বাংলাদেশ ০৮:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেট-তামাবিল ফোরলেন প্রকল্পে অধিগ্রহণের নামে সিসিডিবি’র তেলেসমাতি কারবার জমি ভবনের নকশা ফাউন্ডেশন পরিবর্তন করে কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৪৪:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৪৪ Time View

 

সিলেট বিভাগীয় ব্যুরোঃ

সিলেট-তামাবিল ফোরলেন প্রকল্পে অধিগ্রহণের নামে সিসিডিবি’র তেলেসমাতি কারবার। জমির শ্রেণি ও ভবনের ফাউন্ডেশন পরিবর্তন করে বেশী টাকা পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিসিডিবি’র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট ৬ লেন ও সিলেট-তামাবিল ৪ লেন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ ও প্রকল্পের ডিজিটাল নকশা, জমির পর্চা ও জমির মালিকের সঠিক তথ্য সংগ্রহের কাজ পায় বেসরকারি সংস্থা ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভলাপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি)। সেই হিসেবে তারা তাদের

কার্যক্রম শুরু করে এই মেঘা প্রকল্পে। ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে সিলেটের লালাবাজার পর্যন্ত অধিগ্রহণ প্রকল্পের ডিজিটাল নকশা প্রস্তুতের কাজ শেষে প্রকৃত ভূমিদাতাদের তালিকা প্রস্তুত করে বুঝিয়ে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

কিন্তু সিলেট-তামাবিল অংশের ৪ লেন প্রকল্পে অধিগ্রহণ ও প্রকল্পের ডিজিটাল নকশা প্রস্তুতের সময় জমির ম্যাপ, পচা, মালিকানার তথ্য সংগ্রহ শেষে দেখা যায় সিসিডিবি’র টিম লিডার আতিকুল ইসলাম এর শ্যালক সিলেট-তামাবিল অংশের ম্যানেজার ফজলে রাব্বি বহিরাগত স্বপন সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা মিলে নিজেদের ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে জমি, বাসা বাড়ী, ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক সহজ সরল নিরীহ মানুষকে বোকা বানিয়ে মালিকদের সাথে যোগসাজসে কমিশন বাণিজ্যের চুক্তি করে জমির ধরণ ও ভবনের ফাউন্ডেশন পরিবর্তন করে সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদের সাথে চুক্তি না করলে ঐ সমস্ত গ্রাহকদের ঝুলিয়ে রাখা হয়। ফলে নিদিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্বপন সরকার এই প্রকল্পের কোন দায়িত্বে না থাকলেও গাজীপুরের এই বহিরাগত ব্যক্তিকে টিকাদার বানিয়ে জমি,দোকান ও ভবন মালিকদের সাথে ক্ষতিপুরণের টাকা পাইয়ে দিতে চুক্তি করা হচ্ছে। এরকম গোপন চুক্তির কয়েকটি ভিডিও এখন প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। এই অবৈধ কাজের মূলে রয়েছে ম্যানেজার ফজলে রাব্বি। তিনি টিম লিডার আতিকুল ইসলাম এর সহযোগিতায় প্রভাব খাটিয়ে সিলেট সড়ক ও জনপদের কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

 

 

ভূমি অধিগ্রহণের সাথে জড়িত একটি চক্র জায়গার মালিকদের সাথে যোগসাজশ করে জমির ধরণ ও ভবনের প্রকৃত ফাউন্ডেশন পরিবর্তন করে উচ্চ মূল্য বাড়িয়ে সরকারের কাছ থেকে ভূমি মালিকদের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

 

এসব অপকর্মের কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মহাসড়কের কাজ সম্পন্ন হওয়ার সংশয় সৃষ্টি হয়েছে জনমনে। অনেকে মনে করছেন, মহাসড়ক উন্নয়ন কাজে সংশ্লিষ্টদের সাথে উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তা যুক্ত থাকলে তাদের মাঠ পর্যায়ে কাজের দক্ষতায় উন্নয়ন কাজ আরো টেকসই হতো।

 

 

