বাংলাদেশ ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাঁকোয়া ব্রিজ এলাকায় ইপিজেড (EPZ) বাস্তবায়নের দাবিতে গণসংযোগ।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪৮:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৬৬ Time View

 

ইমরান সরকার গাইবান্ধা:- উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত জেলার প্রাণের আহ্বান ‎দীর্ঘদিন ধরেই গাইবান্ধা জেলা দেশের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম থেকে উপেক্ষিত ও অবহেলিত। ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শিল্পায়নের অভাবে এই জেলা পিছিয়ে পড়েছে উন্নয়নের মূল ধারার থেকে। এই প্রেক্ষাপটে জেলার সার্বিক অগ্রগতির লক্ষ্যে গাইবান্ধা সদর ও পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর সংলগ্ন সাঁকোয়া ব্রিজ এলাকায় একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (EPZ) স্থাপনের দাবিতে শুরু হয়েছে গণসংযোগ ২০২৫ শীর্ষক এক গণআন্দোলন।

 

‎গাইবান্ধার সাবেক জেলা প্রশাসক ড. কাজী আনোয়ারুল হক সরকারের নিকট এ বিষয়ে পূর্বে প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হয়েছিল। ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থান, সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগের সুবিধা, হেলিপ্যাডের উপস্থিতি এবং প্রশস্ত শ্রমবাজারের কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকাটি ইপিজেড স্থাপনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়রা।

 

‎কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সাঁকোয়া ব্রিজ এলাকা উপেক্ষা করে একটি বিরোধপূর্ণ স্থানে, আদিবাসী সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর বসতি এলাকায় ইপিজেড স্থাপনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। স্থানীয় সাঁওতালরা এই উদ্যোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন।

 

‎সাঁকোয়া ব্রিজ এলাকায় ইপিজেড নির্মিত হলে গাইবান্ধা সদরসহ সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা, সাদুল্লাপুর, গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ী উপজেলার হাজার হাজার কর্মজীবী মানুষ স্বল্প খরচে দ্রুত কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারবেন। এতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বৃদ্ধি পাবে এবং গাইবান্ধা জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নে অভূতপূর্ব গতি সঞ্চার হবে। জাতীয় অর্থনীতিতেও এ অঞ্চল একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

 

‎উন্নয়ন আন্দোলনকারীরা ইপিজেড দাবির পাশাপাশি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবির প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, যেমন:

‎গাইবান্ধায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা।

‎জেলা জুড়ে গ্যাস সংযোগের বিস্তৃতি।

‎গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের আধুনিকায়ন ও সেবার মানোন্নয়ন।

‎ঘাঘট লেকের সীমানা নির্ধারণপূর্বক অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ।

‎এই সকল দাবির বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গাইবান্ধাবাসীর পক্ষ থেকে একটি ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ডাক দেওয়া হয়েছে।

‎গাইবান্ধা সাঁকোয়া ব্রিজ ইপিজেড বাস্তবায়ন মঞ্চ ব্যানারে পরিচালিত এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

 

‎আন্দোলনের আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন:

‎অ্যাডভোকেট কুশলাশীষ চক্রবর্তী (সভাপতি)

‎এই আন্দোলন শুধু একটি দাবি নয়, বরং উন্নয়ন বঞ্চিত গাইবান্ধার জন্য এক দৃঢ় প্রত্যয়ের নাম।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

সাঁকোয়া ব্রিজ এলাকায় ইপিজেড (EPZ) বাস্তবায়নের দাবিতে গণসংযোগ।

Update Time : ০২:৪৮:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫

 

ইমরান সরকার গাইবান্ধা:- উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত জেলার প্রাণের আহ্বান ‎দীর্ঘদিন ধরেই গাইবান্ধা জেলা দেশের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম থেকে উপেক্ষিত ও অবহেলিত। ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শিল্পায়নের অভাবে এই জেলা পিছিয়ে পড়েছে উন্নয়নের মূল ধারার থেকে। এই প্রেক্ষাপটে জেলার সার্বিক অগ্রগতির লক্ষ্যে গাইবান্ধা সদর ও পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর সংলগ্ন সাঁকোয়া ব্রিজ এলাকায় একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (EPZ) স্থাপনের দাবিতে শুরু হয়েছে গণসংযোগ ২০২৫ শীর্ষক এক গণআন্দোলন।

 

‎গাইবান্ধার সাবেক জেলা প্রশাসক ড. কাজী আনোয়ারুল হক সরকারের নিকট এ বিষয়ে পূর্বে প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হয়েছিল। ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থান, সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগের সুবিধা, হেলিপ্যাডের উপস্থিতি এবং প্রশস্ত শ্রমবাজারের কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকাটি ইপিজেড স্থাপনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়রা।

 

‎কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সাঁকোয়া ব্রিজ এলাকা উপেক্ষা করে একটি বিরোধপূর্ণ স্থানে, আদিবাসী সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর বসতি এলাকায় ইপিজেড স্থাপনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। স্থানীয় সাঁওতালরা এই উদ্যোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন।

 

‎সাঁকোয়া ব্রিজ এলাকায় ইপিজেড নির্মিত হলে গাইবান্ধা সদরসহ সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা, সাদুল্লাপুর, গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ী উপজেলার হাজার হাজার কর্মজীবী মানুষ স্বল্প খরচে দ্রুত কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারবেন। এতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বৃদ্ধি পাবে এবং গাইবান্ধা জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নে অভূতপূর্ব গতি সঞ্চার হবে। জাতীয় অর্থনীতিতেও এ অঞ্চল একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

 

‎উন্নয়ন আন্দোলনকারীরা ইপিজেড দাবির পাশাপাশি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবির প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, যেমন:

‎গাইবান্ধায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা।

‎জেলা জুড়ে গ্যাস সংযোগের বিস্তৃতি।

‎গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের আধুনিকায়ন ও সেবার মানোন্নয়ন।

‎ঘাঘট লেকের সীমানা নির্ধারণপূর্বক অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ।

‎এই সকল দাবির বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গাইবান্ধাবাসীর পক্ষ থেকে একটি ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ডাক দেওয়া হয়েছে।

‎গাইবান্ধা সাঁকোয়া ব্রিজ ইপিজেড বাস্তবায়ন মঞ্চ ব্যানারে পরিচালিত এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

 

‎আন্দোলনের আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন:

‎অ্যাডভোকেট কুশলাশীষ চক্রবর্তী (সভাপতি)

‎এই আন্দোলন শুধু একটি দাবি নয়, বরং উন্নয়ন বঞ্চিত গাইবান্ধার জন্য এক দৃঢ় প্রত্যয়ের নাম।