বাংলাদেশ ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গত আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলা তান্ত্রিক বেড়াজালে পি ডাব্লিউ ডি সিডিউল রেট!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • ১৯ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক: গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতাধীন ইলেকট্রিক্যাল ঠিকাদারদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির সমাধানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে “বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল কন্ট্রাক্টরস এসোসিয়েশন (পি ডব্লিউ ডি)”। সংগঠনের পক্ষ থেকে মাননীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপিতে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ডলারের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কারণে ইলেকট্রিক্যাল পণ্য ও যন্ত্রাংশের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম সিডিউল রেট ২০২২ সালের পর আর সংশোধন করা হয়নি। ফলে বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সরকারি সিডিউল রেটের ব্যাপক ব্যবধান তৈরি হয়েছে এবং ঠিকাদাররা লোকসান গুনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

 

স্মারকলিপিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সিডিউল রেট সংশোধনের ক্ষমতা অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হয়েছে। এতে কাজের মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতির ঝুঁকিও বাড়ছে। সংগঠনটি সিডিউল রেট সংশোধনের ক্ষমতা পুনরায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানায়।

এছাড়া কাজের ভ্যাট-ট্যাক্স চুক্তিপত্র সম্পাদিত অর্থবছর অনুযায়ী নির্ধারণ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত “প্যাকেজ টেন্ডার” ও “ফ্রেমওয়ার্ক টেন্ডার” বাতিল, নির্দিষ্ট কোম্পানির পণ্য ব্যবহারে বাধ্য না করা, ডিভিশনভিত্তিক নতুন নবায়ন ফি প্রত্যাহার এবং প্রতিটি ডিভিশনে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়।

 

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আগাম টেন্ডার ডেকে বছরের পর বছর পরে কাজ শুরু হওয়ায় বাজারদর ও সিডিউল দরের মধ্যে বিশাল পার্থক্য তৈরি হয়, যা ঠিকাদারদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ডিভিশনে বছরের পর বছর বকেয়া বিল পরিশোধ না হওয়ায় সাধারণ ঠিকাদাররা চরম সংকটে পড়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

 

উত্থাপিত দাবি সমূহ: 

০১. সিডিউল রেট সংশোধন করতে হবে: বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ইলেকট্রিক্যাল পণ্য, যন্ত্রাংশ তথা সামগ্রিক পণ্যের দাম লাগামহীন ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডলারের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য ও অন্যান্য চার্জ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে প্রতি বছর অস্বাভাবিক মুদ্রাস্ফীতির ফলে সকল পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু গণপূর্ত অধিদপ্তর ই/এম এর সিডিউল রেট ২০২২ সালের পর থেকে আর বৃদ্ধি পাচ্ছে না। এখনও ২০২২ সালের সিডিউল রেট-এ ঠিকাদারদের কাজ করতে হচ্ছে, যা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বর্তমান বাজার দর এবং পি.ডব্লিউ.ডি এর সিডিউল দর এর দিকে দৃষ্টি দিলেই তা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, সিডিউল রেট সংশোধনের কথা বললে ডিপার্টমেন্টের অনেকে অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সিডিউল রেট-এ ঠিকাদারগণ এখনও লেছ (Less) দিয়ে কাজ করেন। সেই ক্ষেত্রে সিডিউল রেট সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা কোথায়? যারা এই ধরণের প্রশ্ন তুলে সিডিউল রেট সংশোধনের বিরোধিতা করেন, তাদের জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে যে, একটা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে বছরের পর বছর সময় লাগে। আস্তে আস্তে প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা এবং টার্ন ওভার বৃদ্ধি পায় যা একটা প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোন প্রতিষ্ঠান যদি সিডিউল রেট এর কারণে টেন্ডারে অংশগ্রহণ না করে তবে সেই প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা এবং টার্ন ওভার দুই ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পাঁচ বৎসর যদি কোন প্রতিষ্ঠান কাজ না করে তবে ঐ প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যায়। এছাড়াও বর্তমানে ঠিকাদার প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ঠিকাদারগণ তার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে ব্যাপক লোকসান দিয়ে বর্তমানে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

