
রানা খান,শ্রীপুর গাজীপুর প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের শ্রীপুরে মারুফা আক্তার (৪০)নামের এক পোশাক কারখানার শ্রমিককে ঘরের ভেতরে তালাবদ্ধ করে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী মিজান পলাতক রয়েছেন।
রোববার(৩রা আগষ্ট )ভোর রাতে (৩)টার দিকে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের ইদ্রবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মারুফা আক্তার (৪০) উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের ইদ্রবপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী। তিনি গত বছর বিদেশ থেকে দেশে এসে স্থানীয় একটি কারখানায় চাকরি নিয়েছেন।
অভিযুক্ত স্বামী মো. মিজানুর রহমান (৪৫) একই গ্রামের মো. সুলতান মিয়ার ছেলে। তিনি একটি ওষুধের দোকান পরিচালনা করেন। অভিযুক্ত মিজানুর রহমান, মারুফা আক্তারের দ্বিতীয় স্বামী ও একই এলাকার ঔষধ ব্যবসায়ী।
যদিও মারুফার নিকট আত্মীয় রতন মিয়া দাবি করেছেন, ভুয়া কাবিননামার মাধ্যমে মারুফাকে ব্ল্যাকমেইল করছিলেন স্বামী মিজানুর রহমান।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল রহমান জানান, ‘ শনিবার রাতের খাবার শেষে সকলে ঘুমিয়ে পড়ি। গভীর রাতে আশপাশের মানুষের চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে উঠে দেখি মিজানের বাড়িতে আগুন। দৌড়ে ঘটনাস্থলে যাই।গিয়ে দেখি বাসার মূল ফটক তালাবদ্ধ। স্থানীয়রা মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, দুটি ঘরের দরজা তালাবদ্ধ। এরপর সবাই মিলে ঘরের তালা ভেঙে আগুন নেভানো শুরু করে। ততক্ষণে মারুফা আগুনে পুড়ে অঙ্গার।এ সময় মারুফার সাথে থাকা তার স্বামী সেখানে ছিলেন না। এমনকি ঘটনার পর থেকে তার কোন সন্ধান নেই।’
মারুফার মেয়ে নাজমা বলেন, তার মা বিদেশে থাকতেন। সে সময় তার বাবার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। বিদেশ থেকে এসে তার মা বাপের বাড়িতেই থাকতেন।
এরপর মিজানুর রহমান ভুয়া কাবিন তৈরি করে আমার মাকে ব্ল্যাকমেইল করে স্ত্রী হিসেবে দাবী করছিলেন। নাজমা বলেন, এই ঘটনায় মিজানুর রহমানের সংশ্লিষ্টতা আছে বলে আমাদের ধারণা। তিনি ঘটনার পর থেকে পালিয়ে আছেন।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, ‘ প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা ঘরের ভিতরে স্ত্রীর শরীরে আগুন দিয়ে ও মাথায় আঘাত করে মারুফার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর পর বাহিরের দিক থেকে তালা লাগিয়ে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান পালিয়ে গেছেন। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে ধরতে পুলিশের অভিযান চলমান।’#
Reporter Name 


















