বাংলাদেশ ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে মাদক সিন্ডিকেটে বড় ধাক্কা- ওসির সাহসী অভিযানে পঙ্কজ বাহিনীর দুই প্রধান সেনাপতি হেফাজতে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪৯:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
  • ৩৮ Time View

স্টাফ রিপোর্টারঃ সুনামগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে আবারও কঠোর অবস্থানের প্রমাণ দিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জেলার আলোচিত মাদক সম্রাট পঙ্কজ কারাগারে যাওয়ার পর তার গড়ে তোলা সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব নেওয়া দুই প্রধান সহযোগীকে গভীর রাতে নাটকীয় অভিযানে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

 

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অত্যন্ত কৌশলী ও সাহসী পরিকল্পনায় সিভিল ড্রেসে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে ওসির সঙ্গে ছিলেন ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আরিফ, এসআই রিফাত, এএসআই জাকারিয়া ও সঙ্গীয় ফোর্স।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রথমে পঙ্কজ বাহিনীর অন্যতম সক্রিয় সদস্য আইনুলকে গভীর রাতে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিনব কায়দায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল এলাকা থেকে আরেক শীর্ষ সহযোগী তাজুল ইসলামকে আটক করা হয়। পুরো অভিযানটি ছিল অত্যন্ত গোপনীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ।

 

হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন—

১। মোঃ তাজুল ইসলাম (৪০)

পিতা: বাবর আলী

গ্রাম: নতুন হাসননগর

থানা: সুনামগঞ্জ সদর।

২। মহিনুল হক (২২)

পিতা: মোঃ ময়না মিয়া

গ্রাম: আফতাবনগর

থানা: সুনামগঞ্জ সদর।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক সম্রাট পঙ্কজ কারাগারে যাওয়ার পর এই দুইজন জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও নতুন কিশোরদের মাদক জগতে টেনে নেওয়ার কাজে সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি, গোপন লেনদেন ও মাদক বিস্তারের অভিযোগ ছিল।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসির নেতৃত্বে ধারাবাহিক অভিযানে মাদক কারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ বলছেন, সাহসী ও মানবিক নেতৃত্বের কারণে পুলিশ এখন শুধু অপরাধ দমনই নয়, যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকেও রক্ষা করতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে।

 

সচেতন মহলের মতে, ওসির এই দুঃসাহসিক অভিযান শুধু একটি সিন্ডিকেট ভাঙার ঘটনা নয়, বরং সুনামগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতির বাস্তব উদাহরণ। তারা বলেন, প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকলে মাদক কারবারিদের জন্য সুনামগঞ্জে আর কোনো নিরাপদ আশ্রয় থাকবে না।

 

এদিকে এলাকাবাসী মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে পুলিশের চলমান অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বাকি সদস্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

সুনামগঞ্জে মাদক সিন্ডিকেটে বড় ধাক্কা- ওসির সাহসী অভিযানে পঙ্কজ বাহিনীর দুই প্রধান সেনাপতি হেফাজতে

Update Time : ০২:৪৯:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টারঃ সুনামগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে আবারও কঠোর অবস্থানের প্রমাণ দিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জেলার আলোচিত মাদক সম্রাট পঙ্কজ কারাগারে যাওয়ার পর তার গড়ে তোলা সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব নেওয়া দুই প্রধান সহযোগীকে গভীর রাতে নাটকীয় অভিযানে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

 

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অত্যন্ত কৌশলী ও সাহসী পরিকল্পনায় সিভিল ড্রেসে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে ওসির সঙ্গে ছিলেন ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আরিফ, এসআই রিফাত, এএসআই জাকারিয়া ও সঙ্গীয় ফোর্স।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রথমে পঙ্কজ বাহিনীর অন্যতম সক্রিয় সদস্য আইনুলকে গভীর রাতে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিনব কায়দায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল এলাকা থেকে আরেক শীর্ষ সহযোগী তাজুল ইসলামকে আটক করা হয়। পুরো অভিযানটি ছিল অত্যন্ত গোপনীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ।

 

হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন—

১। মোঃ তাজুল ইসলাম (৪০)

পিতা: বাবর আলী

গ্রাম: নতুন হাসননগর

থানা: সুনামগঞ্জ সদর।

২। মহিনুল হক (২২)

পিতা: মোঃ ময়না মিয়া

গ্রাম: আফতাবনগর

থানা: সুনামগঞ্জ সদর।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক সম্রাট পঙ্কজ কারাগারে যাওয়ার পর এই দুইজন জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও নতুন কিশোরদের মাদক জগতে টেনে নেওয়ার কাজে সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি, গোপন লেনদেন ও মাদক বিস্তারের অভিযোগ ছিল।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসির নেতৃত্বে ধারাবাহিক অভিযানে মাদক কারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ বলছেন, সাহসী ও মানবিক নেতৃত্বের কারণে পুলিশ এখন শুধু অপরাধ দমনই নয়, যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকেও রক্ষা করতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে।

 

সচেতন মহলের মতে, ওসির এই দুঃসাহসিক অভিযান শুধু একটি সিন্ডিকেট ভাঙার ঘটনা নয়, বরং সুনামগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতির বাস্তব উদাহরণ। তারা বলেন, প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকলে মাদক কারবারিদের জন্য সুনামগঞ্জে আর কোনো নিরাপদ আশ্রয় থাকবে না।

 

এদিকে এলাকাবাসী মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে পুলিশের চলমান অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বাকি সদস্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।