০২. আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বনাম সিডিউল রেট: বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমালে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সিডিউল রেট পরিবর্তন, পরিবর্ধন তথা সিডিউল রেট সংশোধনের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে ন্যস্ত করা হয়। যা পূর্বে গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতাধীন ছিল। ফলশ্রুতিতে সিডিউল রেট সংশোধনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সূত্রিতা তৈরি হয়। ফলস্বরুপ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঠিকাদারদের এখনো ২০২২ সালের সিডিউল রেটে কাজ করতে হচ্ছে যা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এতে কাজের গুণগত মান হ্রাস পাচ্ছে ও সেই সাথে দুর্নীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে দেশ ও জাতি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অবিলম্বে সিডিউল রেট সংশোধনের কাজ পূর্বের ন্যয় গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতাধীন করার জোর দাবি জানাচ্ছি। এর ফলে দীর্ঘ সুত্রিতার অবসান হবে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস পাবে। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ণের মান বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ণের অংশীদার ঠিকাদার সমাজ ব্যাপক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।

 

০৩. কাজের ভ্যাট-ট্যাক্স চুক্তিপত্রের অর্থ বছর অনুযায়ী হতে হবে: টেন্ডার প্রক্রিয়ার শেষে একজন ঠিকাদারকে কাজ শুরু করার আগ পর্যন্ত ১টি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে যেতে হয়। কাজের ধরণ অনুযায়ী কাজ শেষ হতেও যথেষ্ট সময় প্রয়োজন হয়। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, কাজের চলমান সময় বা বিলের সময় অন্য অর্থ বছর চলে আসে সেক্ষেত্রে নতুন অর্থ বছর অনুযায়ী নতুন ভ্যাট-ট্যাক্স প্রদান করতে হয়। যা কোন ভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। এটা রক্ত চোষা নীতি। এতে ঠিকাদার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অবিলম্বে এই চক্ত চোষা নীতি বন্ধ করতে হবে। ক্রমবর্ধমানশীল অর্থনীতির এই দেশে প্রতি বছর ভ্যাট-ট্যাক্স বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের জোর দাবি থাকবে কোন কাজের চুক্তিপত্র যে অর্থ বছরে সম্পাদিত হবে ঐ অর্থ বছর অনুযায়ী সেই কাজের ভ্যাট-ট্যাক্স নির্ধারণ করতে হবে।

 

০৪. ‘প্যাকেজ টেন্ডার’ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে: ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ই/এম ডিপার্টমেন্টের প্রায় প্রজেক্টে ও বিশেষ বরাদ্দের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে প্যাকেজ টেন্ডার এর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভিন্ন নেচারের কয়েকটি কাজকে একসাথে জুড়ে তৈরি হয় এই প্যাকেজ। সেই ক্ষেত্রে টেন্ডার এর শর্তসমূহ এমনভাবে সাজানো হয় যাতে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোন প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করতে না পারে। উদ্দেশ্য প্রণোদিত এই প্যাকেজ টেন্ডার এর ফলে সাধারণ ঠিকাদারগণ বঞ্চিত হচ্ছে, যা প্রতিযোগিতামূলক দরের পরিপন্থী। এই ‘প্যাকেজ টেন্ডার’ প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

 

০৫. নির্দিষ্ট কোম্পানির পণ্য কিনতে বাধ্য করা যাবে না: সিডিউল মূল্য তালিকা হতে যে সকল পণ্যের বাজার দর বেশি সেই সকল পণ্য দিয়ে কিভাবে কাজ করা সম্ভব? ডিপার্টমেন্ট এর সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি প্রশ্ন রেখে গেলাম। কোন আইটেমের কাজের ক্ষেত্রে সিডিউলে চার পাঁচ কোম্পানির মাল লিপিবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট এক কোম্পানির মালের জন্য ঠিকাদারকে বাধ্য করা যাবে না। অবিলম্বে সিডিউল রেট সংশোধন করা হোক অন্যথায় যে সকল পণ্যের বাজার দর সিডিউল দর হতে বেশি, সেই সকল পণ্য ঠিকাদারদের উপর না চাপিয়ে সিডিউল দরের ভেতর অন্য কোম্পানীর উন্নত পণ্য সিডিউল এ তালিকাভুক্ত করা হোক।

