বাংলাদেশ ১০:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সফল মৎস্য চাষি বদিমিয়া, বছরে আয় ৪ লাখ টাকা।

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৪৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫
  • ৭৪ Time View

 

মন্জুরুল আহসান শামীম

স্টাফ রিপোর্টারঃ রংপুরের কাউনিয়ায় শান্ত বাজারের পাশে এক একর চল্লিশ শতক জমিতে ২০২৪ সালে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ শুরু করেন মোঃ বদি মিয়া। ছোটবেলা থেকেই মাছ চাষের স্বপ্ন ছিল তার। এজন্য চাকরির পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে শুরু করেন মাছের চাষ। প্রথমদিকে কেউ বুঝতেই পারেননি তার এমন আয়োজনের কথা। যখন তিনি মাছ চাষে সফল হলেন, তখন দূর থেকেও মানুষ আসতে থাকে তার এই প্রকল্প দেখতে। নানাজন পরামর্শ নিচ্ছেন বদি মিয়া কাছে। এরই মধ্যে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন তিনি। তার প্রকল্প থেকে বছরে ৪ লাখ টাকা আয় হচ্ছে বলে জানান তিনি।

 

শনিবার সকালে কাউনিয়া উপজেলার গেদ্ধ বালাপাড়া গ্রামে শান্ত বাজারের পাশে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বদি মিয়া গড়ে তুলেছেন মাছ চাষের প্রকল্প। যা দেখে অনেকেই মুগ্ধ হচ্ছেন বলে জানান তিনি। বদি মিয়া মাছের উৎপাদন দেখে রংপুরের কাউনিয়ার বহু তরুণ উদ্বুদ্ধ হয়ে গড়ে তুলেছেন মাছের খামার। বছর শেষে মাছের উৎপাদন বাড়ছে তার, সেই সঙ্গে বাড়ছে আয়। এখন তিনি দেশি মাছ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন এলাকাবাসীকে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এগিয়ে যাবেন এই মাছ চাষি।

 

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার গেদ্য বালাপাড়া মৎস্য চাষি মোঃ বদি মিয়া এই সাফল্যের পেছনে সহযোগিতা করেছেন তার মামা আনোয়ার। এদিকে মাছের চাষ থেকে বছরে ৪ লাখ টাকা আয় হয় বলে জানান তিনি।

 

গেদ্য বালাপাড়া গ্রামের মাসুদ রানা সুজন বলেন, আমরা চরের মানুষ। কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এমন মাছের চাষ দেখে আমরা আনন্দিত। বদি মিয়ার মতো সবাইকে যেন খামার করে নিজের ভাগ্যের চাকা বদলাতে পারে। স্থানীয়রা বলছেন, আমরা রাস্তা দিয়ে যাওয়া-আসার সময় দেখেছি বদি মিয়া অনেক কষ্ট করে এই মাছের উৎপাদন করছে। তার এই মাছ চাষ দেখে চাকরির পেছনে না ছুটে অনেক বেকার যুবক নতুন করে শুরু করেছে দেশি মাছের চাষ।

 

নিজের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে চাষ করে পরিচিতি পান বদি মিয়া। তার এ কাজে সফলতা পেতে বেশি সময় লাগেনি। এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পাননি তিনি। তবে সহযোগিতা পেলে আরো ভালো কিছু করতে পারবেন, এমনটাই জানান এই মৎস্য খামারি। সফল মৎস্য খামারি বদি মিয়া বলেন, হাইস্কুল জীবনে আমার স্বপ্ন ছিল মাছের চাষ করার। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষে কাজ করছি। আমি মনে করি, এই সমাজে যারা বেকার যুবক ভাই-বোন আছেন, তারাও আমার মতো খামার করে নিজের জীবনমান উন্নয়ন করতে পারবেন। পাশাপাশি বেকারত্ব দূর করা সম্ভব হবে।

 

বদি মিয়া জানান, মাছ চাষে রংপুরে আমিষের পূরণ করে রপ্তানি করা সম্ভব। বর্তমানে এক একর চল্লিশ শতক জমির ওপর দুইটি পুকুর করেছি। এসব পুকুরে শিং, কই, গোলসা, টেংরা, পাবদা, তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, মৃগেল, পাঙ্গাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

