বাংলাদেশ ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশুকে ফেলে মায়ের উধাও, চিকিৎসা চলছে সরকারি তত্ত্বাবধানে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • ৫৯ Time View

তানজিল হোসেন || ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ১০০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হৃদয়বিদারক এক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন এক মা। মাত্র তিন মাস বয়সী অসুস্থ শিশুকে হাসপাতালে রেখে হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে পরিচয়হীন শিশুটি হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পাশাপাশি শিশুটির দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়।

 

গত ৮ মে (শুক্রবার) বিকেল ৪টার দিকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। তবে হাসপাতাল সূত্র জানায়, এক নারী অসুস্থ শিশুটিকে হাসপাতালের মেঝেতে অন্য এক রোগীর পাশে শুইয়ে রেখে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন। শুরুতে উপস্থিত কেউ বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও কিছু সময় পার হওয়ার পর শিশুটির পাশে কোনো স্বজনকে না দেখে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ওই নারীকে খুঁজেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

 

পরিস্থিতি বুঝতে পেরে হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সরা শিশুটিকে নিজেদের তত্ত্বাবধানে নিয়ে তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা শুরু করেন। বর্তমানে শিশুটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।

 

চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স আল মামুন বলেন, “শিশুটির সঙ্গে কোনো স্বজন পাওয়া যায়নি। আমরা সরকারি ব্যবস্থাপনায় তার চিকিৎসা নিশ্চিত করেছি। একইসঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপও নেওয়া হবে।”

 

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুন হোসেইন বেলন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির খোঁজখবর নেন।উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুন হোসেইন বেলন গণমাধ্যমকে বলেন, “শিশুটির সার্বক্ষণিক দেখভাল করা হচ্ছে। তার চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তায় কোনো ঘাটতি রাখা হবে না।”

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে এসে শিশুটির অবস্থা পরিদর্শন করেছি। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। সমাজসেবা বিভাগকে শিশুটির দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার পরিবারের সন্ধানেও কাজ চলছে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

শিশুকে ফেলে মায়ের উধাও, চিকিৎসা চলছে সরকারি তত্ত্বাবধানে

Update Time : ০৬:১৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

তানজিল হোসেন || ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ১০০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হৃদয়বিদারক এক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন এক মা। মাত্র তিন মাস বয়সী অসুস্থ শিশুকে হাসপাতালে রেখে হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে পরিচয়হীন শিশুটি হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পাশাপাশি শিশুটির দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়।

 

গত ৮ মে (শুক্রবার) বিকেল ৪টার দিকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। তবে হাসপাতাল সূত্র জানায়, এক নারী অসুস্থ শিশুটিকে হাসপাতালের মেঝেতে অন্য এক রোগীর পাশে শুইয়ে রেখে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন। শুরুতে উপস্থিত কেউ বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও কিছু সময় পার হওয়ার পর শিশুটির পাশে কোনো স্বজনকে না দেখে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ওই নারীকে খুঁজেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

 

পরিস্থিতি বুঝতে পেরে হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সরা শিশুটিকে নিজেদের তত্ত্বাবধানে নিয়ে তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা শুরু করেন। বর্তমানে শিশুটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।

 

চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স আল মামুন বলেন, “শিশুটির সঙ্গে কোনো স্বজন পাওয়া যায়নি। আমরা সরকারি ব্যবস্থাপনায় তার চিকিৎসা নিশ্চিত করেছি। একইসঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপও নেওয়া হবে।”

 

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুন হোসেইন বেলন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির খোঁজখবর নেন।উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুন হোসেইন বেলন গণমাধ্যমকে বলেন, “শিশুটির সার্বক্ষণিক দেখভাল করা হচ্ছে। তার চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তায় কোনো ঘাটতি রাখা হবে না।”

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে এসে শিশুটির অবস্থা পরিদর্শন করেছি। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। সমাজসেবা বিভাগকে শিশুটির দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার পরিবারের সন্ধানেও কাজ চলছে।”