
মো:শুকুর আলী,স্টাফ রিপোর্টার:
: সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় পাগলা কুকুরের আক্রমণে নারী-শিশুসহ অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। গত ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর—দুপুর ও রাতের অন্ধকারে হঠাৎ দৌড়ে এসে এই কুকুর বা কুকুরগুলো পথচারীদের উপর হামলা চালায় বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন গোপেশ দেবনাথ (বাজিতপুর), উমেশ দাশ, চিতু শীল, জুতিকা রানী দাশ, কাকন রানী দাশ, শেফালী রানী দাশ, শাওন ইসলাম (সবাই মাঝাইর গ্রামের), পলাশ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদসহ আরও অনেকে।
এছাড়া একটি বাছুর ও একটি খাসিসহ আরও কয়েকটি পশুও এই পাগলা কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়েছে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে অধিকাংশকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত দু’জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, “গত দুই দিনে ২১ জন কুকুর কামড়ের রোগী পেয়েছি। এদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধও রয়েছেন। সবাইকে প্রয়োজনীয় টিকা দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয়রা জানান, এই কুকুরটি বা কুকুরগুলো হঠাৎ দৌড়ে এসে বাজার, রাস্তা, পাড়া-মহল্লায় পথচারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কামড়াচ্ছে। দিন-রাত নির্বিশেষে এমন আচরণে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ নিরাপদ বোধ করছেন না।
তবে ঘটনার পর স্থানীয় জনতা দলবদ্ধভাবে কুকুরটিকে খুঁজে বের করে মারতে সক্ষম হয়েছে। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুকুরটিকে মারা হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ভ্রাম্যমাণ টিম মাঠে কাজ করছে। একইসাথে, প্রাণিসম্পদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সতর্কতা ও পরামর্শ:
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কুকুরের কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা না নিলে রেবিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই কুকুর কামড়ানোর সাথে সাথে ক্ষতস্থান ভালোভাবে সাবান ও পানি দিয়ে ধুয়ে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
Reporter Name 
























