
বিশেষ প্রতিনিধ::
কোটা-বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত বছরের জুলাইয়ে সিলেটের রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন দমন করতে সারা দেশে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাদের ওপর ক্র্যাকডাউন চালানো হয় ।অহিংস এই আন্দোলন ক্রমান্বয়ে সহিংসতায় রূপ নেয়। ১৫ জুলাই থেকে কোটা আন্দোলন এক সময় স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকার বিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনের দিকে যাত্রা শুরু করে। দেশ জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয় প্রায় দুই সহস্রাধিক ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতার ওপর গুলির নির্দেশ পালন করেন আইনশৃঙ্খলার নিয়ন্ত্রণে রাখা দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। এই ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশেই মূলত গুলি চালানো হয় নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর। এই ঘটনায় শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন সেই সময়ের দায়িত্ব পালনকারী তার আস্থাভাজন কিছু কর্মকর্তারা।
৫ ই আগস্ট দুপুরে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান স্বৈরাচার শেখ হাসিনা। পলায়নের পূর্বে তার পালিত পুলিশ বাহিনীকে দিয়ে মরন কামড় দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। পুলিশ সদস্যরা সরাসরি বন্দুক তাক করে গুলি করেছিলেন ছাত্র-জনতার ওপর। ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগে ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিল অথবা আওয়ামী পরিবারের সদস্য এমন কর্মকর্তাদের প্রধান্য দিয়ে সাজানো হয়েছিল পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের অনুগত প্রশাসন । প্রশাসনের সেসব কর্মকর্তারা ছাত্রদের উপর গুলি করার নির্দেশ প্রদান করেছিলেন।
শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর পুলিশের কর্মকর্তারাই বিভিন্ন সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অতিরিক্ত বল প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলি ও হত্যাকান্ডের নির্দেশ দাতা এবং সরাসরি গুলি করে ছাত্রদের আহত করা পঙ্গু করা, কিংবা হত্যার সাথে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তারা রয়ে গেছেন এখনও অধরা। হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যা ও আহত করে আওয়ামীলীগ সরকারকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন তারা।
আওয়ামী মাফিয়া সরকারের একজন দক্ষ সমর্থক আওয়ামী লীগের দোসর তালিকায় সিলেটের প্রশাসনে সুপার ফাইভে থাকা একটি নাম শফিকুল ইসলাম। তিনি তাহার শিক্ষাজীবনে নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তাহার বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সিলেটে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমনে তিনি মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন বলে সমালোচনা হচ্ছে । বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে তিনি জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক শিক্ষক ছিলেন। তিনি ছাত্রলীগের ব্যানার ব্যবহার করে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানাযায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানা গেছে, ৩১ জুলাই ২০২৪ ইংরেজিতে তিনি শাবি প্রবি গেইটের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলনরত ছাত্র জনতার উপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বে থাকা তৎকালীন সদস্যদের গুলি করার নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। আওয়ামী সরকারের সাবেক এ কর্মকর্তা বর্তমানে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। আওয়ামী আমলে ছাত্র-জনতার সাথে তিনি যে অন্যায় করেছেন , সে ব্যাপারে এখনো তিনি ক্ষমা চাননি।
বিষয়টি ছাত্র-জনতা সঠিকভাবে মেনে নিতে পারেন নি। তারা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের বিচার দাবি করেন। ইতিপূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাহার বিরুদ্ধে অনেকেই নানা ধরনের অভিযোগ করতে দেখা গেছে। কৌশলে এখনো আওয়ামীজম প্রতিষ্ঠাযরত এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ছাত্র জনতা ৪-আগস্টেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবী জানিয়েছিলেন বলে জানান। বর্তমানে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর এখনো বহাল তবিয়তেই পূর্বের দাপটেই রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।
এ ব্যপারে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন ৫ আগস্টের পূর্বে তিনি সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাধারন শাখায় কর্মরত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশকে গুলির নির্দেশ দিয়েছেন প্রচার চলছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন কারা অপপ্রচার করছে জানিনা তবে আপনি ভালো করে খোঁজ খবর নিতে বলেন। দেশের বাড়ী কোথায় জানতে চাইলে বলেন দোয়ারা বাজার। তিনি আরো বলেন যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখছে তারা অপপ্রচার করছে। আমি কাউকে গুলির নির্দেশ দেইনি।
Reporter Name 
























