বাংলাদেশ ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ভাইরাল নাতি ও নানী কুষ্টিয়া থেকে উদ্ধার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩৫:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
  • ১৬৭ Time View

 

ক্রাইম রিপোর্টার জসিম হোসেন ঝিনাইদহ:

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাবরা গ্রামের বহুল আলোচিত প্রেমকাহিনির অবসান হলো এক করুণ বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে। ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর ও ৪০ বছর বয়সী তিন সন্তানের জননী—সম্পর্কের দিক থেকে নাতি ও নানী—সমাজের রীতি-নীতিকে উপেক্ষা করে গড়ে তুলেছিলেন এক অনন্য প্রেমের বন্ধন।

 

যেখানে সমাজ তাদের সম্পর্ককে আখ্যা দিয়েছে ‘অসম’, ‘অসামাজিক’ কিংবা ‘অবৈধ’ বলে—তাদের কাছে সেটিই ছিল ‘বিশুদ্ধ ভালোবাসা’।

 

সম্প্রতি তারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আশ্রয় নেন কুষ্টিয়ায়। স্বপ্ন দেখেছিলেন নতুন জীবনের, ভালোবাসার ঘর বাঁধার। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায় কঠিন বাস্তবতার দেয়ালে।

 

শুক্রবার (২৫ জুলাই) রাতে কুষ্টিয়া থেকে তাদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। সেখানেই ঘটে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। থানার প্রাঙ্গণে কান্নায় ভেঙে পড়েন দুজনেই। কেউ কাউকে ছাড়তে চাইছিলেন না। একে অপরকে জড়িয়ে ধরেই ছিল শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি।

 

তাসলিমা বারবার বলছিলেন—

 

> “ও ছাড়া আমি বাঁচবো না… ওকে কেড়ে নিও না আমার কাছ থেকে।”

 

আর কিশোর মেহেদীর কণ্ঠে শোনা যায় করুণ আর্তি—

> “ওর হাত ধরেই তো জীবনটা শুরু করতে চেয়েছিলাম… এত তাড়াতাড়ি সবাই শেষ করে দিলো!”

 

তবে চোখের জল, ভালোবাসার আকুতি কিছুই টেকেনি সমাজের বিধি, পরিবারের মান-ইজ্জত আর আইনের বাধ্যবাধকতার কাছে।

 

পরিবারের চাপে পড়ে পুলিশ বাধ্য হয় তাদের আলাদা করে দিতে। তুলে দেওয়া হয় দুইটি ভিন্ন গাড়িতে। সেই শেষ মুহূর্তে, একে অপরের দিকে তাকিয়ে, চোখের জলে প্রতিফলিত হয় না বলা অনেক কথা, হয়তো একটাই প্রতিজ্ঞা—

 

> “প্রেম যদি সত্যি হয়, একদিন আবার দেখা হবে…”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ভাইরাল নাতি ও নানী কুষ্টিয়া থেকে উদ্ধার

Update Time : ০৩:৩৫:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫

 

ক্রাইম রিপোর্টার জসিম হোসেন ঝিনাইদহ:

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাবরা গ্রামের বহুল আলোচিত প্রেমকাহিনির অবসান হলো এক করুণ বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে। ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর ও ৪০ বছর বয়সী তিন সন্তানের জননী—সম্পর্কের দিক থেকে নাতি ও নানী—সমাজের রীতি-নীতিকে উপেক্ষা করে গড়ে তুলেছিলেন এক অনন্য প্রেমের বন্ধন।

 

যেখানে সমাজ তাদের সম্পর্ককে আখ্যা দিয়েছে ‘অসম’, ‘অসামাজিক’ কিংবা ‘অবৈধ’ বলে—তাদের কাছে সেটিই ছিল ‘বিশুদ্ধ ভালোবাসা’।

 

সম্প্রতি তারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আশ্রয় নেন কুষ্টিয়ায়। স্বপ্ন দেখেছিলেন নতুন জীবনের, ভালোবাসার ঘর বাঁধার। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায় কঠিন বাস্তবতার দেয়ালে।

 

শুক্রবার (২৫ জুলাই) রাতে কুষ্টিয়া থেকে তাদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। সেখানেই ঘটে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। থানার প্রাঙ্গণে কান্নায় ভেঙে পড়েন দুজনেই। কেউ কাউকে ছাড়তে চাইছিলেন না। একে অপরকে জড়িয়ে ধরেই ছিল শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি।

 

তাসলিমা বারবার বলছিলেন—

 

> “ও ছাড়া আমি বাঁচবো না… ওকে কেড়ে নিও না আমার কাছ থেকে।”

 

আর কিশোর মেহেদীর কণ্ঠে শোনা যায় করুণ আর্তি—

> “ওর হাত ধরেই তো জীবনটা শুরু করতে চেয়েছিলাম… এত তাড়াতাড়ি সবাই শেষ করে দিলো!”

 

তবে চোখের জল, ভালোবাসার আকুতি কিছুই টেকেনি সমাজের বিধি, পরিবারের মান-ইজ্জত আর আইনের বাধ্যবাধকতার কাছে।

 

পরিবারের চাপে পড়ে পুলিশ বাধ্য হয় তাদের আলাদা করে দিতে। তুলে দেওয়া হয় দুইটি ভিন্ন গাড়িতে। সেই শেষ মুহূর্তে, একে অপরের দিকে তাকিয়ে, চোখের জলে প্রতিফলিত হয় না বলা অনেক কথা, হয়তো একটাই প্রতিজ্ঞা—

 

> “প্রেম যদি সত্যি হয়, একদিন আবার দেখা হবে…”