বাংলাদেশ ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাদা কাগজে লিখিত স্বাক্ষর না দিলে মিলছে না বরাদ্দ? অভিযোগে তোলপাড়

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০৯:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • ৫১ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক⁠�–এর মতিঝিলস্থ স্টাফ কোয়ার্টারে নতুন বরাদ্দ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ কার্যক্রম পুরোপুরি শেষ না হতেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নতুন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র জানায়, নতুন বরাদ্দ পাওয়া কর্মচারীদের কাছ থেকে বাড়ী ভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল নিয়মিত পরিশোধের বিষয়ে অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে। তবে এসব খরচ তাদের বেতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়েও কোয়ার্টারজুড়ে আলোচনা চলছে।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু বরাদ্দপ্রাপ্ত কর্মচারীর কাছ থেকে গ্যাস-বিদ্যুৎ বিলের দায় চাপাতে লিখিত সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। পরে সেই কাগজে অঙ্গীকারনামা যুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, নির্ধারিত ভাড়া বা অন্যান্য বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ব্যাংক হিসাব থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা কেটে নেওয়া হবে। এছাড়া শর্ত ভঙ্গ করলে বরাদ্দ বাতিলের বিধানও রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, অতীতে কিছু বরাদ্দকারী বহিরাগতদের কাছে ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে অর্থ বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে কঠোর অবস্থানের কারণে অনেকে আর বহিরাগতদের কাছে ভাড়া দিতে না পেরে স্বেচ্ছায় ফ্ল্যাট বরাদ্দ নেয় নাই বলেও জানা গেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, এখনও কিছু পুরোনো বরাদ্দকারী গোপনে বহিরাগতদের কাছে ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে অর্থ উপার্জন করছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য,নতুন বরাদ্দ পাওয়া কয়েকজন শুরুতে বহিরাগতদের কাছে ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা করলেও কঠোর নজরদারির কারণে সেই সুযোগ আর পাচ্ছেন না। এতে তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

পাম্প অপারেটর আব্দুর রশিদের আশ্বাস?

একজন ব্যক্তি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আমাদের প্রতিবেদক কে জানান: আব্দুর রশিদ বলেন আমরা বাসা বরাদ্দ পাব ২/১ মাস সময় লাগবে আবার আগের মত হয়ে যাবে, চিন্তার কোন কারণ নেই,এখন একটু কষ্ট হবে,এই আশ্বাস দিচ্ছেন ভাড়াটিয়া ও দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ড্রাইভারদের বলছেন। আব্দুর রশিদ বলেছেন ডিজিএম স্যার,জিএম স্যারের সঙ্গে আমার কথা হয়, জিএম স্যার আমাকে ফোন দেয়।

পাম্প অপারেটর আবদুর রশিদ আরও বলেন কিছুদিনের মধ্যে, জিএম,ডিজিএম,এজিএম ও এসপিও স্যার সহ অনেক জনের প্রমোশন হলে বদলি হয়ে যাবে ২/১ মাস পরে সব কিছু আগের মত হয়ে যাবে চিন্তার কোন কারন নেই।

 

অন্যদিকে, স্টাফ কোয়ার্টারে দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক মজুরিভিত্তিক কিছু কর্মচারী ও বহিরাগতরা তালা ভেঙে বসবাস করলেও তাদের কাছ থেকে সরকারি রাজস্ব আদায়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারের বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া বহিরাগত ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার সময় অনেক ভাড়াটিয়া ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

 

এদিকে কোয়ার্টারকেন্দ্রিক আলোচিত ব্যক্তি আব্দুর রশিদের নামও আবার সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে বহিরাগতদের কাছে ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে তিনি একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে তুলেছিলেন। বর্তমানে উচ্ছেদ হওয়া কিছু দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী ও ভাড়াটিয়াদের তিনি “দুই-তিন মাস পরে আবার সুযোগ হবে” বলে আশ্বাস দিচ্ছেন বলেও একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