০৬. নতুন সংযোজিত তালিকাভূক্তি ও নবায়ন ফি বাতিল করতে হবে: বর্তমানে এলটিএম তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে একটি সার্কেল এর অধীন ৩ (তিন) টি ডিভিশনে আলাদা আলাদা ভাবে নবায়ন ফি জমা দিতে হয়। যা অতীতে ছিল না এবং বর্তমানেও গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে নতুন সংযুক্ত ডিভিশন ওয়াইজ যে’ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে তা বাতিল করতে হবে।

০৭. প্রতি ডিভিশনের বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে: গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনস্থ প্রতিটি ডিভিশনে সেই প্রাচীনকাল থেকে যে বরাদ্দ প্রদান করা হচ্ছে তা বর্তমানে অপ্রতুল ও নগণ্য। বর্তমান সময়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন জায়গায় আবাসিক স্থাপনা, অফিস, আদালত, হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুনভাবে তৈরি হওয়া এইসব স্থাপনাগুলি সুষ্ঠ রক্ষণা-বেক্ষণ করার জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন। বিষয়টি মাঠ পর্যায়ে জরিপ করে প্রতিটি বিভাগকে সুষ্ঠ রক্ষণা-বেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদান করার জোর দাবী জানাচ্ছি।

০৮. “ফ্রেমওয়ার্ক টেন্ডার” বন্ধ করতে হবে: “ফ্রেমওয়ার্ক টেন্ডার” প্রক্রিয়ায় একজন ঠিকাদার এক বৎসরের জন্য একটি ডিভিশনের সমস্ত সাপ্লাই এর মালামাল সরবরাহ করবে। এই প্রক্রিয়ার ফলে অন্যান্য ঠিকাদার বঞ্চিত হবে। ঘনবসতিপূর্ণ আমাদের দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমানো কোন ভাবেই যুক্তিসংগত নয়। এ প্রক্রিয়া চালু করার যে প্রক্রিয়া চলছে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

৯. আগাম টেন্ডার বন্ধ করতে হবে: প্রায়ই দেখা যায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন ডিভিশনের প্রোজেক্ট-এর টেন্ডারগুলো সিভিল টেন্ডার হওয়ার পর পরই ই/এম এর টেন্ডার কল করা হয়। বাস্তবে ই/এম এর কাজ শুরু হয় সিভিল এর কাজ এর শেষ পর্যায়ে। একটি প্রোজেক্টের সিভিল এর কাজ ২ বছর থেকে শুরু করে প্রোজেক্ট ভেদে ৪-৫ বছর ধরে চলে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে সিভিল টেন্ডার এর পর পর ই/এম এর টেন্ডার কল করে ফেলে। বাধ্য হয়ে ঠিকাদারদের সেই টেন্ডার এ অংশ নিতে হয়। প্রজেক্ট ভেদে ওই কাজ শুরু হয় ২ থেকে ৫ বছর পর। টেন্ডার কল করার সময় মালের শিডিউল দর এবং কাজ শুরুর সময় মালের বাজার দরে তখন বিরাট ব্যবধান দেখা যায়। এর ফলে ঠিকাদারগন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অবিলম্বে এই আগাম টেন্ডার প্রক্রিয়া বন্ধ করে যথাসময়ে টেন্ডার কল করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

১০. বকেয়া বিল পরিশোধ করতে হবে: গণপূর্ত ই/এম এর প্রায় সকল ডিভিশনে (২/১টা) ডিভিশন ছাড়া বরাদ্দের পরিমান হতে অতিরিক্ত কাজ করায় ব্যাপক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলস্বরূপ বকেয়া বিলের পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনও কিছু বিল আছে যা ৭-৮ বছরেও পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয় নাই। ফলে সাধারণ ঠিকাদারগণ আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। অবিলম্বে এই বকেয়া বিল পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে। উল্লেখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আপনার সদয় দৃষ্টি কামনা করছি। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়নের অংশীদার এই ঠিকাদার সমাজের সমস্যা গুলো যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সৃষ্ট অতি দ্রুত সমাধান করে, দুর্নীতিমুক্ত দেশ ও আধুনিক শক্তিশালী অবকাঠামো বিনির্মাণে তথা দেশ ও জাতির উন্নয়নে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।

সংগঠনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা এবং মহাসচিব সাইফুল্লাহ খান স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, ঠিকাদার সমাজ দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাই তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করে দুর্নীতিমুক্ত, আধুনিক ও শক্তিশালী অবকাঠামো নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

স্মারকলিপির অনুলিপি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

গত আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলা তান্ত্রিক বেড়াজালে পি ডাব্লিউ ডি সিডিউল রেট!

