বাংলাদেশ ০৮:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদ্রাসা প্রধানকে জিম্মি করে নতুন কমিটি করলেন বিএনপি নেতা!!!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৫৯:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
  • ৯৮ Time View

 

মোঃ ফয়সাল উদ্দিন স্টাফ রিপোর্টার (লক্ষ্মীপুর)

লক্ষ্মীপুরের রামগতির জামিয়া ইসলামিয়া কলাকোপা মাদ্রাসার মোহতামিম আখতার হোসাইনকে দিনভর অবরুদ্ধ করে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নতুন কমিটি গঠনে অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে।

 

অভিযুক্ত রামগতির চরবাদাম ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মিয়া মোহাম্মদ ইউছুপ।

 

এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে কমলনগর প্রেস ক্লাবে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ ইলিয়াছ।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন—মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি কমলনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা মাওলানা হুমায়ুন কবির ও পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. রিয়াজ।

 

‎এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রামগতির চরবাদাম ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মিয়া মোহাম্মদ ইউছুপ তার দলীয় লোকজন নিয়ে মাদ্রাসার মোহতামিম আখতার হোসাইনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এক পর্যায়ে জোরপূর্বক কমিটি বাতিলের কপিতে স্বাক্ষর নেন।

 

‎সংবাদ সম্মেলনে জামিয়া ইসলামি কলাকোপা মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা মিয়া মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন—যাত্রা শুরু থেকেই ১০০ বছরের পুরোনো এ মাদ্রাসার সুনাম ছিলো। এ মাদ্রাসার সাত একর সম্পত্তি রয়েছে। মাদ্রাসার সম্পত্তি ও সীমানা নির্ধারণে কোনো উদ্যোগ কেউ নেয়নি। ২০১৬ সালে তখনকার মোহতামিম মাওলানা আবদুল হান্নানকে অবরুদ্ধ করে সব সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করে একটি কুচক্রী মহল। তখন এরা আওয়ামী দোসরদের একটি অংশকে হাতে নিয়ে মাদ্রাসার কমিটি পরিচালনা করে। ওই সময় ছাত্রদের বিভিন্ন আন্দোলনে এরা সুকৌশলে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আরেক দুর্নীতিবাজ কারামতিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হারুনুর রশিদকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে সভাপতি করেন। বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে হারুনের বিরুদ্ধে এক বছর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে তাদের কবল থেকে মাদ্রাসাকে পুনরুদ্ধার করে তাকে (ইলিয়াস) সভাপতির দায়িত্ব দেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিচালনা কমিটির সব সদস্যদের নিয়ে মাদ্রাসা সীমানা নির্ধারণসহ বেদখল হওয়া সব সম্পত্তি উদ্ধার কাজে হাত দেন। আবারো তারা চক্রান্ত শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে হঠাৎ বৃহস্পতিবার চর বাদাম ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মিয়া মাদ্রাসার মুহতামিমকে জিম্মি করে।

 

৭ দফা দাবি জনগণের কাছে পৌঁছাতে জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে এ বিষয়ে মোহতামিম মওলানা আখতার হোছাইন বলেন—বিএনপি নেতা মিয়া মোহাম্মদ ইউছুপ তার লোকজন নিয়ে হঠাৎ মাদ্রাসা এসে আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং আমাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দেয়। এক পর্যায়ে তাদের ভয়ে টয়লেটে গিয়ে আশ্রয় নেই। পরে তারা আমাকে ওখান থেকে ধরে এনে কমিটি বিলুপ্তির কাগজে স্বাক্ষর নেয়।

 

নতুন কমিটির দায়িত্ব পাওয়া কারামতিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হারুনুর রশিদ বলেন—বৃহস্পতিবার দুপুরে দুইজন লোক এসে আমাকে নিয়ে যায়। পরে মিয়া মোহাম্মদ ইউছুপ আমাকে মাদ্রাসা পরিচালনার কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেয়। এর বাহিরে আমি কিছুিই জানি না।

 

‎অভিযোগে বিষয়ে চরবাদাম ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মিয়া মোহাম্মদ ইউছুপ বলেন—বর্তমান মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি ও মোহতামিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীসহ এলাকার লোকজন একত্রিত হয়ে কমিটি বাতিল করে কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হারুনুর রশিদকে দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

মাদ্রাসা প্রধানকে জিম্মি করে নতুন কমিটি করলেন বিএনপি নেতা!!!