সফল মৎস্য চাষি বদিমিয়া, বছরে আয় ৪ লাখ টাকা।

Update Time : ১০:৪৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫

 

মন্জুরুল আহসান শামীম

স্টাফ রিপোর্টারঃ রংপুরের কাউনিয়ায় শান্ত বাজারের পাশে এক একর চল্লিশ শতক জমিতে ২০২৪ সালে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ শুরু করেন মোঃ বদি মিয়া। ছোটবেলা থেকেই মাছ চাষের স্বপ্ন ছিল তার। এজন্য চাকরির পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে শুরু করেন মাছের চাষ। প্রথমদিকে কেউ বুঝতেই পারেননি তার এমন আয়োজনের কথা। যখন তিনি মাছ চাষে সফল হলেন, তখন দূর থেকেও মানুষ আসতে থাকে তার এই প্রকল্প দেখতে। নানাজন পরামর্শ নিচ্ছেন বদি মিয়া কাছে। এরই মধ্যে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন তিনি। তার প্রকল্প থেকে বছরে ৪ লাখ টাকা আয় হচ্ছে বলে জানান তিনি।

 

শনিবার সকালে কাউনিয়া উপজেলার গেদ্ধ বালাপাড়া গ্রামে শান্ত বাজারের পাশে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বদি মিয়া গড়ে তুলেছেন মাছ চাষের প্রকল্প। যা দেখে অনেকেই মুগ্ধ হচ্ছেন বলে জানান তিনি। বদি মিয়া মাছের উৎপাদন দেখে রংপুরের কাউনিয়ার বহু তরুণ উদ্বুদ্ধ হয়ে গড়ে তুলেছেন মাছের খামার। বছর শেষে মাছের উৎপাদন বাড়ছে তার, সেই সঙ্গে বাড়ছে আয়। এখন তিনি দেশি মাছ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন এলাকাবাসীকে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এগিয়ে যাবেন এই মাছ চাষি।

 

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার গেদ্য বালাপাড়া মৎস্য চাষি মোঃ বদি মিয়া এই সাফল্যের পেছনে সহযোগিতা করেছেন তার মামা আনোয়ার। এদিকে মাছের চাষ থেকে বছরে ৪ লাখ টাকা আয় হয় বলে জানান তিনি।

 

গেদ্য বালাপাড়া গ্রামের মাসুদ রানা সুজন বলেন, আমরা চরের মানুষ। কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এমন মাছের চাষ দেখে আমরা আনন্দিত। বদি মিয়ার মতো সবাইকে যেন খামার করে নিজের ভাগ্যের চাকা বদলাতে পারে। স্থানীয়রা বলছেন, আমরা রাস্তা দিয়ে যাওয়া-আসার সময় দেখেছি বদি মিয়া অনেক কষ্ট করে এই মাছের উৎপাদন করছে। তার এই মাছ চাষ দেখে চাকরির পেছনে না ছুটে অনেক বেকার যুবক নতুন করে শুরু করেছে দেশি মাছের চাষ।

 

নিজের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে চাষ করে পরিচিতি পান বদি মিয়া। তার এ কাজে সফলতা পেতে বেশি সময় লাগেনি। এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পাননি তিনি। তবে সহযোগিতা পেলে আরো ভালো কিছু করতে পারবেন, এমনটাই জানান এই মৎস্য খামারি। সফল মৎস্য খামারি বদি মিয়া বলেন, হাইস্কুল জীবনে আমার স্বপ্ন ছিল মাছের চাষ করার। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষে কাজ করছি। আমি মনে করি, এই সমাজে যারা বেকার যুবক ভাই-বোন আছেন, তারাও আমার মতো খামার করে নিজের জীবনমান উন্নয়ন করতে পারবেন। পাশাপাশি বেকারত্ব দূর করা সম্ভব হবে।

 

বদি মিয়া জানান, মাছ চাষে রংপুরে আমিষের পূরণ করে রপ্তানি করা সম্ভব। বর্তমানে এক একর চল্লিশ শতক জমির ওপর দুইটি পুকুর করেছি। এসব পুকুরে শিং, কই, গোলসা, টেংরা, পাবদা, তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, মৃগেল, পাঙ্গাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ হচ্ছে।