতে না পেরে তারা প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

 

অফিস-আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। কম্পিউটারে কাজ শুরু করতে না করতেই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আটকে থাকছে। বাজার ঘাট ব্যবসায়ীদের বলা হয়েছে, লোডশেডিংয়ের কারণে সন্ধ্যা পরপরই দোকান শো রুম বন্ধ করে দিতে।

 

এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ আক্ষেপ করে বলছেন, বিদ্যুৎ এখন তাদের কাছে ‘অমাবস্যার চাঁদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে এবং অন্তত রাতের বেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা না গেলে ঝিনাইদহ, কালীগঞ্জ বাসীর জনজীবনে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।