বাংলাদেশ ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০০ বছরেও পাকা হয়নি জৈন্তাপুরের রুপচেং গ্রামের প্রধান সড়ক। 

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২০:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • ১৫২ Time View

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জৈন্তাপুর উপজেলা প্রতিনিধি।স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের রুপচেং গ্রামের প্রধান সড়কটি আজও কাঁচা রয়ে গেছে। প্রায় ১০০ বছর আগে নির্মিত ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটি সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন গ্রামের প্রায় ৩ হাজার বাসিন্দা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কাদার কারণে রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল চলাচল প্রায় অসম্ভব। জরুরি রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে অ্যাম্বুলেন্সও এই রাস্তায় ঢুকতে পারে না। বর্ষা মৌসুমে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের হাঁটুপানি ও কাদা মাড়িয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ইনসান আলী বলেন, “দাদার মুখে শুনছি ব্রিটিশ আমলে এই রাস্তা হইছিল। নির্বাচনের আগে সবাই ওয়াদা করে, ভোট শেষে কেউ আর খবর নেয় না। গর্ভবতী মহিলা নিয়া এই রাস্তা দিয়া হাসপাতালে নেওয়ার সময় রাস্তাতেই বাচ্চা হইয়া যায়।”

স্থানীয় কৃষক রফিকুল হক জানান, “ধান-সবজি বাজারে নিতে পারি না। কাদার কারণে রিকশা উল্টায় যায়। ফসলের দাম পাই না। পাকা রাস্তা হইলে আমাদের কষ্ট অর্ধেক কইমা যাইতো।”

এ বিষয়ে রুপচেং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি সিরাজুল হক বলেন, “উন্নয়নের ছোঁয়া সব জায়গায় লাগলেও রুপচেং গ্রাম যেন অন্ধকারেই রয়ে গেছে। ১০০ বছরের পুরান রাস্তা এখনো কাঁচা, এটা আমাদের জন্য লজ্জার। আমরা উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে জোর দাবি জানাই, দ্রুত এই রাস্তাটি পাকা করে এলাকাবাসীকে দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।”

এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি _বিকাল বার্তা_কে বলেন, “রুপচেং গ্রামের রাস্তার বিষয়টি আমার জানা আছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

১০০ বছরেও পাকা হয়নি জৈন্তাপুরের রুপচেং গ্রামের প্রধান সড়ক। 

Update Time : ১০:২০:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জৈন্তাপুর উপজেলা প্রতিনিধি।স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের রুপচেং গ্রামের প্রধান সড়কটি আজও কাঁচা রয়ে গেছে। প্রায় ১০০ বছর আগে নির্মিত ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটি সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন গ্রামের প্রায় ৩ হাজার বাসিন্দা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কাদার কারণে রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল চলাচল প্রায় অসম্ভব। জরুরি রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে অ্যাম্বুলেন্সও এই রাস্তায় ঢুকতে পারে না। বর্ষা মৌসুমে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের হাঁটুপানি ও কাদা মাড়িয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ইনসান আলী বলেন, “দাদার মুখে শুনছি ব্রিটিশ আমলে এই রাস্তা হইছিল। নির্বাচনের আগে সবাই ওয়াদা করে, ভোট শেষে কেউ আর খবর নেয় না। গর্ভবতী মহিলা নিয়া এই রাস্তা দিয়া হাসপাতালে নেওয়ার সময় রাস্তাতেই বাচ্চা হইয়া যায়।”

স্থানীয় কৃষক রফিকুল হক জানান, “ধান-সবজি বাজারে নিতে পারি না। কাদার কারণে রিকশা উল্টায় যায়। ফসলের দাম পাই না। পাকা রাস্তা হইলে আমাদের কষ্ট অর্ধেক কইমা যাইতো।”

এ বিষয়ে রুপচেং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি সিরাজুল হক বলেন, “উন্নয়নের ছোঁয়া সব জায়গায় লাগলেও রুপচেং গ্রাম যেন অন্ধকারেই রয়ে গেছে। ১০০ বছরের পুরান রাস্তা এখনো কাঁচা, এটা আমাদের জন্য লজ্জার। আমরা উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে জোর দাবি জানাই, দ্রুত এই রাস্তাটি পাকা করে এলাকাবাসীকে দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।”

এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি _বিকাল বার্তা_কে বলেন, “রুপচেং গ্রামের রাস্তার বিষয়টি আমার জানা আছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে।”