Update Time : ০৮:০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতাধীন ইলেকট্রিক্যাল ঠিকাদারদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির সমাধানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে “বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল কন্ট্রাক্টরস এসোসিয়েশন (পি ডব্লিউ ডি)”। সংগঠনের পক্ষ থেকে মাননীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপিতে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ডলারের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কারণে ইলেকট্রিক্যাল পণ্য ও যন্ত্রাংশের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম সিডিউল রেট ২০২২ সালের পর আর সংশোধন করা হয়নি। ফলে বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সরকারি সিডিউল রেটের ব্যাপক ব্যবধান তৈরি হয়েছে এবং ঠিকাদাররা লোকসান গুনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

 

স্মারকলিপিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সিডিউল রেট সংশোধনের ক্ষমতা অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হয়েছে। এতে কাজের মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতির ঝুঁকিও বাড়ছে। সংগঠনটি সিডিউল রেট সংশোধনের ক্ষমতা পুনরায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানায়।

এছাড়া কাজের ভ্যাট-ট্যাক্স চুক্তিপত্র সম্পাদিত অর্থবছর অনুযায়ী নির্ধারণ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত “প্যাকেজ টেন্ডার” ও “ফ্রেমওয়ার্ক টেন্ডার” বাতিল, নির্দিষ্ট কোম্পানির পণ্য ব্যবহারে বাধ্য না করা, ডিভিশনভিত্তিক নতুন নবায়ন ফি প্রত্যাহার এবং প্রতিটি ডিভিশনে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়।

 

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আগাম টেন্ডার ডেকে বছরের পর বছর পরে কাজ শুরু হওয়ায় বাজারদর ও সিডিউল দরের মধ্যে বিশাল পার্থক্য তৈরি হয়, যা ঠিকাদারদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ডিভিশনে বছরের পর বছর বকেয়া বিল পরিশোধ না হওয়ায় সাধারণ ঠিকাদাররা চরম সংকটে পড়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

 

উত্থাপিত দাবি সমূহ: 

০১. সিডিউল রেট সংশোধন করতে হবে: বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ইলেকট্রিক্যাল পণ্য, যন্ত্রাংশ তথা সামগ্রিক পণ্যের দাম লাগামহীন ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডলারের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য ও অন্যান্য চার্জ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে প্রতি বছর অস্বাভাবিক মুদ্রাস্ফীতির ফলে সকল পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু গণপূর্ত অধিদপ্তর ই/এম এর সিডিউল রেট ২০২২ সালের পর থেকে আর বৃদ্ধি পাচ্ছে না। এখনও ২০২২ সালের সিডিউল রেট-এ ঠিকাদারদের কাজ করতে হচ্ছে, যা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বর্তমান বাজার দর এবং পি.ডব্লিউ.ডি এর সিডিউল দর এর দিকে দৃষ্টি দিলেই তা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, সিডিউল রেট সংশোধনের কথা বললে ডিপার্টমেন্টের অনেকে অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সিডিউল রেট-এ ঠিকাদারগণ এখনও লেছ (Less) দিয়ে কাজ করেন। সেই ক্ষেত্রে সিডিউল রেট সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা কোথায়? যারা এই ধরণের প্রশ্ন তুলে সিডিউল রেট সংশোধনের বিরোধিতা করেন, তাদের জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে যে, একটা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে বছরের পর বছর সময় লাগে। আস্তে আস্তে প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা এবং টার্ন ওভার বৃদ্ধি পায় যা একটা প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোন প্রতিষ্ঠান যদি সিডিউল রেট এর কারণে টেন্ডারে অংশগ্রহণ না করে তবে সেই প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা এবং টার্ন ওভার দুই ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পাঁচ বৎসর যদি কোন প্রতিষ্ঠান কাজ না করে তবে ঐ প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যায়। এছাড়াও বর্তমানে ঠিকাদার প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ঠিকাদারগণ তার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে ব্যাপক লোকসান দিয়ে বর্তমানে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

