
* ক্ষমতার অপব্যবহার ও গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার : নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন একজন সাবেক সভাপতি। প্রেসক্লাবের নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন গঠন এবং বিতর্কিতভাবে ঘোষিত কার্যনির্বাহী কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ সিভিল জজ আদালতে একটি স্বত্ব মোকদ্দমা দায়ের করা হয়েছে।
মামলাটি দায়ের করেছেন নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি (২০২৩) ও সাবেক নির্বাহী সদস্য সাংবাদিক আশাহীদ আলী আশা। মামলায় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এটিএম সালাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছনি চৌধুরী এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার ফজলুর রহমান-কে বিবাদী করা হয়েছে।
মামলার আরজিতে গুরুতর অভিযোগ আনা হয় যে, বিবাদীপক্ষ নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্রকে কার্যত পদদলিত করে ক্ষমতার নগ্ন অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে একটি তথাকথিত নির্বাচন আয়োজন করে। নির্বাচনের পূর্বে যে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়, তা গঠনতন্ত্রের ৫(ছ) ধারার সুস্পষ্ট বিধানকে উপেক্ষা করে গঠিত হওয়ায় উক্ত কমিশন এবং তার মাধ্যমে সম্পাদিত পুরো নির্বাচন আইনত অবৈধ, বাতিলযোগ্য ও শূন্য বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আরজিতে আরও বলা হয়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেখানে নিরপেক্ষতা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ন্যূনতম মানদণ্ড মানা হয়নি। বরং গঠনতন্ত্রের ৫(১) ধারায় যেখানে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব ছিল নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা প্রদান, সেখানে তারা নিজেরাই কমিশনের সদস্য হয়ে বিচারক ও প্রতিযোগীর ভূমিকা একাকার করেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের মূলনীতি ধ্বংস করে এবং সুস্পষ্টভাবে স্বার্থসংঘাত (Conflict of Interest) সৃষ্টি করে বলে মামলায় দাবি করা হয়।
বাদীপক্ষ অভিযোগ করেন, তিনি ২০২৫ সালের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈধভাবে নির্বাচিত সদস্য হওয়া সত্ত্বেও কোনো সভার নোটিশ, কারণ দর্শানো নোটিশ কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই তাকে প্রেসক্লাবের কার্যক্রম থেকে বেআইনিভাবে অপসারণ করা হয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত গঠনতন্ত্রে কোথাও অনুমোদিত নয় এবং এটি ন্যায়বিচার ও সুবিচারের মৌলিক ধারণার সরাসরি লঙ্ঘন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করা হয় যে, প্রেসক্লাবকে ব্যক্তিগত বলয় ও স্বার্থরক্ষার হাতিয়ার বানাতে গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করেই যোগ্যতা না থাকা একাধিক ব্যক্তিকে স্থায়ী সদস্যপদ প্রদান করা হয়েছে। বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসরত, সাংবাদিকতা পেশা থেকে বিচ্ছিন্ন কিংবা নবীগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত নন—এমন ব্যক্তিদের সদস্যপদ বহাল রাখা হলেও কর্মরত ও যোগ্য সাংবাদিকদের পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিষয়টি গঠনতন্ত্রের ৩(ক) ও ১১(গ) ধারার চরম লঙ্ঘন হিসেবে আরজিতে উল্লেখ করা হয়।
আরজিতে আরও বলা হয়, বিবাদীপক্ষের অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় বাদীপক্ষের প্রতিবাদী কণ্ঠ রোধ করতে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তার নাম প্রেসক্লাবের সদস্য তালিকা থেকে কর্তন করা হয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি, যা Audi Alteram Partem নীতির সরাসরি ও ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘন বলে দাবি করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের পক্ষে গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বিবাদীদের নিকট একটি লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করা হলেও বিবাদীরা তা গ্রহণ করেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জবাব প্রদান বা আইনসম্মত প্রতিকার গ্রহণ করেননি। বরং নোটিশের বিষয়াদি নিষ্পত্তি না করেই একই অবৈধ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন করে একটি বিতর্কিত কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়, যা ক্ষমতার অপব্যবহার ও গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের ধারাবাহিক ও প্রমাণিত দৃষ্টান্ত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আদালতের নিকট নির্বাচন কমিশন, অনুষ্ঠিত নির্বাচন ও ঘোষিত কার্যনির্বাহী কমিটিকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করার পাশাপাশি নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব সংক্রান্ত বাদীপক্ষের সকল আইনগত, সাংগঠনিক ও সদস্যগত অধিকার পুনর্বহালের জন্য ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রার্থনা করা হয়েছে।
Reporter Name 






















