বাংলাদেশ ১০:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিবগঞ্জে দুর্ভোগের দীর্ঘশ্বাস: ভাঙা সড়ক আর জনপ্রতিনিধিদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৫১:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
  • ১২১ Time View

 

হারুন অর রশীদ, স্টাফ রিপোর্টার :

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বড় হরিপুর পূর্বপাড়ার বাসিন্দাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে একটি সংস্কারহীন ও সংকীর্ণ সড়কের কারণে। প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও সড়কটি সংস্কারে কারো কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। বিশেষ করে ইট বাহী ট্রাকের মতো বড় যানবাহন চলাচল এখানে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এই সড়কের বেহাল দশা একদিনের নয়, এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অবহেলা আর দুর্ঘটনার এক বেদনাদায়ক ইতিহাস।

 

বড় হরিপুর গ্রামের মোজাম্মেল হক বলেন, ২০০১ সালে তৎকালীন জাতীয় সংসদের হুইপ মরহুম রেজাউল বারী দিনাকে প্রটোকল দিতে আসা পুলিশের গাড়িও এই রাস্তা থেকে ছিটকে ধানের জমিতে পড়ে গিয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা রাস্তাটির সংস্কারে কেউ আর নজর দেননি।

প্রতিশ্রুতির পাহাড়, কাজের অভাব

নির্বাচনী প্রচারণার সময় জনপ্রতিনিধিরা এই সড়কের সংস্কার নিয়ে অসংখ্য প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন ঘটেনি।

 

তিনি আরো জানান, জনপ্রতিনিধিরা বড় হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই রাস্তাটি পাকাকরণের (কার্পেটিং) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

সর্বশেষ স্থানীয় নির্বাচনে উপজেলা সরকার দলীয় শীর্ষ নেতাও এই রাস্তার বেহাল দশা থেকে মুক্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন।

কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতি কেবলই ‘প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি’ হয়েই রয়ে গেছে, কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

জনগণের ক্ষোভ আর একটাই প্রশ্ন

দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই সড়কের জন্য বড় হরিপুরবাসীর ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।

 

নয়ন মিয়া বলেন, হরিপুর গ্রামের এই মেঠ রাস্তায় বৃষ্টির পানিতে অনেক খাল ও ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে এর ফলে এই পথে কোন ভ্যান বা ছোট যান চলাচল করতে চায় না। ফলে প্রায়ই আমরা কৃষি পণ্য বাজারে সরবরাহ করতে ও মুমূর্ষু রোগী নিয়ে বিপাকে পরতে হয় আমাদেরকে। রাস্তাটা পাকা হলে আমরা গ্রামবাসী এই নিত্য দিনের দূর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতাম।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,চঁলনাকাথী মাদ্রাসা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটারে পথ বড় হরিপুর গ্রাম।বৃষ্টির পানিতে কাচা রাস্তাটি কাদায় ভাঙ্গনে খাল খন্দ সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে জনজীবন দুর্ভোগে উঠেছে।

 

স্থানীয়দের মনে এখন একটাই প্রশ্ন, “আর কত প্রতিশ্রুতি আর কত বছর গেলে এই রাস্তার জনদুর্ভোগ কমবে?” মোকামতলা ইউনিয়নের বড় হরিপুরের মানুষ উন্নয়নের মুখ দেখে না – এমন অভিযোগ এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে।

 

বড় হরিপুর গ্রামবাসী দ্রুত এই সড়কের সংস্কার করে তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানোর জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা চান, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, এবার যেন বাস্তবে তাদের এই দাবি পূরণ করা হয়।

 

শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ দৈনিক অপরাধ অনুসন্ধান কে জানান,৫০০ মিটারের রাস্তা বরাদ্দ হয়েছে শুধু টেন্ডার বাকি। রাস্তার বাকি অংশ পরবর্তীতে দেওয়া হবে বলে জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

শিবগঞ্জে দুর্ভোগের দীর্ঘশ্বাস: ভাঙা সড়ক আর জনপ্রতিনিধিদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি!

Update Time : ০২:৫১:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

 

হারুন অর রশীদ, স্টাফ রিপোর্টার :

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বড় হরিপুর পূর্বপাড়ার বাসিন্দাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে একটি সংস্কারহীন ও সংকীর্ণ সড়কের কারণে। প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও সড়কটি সংস্কারে কারো কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। বিশেষ করে ইট বাহী ট্রাকের মতো বড় যানবাহন চলাচল এখানে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এই সড়কের বেহাল দশা একদিনের নয়, এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অবহেলা আর দুর্ঘটনার এক বেদনাদায়ক ইতিহাস।

 

বড় হরিপুর গ্রামের মোজাম্মেল হক বলেন, ২০০১ সালে তৎকালীন জাতীয় সংসদের হুইপ মরহুম রেজাউল বারী দিনাকে প্রটোকল দিতে আসা পুলিশের গাড়িও এই রাস্তা থেকে ছিটকে ধানের জমিতে পড়ে গিয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা রাস্তাটির সংস্কারে কেউ আর নজর দেননি।

প্রতিশ্রুতির পাহাড়, কাজের অভাব

নির্বাচনী প্রচারণার সময় জনপ্রতিনিধিরা এই সড়কের সংস্কার নিয়ে অসংখ্য প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন ঘটেনি।

 

তিনি আরো জানান, জনপ্রতিনিধিরা বড় হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই রাস্তাটি পাকাকরণের (কার্পেটিং) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

সর্বশেষ স্থানীয় নির্বাচনে উপজেলা সরকার দলীয় শীর্ষ নেতাও এই রাস্তার বেহাল দশা থেকে মুক্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন।

কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতি কেবলই ‘প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি’ হয়েই রয়ে গেছে, কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

জনগণের ক্ষোভ আর একটাই প্রশ্ন

দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই সড়কের জন্য বড় হরিপুরবাসীর ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।

 

নয়ন মিয়া বলেন, হরিপুর গ্রামের এই মেঠ রাস্তায় বৃষ্টির পানিতে অনেক খাল ও ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে এর ফলে এই পথে কোন ভ্যান বা ছোট যান চলাচল করতে চায় না। ফলে প্রায়ই আমরা কৃষি পণ্য বাজারে সরবরাহ করতে ও মুমূর্ষু রোগী নিয়ে বিপাকে পরতে হয় আমাদেরকে। রাস্তাটা পাকা হলে আমরা গ্রামবাসী এই নিত্য দিনের দূর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতাম।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,চঁলনাকাথী মাদ্রাসা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটারে পথ বড় হরিপুর গ্রাম।বৃষ্টির পানিতে কাচা রাস্তাটি কাদায় ভাঙ্গনে খাল খন্দ সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে জনজীবন দুর্ভোগে উঠেছে।

 

স্থানীয়দের মনে এখন একটাই প্রশ্ন, “আর কত প্রতিশ্রুতি আর কত বছর গেলে এই রাস্তার জনদুর্ভোগ কমবে?” মোকামতলা ইউনিয়নের বড় হরিপুরের মানুষ উন্নয়নের মুখ দেখে না – এমন অভিযোগ এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে।

 

বড় হরিপুর গ্রামবাসী দ্রুত এই সড়কের সংস্কার করে তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানোর জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা চান, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, এবার যেন বাস্তবে তাদের এই দাবি পূরণ করা হয়।

 

শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ দৈনিক অপরাধ অনুসন্ধান কে জানান,৫০০ মিটারের রাস্তা বরাদ্দ হয়েছে শুধু টেন্ডার বাকি। রাস্তার বাকি অংশ পরবর্তীতে দেওয়া হবে বলে জানান।