০২. আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বনাম সিডিউল রেট: বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমালে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সিডিউল রেট পরিবর্তন, পরিবর্ধন তথা সিডিউল রেট সংশোধনের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে ন্যস্ত করা হয়। যা পূর্বে গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতাধীন ছিল। ফলশ্রুতিতে সিডিউল রেট সংশোধনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সূত্রিতা তৈরি হয়। ফলস্বরুপ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঠিকাদারদের এখনো ২০২২ সালের সিডিউল রেটে কাজ করতে হচ্ছে যা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এতে কাজের গুণগত মান হ্রাস পাচ্ছে ও সেই সাথে দুর্নীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে দেশ ও জাতি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অবিলম্বে সিডিউল রেট সংশোধনের কাজ পূর্বের ন্যয় গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতাধীন করার জোর দাবি জানাচ্ছি। এর ফলে দীর্ঘ সুত্রিতার অবসান হবে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস পাবে। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ণের মান বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ণের অংশীদার ঠিকাদার সমাজ ব্যাপক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।

 

০৩. কাজের ভ্যাট-ট্যাক্স চুক্তিপত্রের অর্থ বছর অনুযায়ী হতে হবে: টেন্ডার প্রক্রিয়ার শেষে একজন ঠিকাদারকে কাজ শুরু করার আগ পর্যন্ত ১টি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে যেতে হয়। কাজের ধরণ অনুযায়ী কাজ শেষ হতেও যথেষ্ট সময় প্রয়োজন হয়। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, কাজের চলমান সময় বা বিলের সময় অন্য অর্থ বছর চলে আসে সেক্ষেত্রে নতুন অর্থ বছর অনুযায়ী নতুন ভ্যাট-ট্যাক্স প্রদান করতে হয়। যা কোন ভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। এটা রক্ত চোষা নীতি। এতে ঠিকাদার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অবিলম্বে এই চক্ত চোষা নীতি বন্ধ করতে হবে। ক্রমবর্ধমানশীল অর্থনীতির এই দেশে প্রতি বছর ভ্যাট-ট্যাক্স বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের জোর দাবি থাকবে কোন কাজের চুক্তিপত্র যে অর্থ বছরে সম্পাদিত হবে ঐ অর্থ বছর অনুযায়ী সেই কাজের ভ্যাট-ট্যাক্স নির্ধারণ করতে হবে।

 

০৪. ‘প্যাকেজ টেন্ডার’ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে: ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ই/এম ডিপার্টমেন্টের প্রায় প্রজেক্টে ও বিশেষ বরাদ্দের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে প্যাকেজ টেন্ডার এর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভিন্ন নেচারের কয়েকটি কাজকে একসাথে জুড়ে তৈরি হয় এই প্যাকেজ। সেই ক্ষেত্রে টেন্ডার এর শর্তসমূহ এমনভাবে সাজানো হয় যাতে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোন প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করতে না পারে। উদ্দেশ্য প্রণোদিত এই প্যাকেজ টেন্ডার এর ফলে সাধারণ ঠিকাদারগণ বঞ্চিত হচ্ছে, যা প্রতিযোগিতামূলক দরের পরিপন্থী। এই ‘প্যাকেজ টেন্ডার’ প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

 

০৫. নির্দিষ্ট কোম্পানির পণ্য কিনতে বাধ্য করা যাবে না: সিডিউল মূল্য তালিকা হতে যে সকল পণ্যের বাজার দর বেশি সেই সকল পণ্য দিয়ে কিভাবে কাজ করা সম্ভব? ডিপার্টমেন্ট এর সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি প্রশ্ন রেখে গেলাম। কোন আইটেমের কাজের ক্ষেত্রে সিডিউলে চার পাঁচ কোম্পানির মাল লিপিবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট এক কোম্পানির মালের জন্য ঠিকাদারকে বাধ্য করা যাবে না। অবিলম্বে সিডিউল রেট সংশোধন করা হোক অন্যথায় যে সকল পণ্যের বাজার দর সিডিউল দর হতে বেশি, সেই সকল পণ্য ঠিকাদারদের উপর না চাপিয়ে সিডিউল দরের ভেতর অন্য কোম্পানীর উন্নত পণ্য সিডিউল এ তালিকাভুক্ত করা হোক।