Update Time : ০৫:৫৯:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫

 

মোঃ ফয়সাল উদ্দিন স্টাফ রিপোর্টার (লক্ষ্মীপুর)

লক্ষ্মীপুরের রামগতির জামিয়া ইসলামিয়া কলাকোপা মাদ্রাসার মোহতামিম আখতার হোসাইনকে দিনভর অবরুদ্ধ করে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নতুন কমিটি গঠনে অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে।

 

অভিযুক্ত রামগতির চরবাদাম ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মিয়া মোহাম্মদ ইউছুপ।

 

এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে কমলনগর প্রেস ক্লাবে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ ইলিয়াছ।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন—মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি কমলনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা মাওলানা হুমায়ুন কবির ও পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. রিয়াজ।

 

‎এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রামগতির চরবাদাম ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মিয়া মোহাম্মদ ইউছুপ তার দলীয় লোকজন নিয়ে মাদ্রাসার মোহতামিম আখতার হোসাইনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এক পর্যায়ে জোরপূর্বক কমিটি বাতিলের কপিতে স্বাক্ষর নেন।

 

‎সংবাদ সম্মেলনে জামিয়া ইসলামি কলাকোপা মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা মিয়া মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন—যাত্রা শুরু থেকেই ১০০ বছরের পুরোনো এ মাদ্রাসার সুনাম ছিলো। এ মাদ্রাসার সাত একর সম্পত্তি রয়েছে। মাদ্রাসার সম্পত্তি ও সীমানা নির্ধারণে কোনো উদ্যোগ কেউ নেয়নি। ২০১৬ সালে তখনকার মোহতামিম মাওলানা আবদুল হান্নানকে অবরুদ্ধ করে সব সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করে একটি কুচক্রী মহল। তখন এরা আওয়ামী দোসরদের একটি অংশকে হাতে নিয়ে মাদ্রাসার কমিটি পরিচালনা করে। ওই সময় ছাত্রদের বিভিন্ন আন্দোলনে এরা সুকৌশলে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আরেক দুর্নীতিবাজ কারামতিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হারুনুর রশিদকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে সভাপতি করেন। বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে হারুনের বিরুদ্ধে এক বছর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে তাদের কবল থেকে মাদ্রাসাকে পুনরুদ্ধার করে তাকে (ইলিয়াস) সভাপতির দায়িত্ব দেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিচালনা কমিটির সব সদস্যদের নিয়ে মাদ্রাসা সীমানা নির্ধারণসহ বেদখল হওয়া সব সম্পত্তি উদ্ধার কাজে হাত দেন। আবারো তারা চক্রান্ত শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে হঠাৎ বৃহস্পতিবার চর বাদাম ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মিয়া মাদ্রাসার মুহতামিমকে জিম্মি করে।

 

৭ দফা দাবি জনগণের কাছে পৌঁছাতে জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে এ বিষয়ে মোহতামিম মওলানা আখতার হোছাইন বলেন—বিএনপি নেতা মিয়া মোহাম্মদ ইউছুপ তার লোকজন নিয়ে হঠাৎ মাদ্রাসা এসে আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং আমাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দেয়। এক পর্যায়ে তাদের ভয়ে টয়লেটে গিয়ে আশ্রয় নেই। পরে তারা আমাকে ওখান থেকে ধরে এনে কমিটি বিলুপ্তির কাগজে স্বাক্ষর নেয়।

 

নতুন কমিটির দায়িত্ব পাওয়া কারামতিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হারুনুর রশিদ বলেন—বৃহস্পতিবার দুপুরে দুইজন লোক এসে আমাকে নিয়ে যায়। পরে মিয়া মোহাম্মদ ইউছুপ আমাকে মাদ্রাসা পরিচালনার কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেয়। এর বাহিরে আমি কিছুিই জানি না।

 

‎অভিযোগে বিষয়ে চরবাদাম ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মিয়া মোহাম্মদ ইউছুপ বলেন—বর্তমান মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি ও মোহতামিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীসহ এলাকার লোকজন একত্রিত হয়ে কমিটি বাতিল করে কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হারুনুর রশিদকে দেওয়া হয়েছে।