
স্টাফ রিপোর্টার আমিন কক্সবাজার: দেশের মহাসড়কগুলো আজ শুধু যান চলাচলের পথ নয়, বরং প্রতিদিনের ঝুঁকির মাঠে পরিণত হয়েছে। নিয়মিত হাইওয়ে পুলিশ টহল দিচ্ছে, কাগজে-কলমে যানজট ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সড়কের মাঝেই দেখা যায় অতিরিক্ত বাঁশবোঝাই ট্রাক, যেগুলো চলমান মৃত্যুফাঁদ ছাড়া আর কিছু নয়।
একটি ট্রাক যখন তার নির্ধারিত উচ্চতা ও ওজনসীমা অতিক্রম করে বাঁশ বহন করে, তখন তা শুধু আইন ভঙ্গ করে না, পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী ও ছোট যানবাহনের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করে। বাঁশের মাথা অনেক সময় গাড়ির সীমানার বহু বাইরে বের হয়ে থাকে, যা সামান্য ভারসাম্য হারালেই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হয়।
গেল বছর এমনই একটি বাঁশবোঝাই ট্রাক উল্টে পড়ে দুই পথচারীর প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। প্রশ্ন হলো-
এই মৃত্যুর দায় কার? আইন কি নেই?
আইন অবশ্যই আছে। সড়ক পরিবহন আইনে স্পষ্টভাবে বলা রয়েছে, অতিরিক্ত মালামাল বহন নিষিদ্ধ। নির্ধারিত দৈর্ঘ্য ও উচ্চতার বাইরে মালামাল রাখা যাবে না। বিপজ্জনক বোঝাইয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক। কিন্তু আইন প্রয়োগের জায়গায় দেখা যায় নীরবতা। তাহলে সমস্যা কোথায়?
সমস্যা তিন স্তরে- ১) নজরদারির ঘাটতি, চোখের সামনে অতিরিক্ত বোঝাই গাড়ি চললেও অনেক সময় তা থামানো হয় না। ২) দায়বদ্ধতার অভাব। দুর্ঘটনার পর সাময়িক অভিযান হয়, পরে সব আগের মতো। ৩) পরিবহন সংস্কৃতির অবক্ষয় কম খরচে বেশি লাভের জন্য মালিক ও চালকরা ঝুঁকি নিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-যখন সড়কের পাশেই হাইওয়ে পুলিশ টহল দেয়, তখন এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যান কীভাবে অবাধে চলাচল করে? আইন প্রয়োগ শুধু চেকপোস্ট বসানো নয়; সম্ভাব্য দুর্ঘটনা ঘটার আগেই তা প্রতিরোধ করা প্রশাসনের দায়িত্ব।
করণীয় কী? অতিরিক্ত মালবোঝাই যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, তাৎক্ষণিক জরিমানা ও লাইসেন্স স্থগিত, মালিককেও আইনের আওতায় আনা। স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের যৌথ নজরদারি
সড়ক দুর্ঘটনা ভাগ্যের বিষয় নয়-এগুলো অবহেলার ফল। একটি ট্রাকের অতিরিক্ত বাঁশ শুধু মালামাল নয়, কখনো কখনো মানুষের জীবন বহন করে।
Reporter Name 

