সাদা কাগজে লিখিত স্বাক্ষর না দিলে মিলছে না বরাদ্দ? অভিযোগে তোলপাড়

Update Time : ০৮:০৯:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক⁠�–এর মতিঝিলস্থ স্টাফ কোয়ার্টারে নতুন বরাদ্দ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ কার্যক্রম পুরোপুরি শেষ না হতেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নতুন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র জানায়, নতুন বরাদ্দ পাওয়া কর্মচারীদের কাছ থেকে বাড়ী ভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল নিয়মিত পরিশোধের বিষয়ে অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে। তবে এসব খরচ তাদের বেতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়েও কোয়ার্টারজুড়ে আলোচনা চলছে।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু বরাদ্দপ্রাপ্ত কর্মচারীর কাছ থেকে গ্যাস-বিদ্যুৎ বিলের দায় চাপাতে লিখিত সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। পরে সেই কাগজে অঙ্গীকারনামা যুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, নির্ধারিত ভাড়া বা অন্যান্য বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ব্যাংক হিসাব থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা কেটে নেওয়া হবে। এছাড়া শর্ত ভঙ্গ করলে বরাদ্দ বাতিলের বিধানও রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, অতীতে কিছু বরাদ্দকারী বহিরাগতদের কাছে ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে অর্থ বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে কঠোর অবস্থানের কারণে অনেকে আর বহিরাগতদের কাছে ভাড়া দিতে না পেরে স্বেচ্ছায় ফ্ল্যাট বরাদ্দ নেয় নাই বলেও জানা গেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, এখনও কিছু পুরোনো বরাদ্দকারী গোপনে বহিরাগতদের কাছে ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে অর্থ উপার্জন করছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য,নতুন বরাদ্দ পাওয়া কয়েকজন শুরুতে বহিরাগতদের কাছে ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা করলেও কঠোর নজরদারির কারণে সেই সুযোগ আর পাচ্ছেন না। এতে তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

পাম্প অপারেটর আব্দুর রশিদের আশ্বাস?

একজন ব্যক্তি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আমাদের প্রতিবেদক কে জানান: আব্দুর রশিদ বলেন আমরা বাসা বরাদ্দ পাব ২/১ মাস সময় লাগবে আবার আগের মত হয়ে যাবে, চিন্তার কোন কারণ নেই,এখন একটু কষ্ট হবে,এই আশ্বাস দিচ্ছেন ভাড়াটিয়া ও দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ড্রাইভারদের বলছেন। আব্দুর রশিদ বলেছেন ডিজিএম স্যার,জিএম স্যারের সঙ্গে আমার কথা হয়, জিএম স্যার আমাকে ফোন দেয়।

পাম্প অপারেটর আবদুর রশিদ আরও বলেন কিছুদিনের মধ্যে, জিএম,ডিজিএম,এজিএম ও এসপিও স্যার সহ অনেক জনের প্রমোশন হলে বদলি হয়ে যাবে ২/১ মাস পরে সব কিছু আগের মত হয়ে যাবে চিন্তার কোন কারন নেই।

 

অন্যদিকে, স্টাফ কোয়ার্টারে দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক মজুরিভিত্তিক কিছু কর্মচারী ও বহিরাগতরা তালা ভেঙে বসবাস করলেও তাদের কাছ থেকে সরকারি রাজস্ব আদায়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারের বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া বহিরাগত ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার সময় অনেক ভাড়াটিয়া ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

 

এদিকে কোয়ার্টারকেন্দ্রিক আলোচিত ব্যক্তি আব্দুর রশিদের নামও আবার সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে বহিরাগতদের কাছে ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে তিনি একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে তুলেছিলেন। বর্তমানে উচ্ছেদ হওয়া কিছু দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী ও ভাড়াটিয়াদের তিনি “দুই-তিন মাস পরে আবার সুযোগ হবে” বলে আশ্বাস দিচ্ছেন বলেও একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।