
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের সার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে গৃহীত ‘৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ’ প্রকল্প এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। প্রকল্পের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, কারিগরি জালিয়াতি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগসাজশে সরকারের শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
দুর্নীতির এই চক্রের নেপথ্যে রয়েছেন প্রকল্পের তিন প্রভাবশালী কর্মকর্তা জনাব মুনজুরুল হক, প্রকল্প পরিচালক (পিডি), জনাব মোজাম্মেল হক, উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) ,জনাব জাকারিয়া নির্বাহী প্রকৌশলী, অযোগ্যতা ও রাজনৈতিক প্রভাবে নিয়োগের অভিযোগ
অভিযোগে জানা গেছে, বুয়েটের অভিজ্ঞ প্রকল্প পরিচালককে সরিয়ে বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ এবং তৎকালীন সিনিয়র সচিবের ছত্রছায়ায় জনাব মুনজুরুল হককে পিডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পিপিআর (PPR) বা প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও কেবল রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যেই তাকে এই পদে বসানো হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
অভিযুক্ত মুনজুরুল হক ও জাকারিয়ার বিরুদ্ধে আশুগঞ্জ সার কারখানায় কর্মরত থাকাকালীন ১ দিনের ক্রেন ভাড়াকে ৩০ দিন দেখিয়ে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে সরকারের ৪৮ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য দাপ্তরিক নোটিশ জারি করা হলেও ক্ষমতার দাপটে তারা তা আজও পরিশোধ করেননি।
আশুগঞ্জে থাকাকালীন ‘সাইফ পাওয়ার লিমিটেড’ এর সাথে যোগসাজশে কোটি টাকার মালামাল ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) প্রক্রিয়াধীন। জানা গেছে, তদন্ত শুরু হলে সুকৌশলে দায়ভার তৎকালীন এমডির ওপর চাপিয়ে তারা টিএসপি ও সিইউএফএল-এ বদলি হয়ে যান।
২১ কোটি টাকা লুটপাট প্রকল্পের জয়পুরহাট, দিনাজপুর ও লালমনিরহাট সাইটে সবচেয়ে বড় কারিগরি জালিয়াতি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে ; মাটির গুণাগুণ ভালো হওয়া সত্ত্বেও কাগজপত্রে ৪০ ফুট পাইলিংয়ের ‘ওভার-ডিজাইন’ করা হয়। বাস্তবে ৩০ ফুট বা তার কম পাইলিং করে বাকি অংশের টাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মজিদ সন্স’ এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তারা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন। তিনটি সাইটে মোট ২১ কোটি টাকা সরকারি অর্থ লোপাট করা হয়েছে।
বুয়েটের বিশেষজ্ঞ টিম দ্বারা ডিজাইন ভৎাটিং করা কথা DPP তে উল্লেখ থাকলেও এই চক্র ডিজাইন ভৎাটিং না করে তারা বানানো এবং অস্বচ্ছ ও তাদের মনমতো ডিজাইন দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন এবং এই জালিয়াতির অকাট্য প্রমাণ পাওয়া সম্ভব। উত্থাপিত দাবি ও সুপারিশমালা
দেশের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ লুণ্ঠন রোধে এবং বাফার গুদাম প্রকল্পকে বাঁচাতে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা:
স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বর্তমান পদ থেকে দ্রুত সরিয়ে দেওয়া।
জয়পুরহাট, দিনাজপুর ও লালমনিরহাট সাইটে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ টিম দ্বারা জরুরি ভিত্তিতে ডিজাইন ভ্যাকিং পরিচালনা করা। আশুগঞ্জ সার কারখানার আত্মসাৎকৃত ৪৮ লক্ষ টাকা দ্রুত সরকারি কোষাগারে ফিরিয়ে আনা। দুদকের চলমান মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা এবং বিভাগীয় ও প্রশাসনিক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
Reporter Name 


















