
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রায়ত্ত Sonali Bank PLC-এর স্টাফ কোয়ার্টার ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ দখল, অনিয়ম ও রাজস্ব লুটপাটের অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, এস্টেট ডিভিশনের প্রভাবশালী কিছু কর্মকর্তা,বিশেষ করে ডিজিএম ও জিএম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় বহাল তবিয়তে রয়েছেন একাধিক অবৈধ দখলদার।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ডিজিএম,ডিজিএম-এর সেলটারে পাম্প অপারেটর আব্দুর রশিদ,জসিম, সোহেল,আলামিন,ফারুক, সিদ্দিক,সহ অন্যান্য ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্টদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে সরকারি কোয়ার্টার তালা ভেঙ্গে দখল করে রেখেও কোনো ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তাদের বিরুদ্ধে। বরং এস্টেট ডিভিশনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নীরব সমর্থনেই তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
নতুন করে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, সোনালী ব্যাংক পরিবহন বিভাগের সভাপতি মোস্তফা গাজীর কোয়াটারে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দৈনিক মজুরিভিত্তিক কয়েকজন ড্রাইভার ও অন্যান্য কর্মচারীকেও কোয়ার্টারে অবৈধভাবে থাকার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ পরিচয়ের সূত্র ব্যবহার করে এসব অবৈধ দখলদারকে সুরক্ষা দিয়ে আসছেন তিনি।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একাধিকবার নোটিশ জারি করলেও রহস্যজনক কারণে এখনো দখল ছাড়েননি অভিযুক্তরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, জিএম ও ডিসিএম পর্যায়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই এসব দখলদার বহাল রয়েছেন। এতে একদিকে যেমন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাসা ছাড়ছেন না, অন্যদিকে রাষ্ট্র হারাচ্ছে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব।
অভিযোগ উঠেছে, দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীরা প্রায় চার বছর ধরে সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করলেও তাদের বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল বহন করেছে ব্যাংক। ফলে কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ক্ষতির দায় কার সেই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
এদিকে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও’র পক্ষ থেকে কোয়ার্টার অবৈধ দখলমুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। বরং নির্দেশ অমান্য করে প্রভাব খাটিয়ে এখনো বহাল রয়েছে অবৈধ দখলদার চক্ররা ।
এদিকে অফিসাররা মতিঝিলস্থ কোয়ার্টারে থাকার কোন আইন নেই তাদের জন্য অফিসার কোয়াটার আছে,সেখানে তাদের জন্য প্রযোজ্য,উক্ত কোয়াটারে আবেদন না করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে।
আরো অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে কোয়ার্টারে বহিরাগতদের ভাড়া দিয়ে বাণিজ্য করে আসছেন অবৈধ দখলদার ও বরাদ্দকারীরা।
স্টাফ কোয়ার্টারের বাসিন্দারা বলছেন, ফ্লাট না ছাড়ার পিছনে“মোস্তফা গাজীর ইঙ্গিত আছে । ব্যাংকের ভেতরের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট অবৈধ দখলদারদের রক্ষা করছে।”
ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীও। তাদের অভিযোগ প্রকৃত কর্মকর্তারা বছরের পর বছর বাসা না, এদিকে দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী ও বহিরাগতদের জন্য কোয়ার্টার খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যাংকের অর্থ লুটপাট, অসামাজিক কর্মকাণ্ড, মাদক সেবীর সহ ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
রে জানা যায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবের প্রভাব খাটিয়ে কয়েকজন দৈনিক মজুরী ভিত্তিক কর্মচারীরা তালা ভেঙ্গে প্রবেশ করেছেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নোটিশ দেওয়ার পরেও তারা এখন পর্যন্ত ফ্লাট ছাড়ছেন না।
এ অবস্থায় পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্টাফ কোয়ার্টারের বাসিন্দারা। Anti-Corruption Commission-এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Reporter Name 


