০৬. নতুন সংযোজিত তালিকাভূক্তি ও নবায়ন ফি বাতিল করতে হবে: বর্তমানে এলটিএম তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে একটি সার্কেল এর অধীন ৩ (তিন) টি ডিভিশনে আলাদা আলাদা ভাবে নবায়ন ফি জমা দিতে হয়। যা অতীতে ছিল না এবং বর্তমানেও গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে নতুন সংযুক্ত ডিভিশন ওয়াইজ যে’ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে তা বাতিল করতে হবে।

০৭. প্রতি ডিভিশনের বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে: গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনস্থ প্রতিটি ডিভিশনে সেই প্রাচীনকাল থেকে যে বরাদ্দ প্রদান করা হচ্ছে তা বর্তমানে অপ্রতুল ও নগণ্য। বর্তমান সময়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন জায়গায় আবাসিক স্থাপনা, অফিস, আদালত, হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুনভাবে তৈরি হওয়া এইসব স্থাপনাগুলি সুষ্ঠ রক্ষণা-বেক্ষণ করার জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন। বিষয়টি মাঠ পর্যায়ে জরিপ করে প্রতিটি বিভাগকে সুষ্ঠ রক্ষণা-বেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদান করার জোর দাবী জানাচ্ছি।

০৮. “ফ্রেমওয়ার্ক টেন্ডার” বন্ধ করতে হবে: “ফ্রেমওয়ার্ক টেন্ডার” প্রক্রিয়ায় একজন ঠিকাদার এক বৎসরের জন্য একটি ডিভিশনের সমস্ত সাপ্লাই এর মালামাল সরবরাহ করবে। এই প্রক্রিয়ার ফলে অন্যান্য ঠিকাদার বঞ্চিত হবে। ঘনবসতিপূর্ণ আমাদের দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমানো কোন ভাবেই যুক্তিসংগত নয়। এ প্রক্রিয়া চালু করার যে প্রক্রিয়া চলছে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

৯. আগাম টেন্ডার বন্ধ করতে হবে: প্রায়ই দেখা যায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন ডিভিশনের প্রোজেক্ট-এর টেন্ডারগুলো সিভিল টেন্ডার হওয়ার পর পরই ই/এম এর টেন্ডার কল করা হয়। বাস্তবে ই/এম এর কাজ শুরু হয় সিভিল এর কাজ এর শেষ পর্যায়ে। একটি প্রোজেক্টের সিভিল এর কাজ ২ বছর থেকে শুরু করে প্রোজেক্ট ভেদে ৪-৫ বছর ধরে চলে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে সিভিল টেন্ডার এর পর পর ই/এম এর টেন্ডার কল করে ফেলে। বাধ্য হয়ে ঠিকাদারদের সেই টেন্ডার এ অংশ নিতে হয়। প্রজেক্ট ভেদে ওই কাজ শুরু হয় ২ থেকে ৫ বছর পর। টেন্ডার কল করার সময় মালের শিডিউল দর এবং কাজ শুরুর সময় মালের বাজার দরে তখন বিরাট ব্যবধান দেখা যায়। এর ফলে ঠিকাদারগন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অবিলম্বে এই আগাম টেন্ডার প্রক্রিয়া বন্ধ করে যথাসময়ে টেন্ডার কল করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

১০. বকেয়া বিল পরিশোধ করতে হবে: গণপূর্ত ই/এম এর প্রায় সকল ডিভিশনে (২/১টা) ডিভিশন ছাড়া বরাদ্দের পরিমান হতে অতিরিক্ত কাজ করায় ব্যাপক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলস্বরূপ বকেয়া বিলের পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনও কিছু বিল আছে যা ৭-৮ বছরেও পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয় নাই। ফলে সাধারণ ঠিকাদারগণ আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। অবিলম্বে এই বকেয়া বিল পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে। উল্লেখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আপনার সদয় দৃষ্টি কামনা করছি। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়নের অংশীদার এই ঠিকাদার সমাজের সমস্যা গুলো যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সৃষ্ট অতি দ্রুত সমাধান করে, দুর্নীতিমুক্ত দেশ ও আধুনিক শক্তিশালী অবকাঠামো বিনির্মাণে তথা দেশ ও জাতির উন্নয়নে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।

সংগঠনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা এবং মহাসচিব সাইফুল্লাহ খান স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, ঠিকাদার সমাজ দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাই তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করে দুর্নীতিমুক্ত, আধুনিক ও শক্তিশালী অবকাঠামো নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

স্মারকলিপির অনুলিপি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।