এ ব্যপারে সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন সিসিডিবি’র কাজ হচ্ছে ডিজিটাল নকশা, জমির পর্চা ও প্রকৃত মালিকের তথ্য সংগ্রহ করা। টাকা পাইয়ে দেওয়ার কোন চুক্তি তারা করতে পারেনা। যদি করে তাহলে সেটা অবৈধ। তিনি আরো বলেন নারায়নগঞ্জ থেকে তামাবিল পর্যন্ত প্রায় ৪০হাজার কাঠা জমি অধিগ্রহণ করা হবে।

 

 

চুক্তির বিষয়টি নিয়ে সিসিডিবি’র টিম লিডার আতিকুল ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন আমার একজন সুপারভাইজার মারা গেছে এখন কথা বলতে পারবোনা। আপনি সিলেট অফিসে ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করেন। চলবে

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

সিলেট-তামাবিল ফোরলেন প্রকল্পে অধিগ্রহণের নামে সিসিডিবি’র তেলেসমাতি কারবার জমি ভবনের নকশা ফাউন্ডেশন পরিবর্তন করে কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ।

Update Time : ০৮:৪৪:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫

 

সিলেট বিভাগীয় ব্যুরোঃ

সিলেট-তামাবিল ফোরলেন প্রকল্পে অধিগ্রহণের নামে সিসিডিবি’র তেলেসমাতি কারবার। জমির শ্রেণি ও ভবনের ফাউন্ডেশন পরিবর্তন করে বেশী টাকা পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিসিডিবি’র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট ৬ লেন ও সিলেট-তামাবিল ৪ লেন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ ও প্রকল্পের ডিজিটাল নকশা, জমির পর্চা ও জমির মালিকের সঠিক তথ্য সংগ্রহের কাজ পায় বেসরকারি সংস্থা ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভলাপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি)। সেই হিসেবে তারা তাদের

কার্যক্রম শুরু করে এই মেঘা প্রকল্পে। ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে সিলেটের লালাবাজার পর্যন্ত অধিগ্রহণ প্রকল্পের ডিজিটাল নকশা প্রস্তুতের কাজ শেষে প্রকৃত ভূমিদাতাদের তালিকা প্রস্তুত করে বুঝিয়ে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

কিন্তু সিলেট-তামাবিল অংশের ৪ লেন প্রকল্পে অধিগ্রহণ ও প্রকল্পের ডিজিটাল নকশা প্রস্তুতের সময় জমির ম্যাপ, পচা, মালিকানার তথ্য সংগ্রহ শেষে দেখা যায় সিসিডিবি’র টিম লিডার আতিকুল ইসলাম এর শ্যালক সিলেট-তামাবিল অংশের ম্যানেজার ফজলে রাব্বি বহিরাগত স্বপন সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা মিলে নিজেদের ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে জমি, বাসা বাড়ী, ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক সহজ সরল নিরীহ মানুষকে বোকা বানিয়ে মালিকদের সাথে যোগসাজসে কমিশন বাণিজ্যের চুক্তি করে জমির ধরণ ও ভবনের ফাউন্ডেশন পরিবর্তন করে সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদের সাথে চুক্তি না করলে ঐ সমস্ত গ্রাহকদের ঝুলিয়ে রাখা হয়। ফলে নিদিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্বপন সরকার এই প্রকল্পের কোন দায়িত্বে না থাকলেও গাজীপুরের এই বহিরাগত ব্যক্তিকে টিকাদার বানিয়ে জমি,দোকান ও ভবন মালিকদের সাথে ক্ষতিপুরণের টাকা পাইয়ে দিতে চুক্তি করা হচ্ছে। এরকম গোপন চুক্তির কয়েকটি ভিডিও এখন প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। এই অবৈধ কাজের মূলে রয়েছে ম্যানেজার ফজলে রাব্বি। তিনি টিম লিডার আতিকুল ইসলাম এর সহযোগিতায় প্রভাব খাটিয়ে সিলেট সড়ক ও জনপদের কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

 

 

ভূমি অধিগ্রহণের সাথে জড়িত একটি চক্র জায়গার মালিকদের সাথে যোগসাজশ করে জমির ধরণ ও ভবনের প্রকৃত ফাউন্ডেশন পরিবর্তন করে উচ্চ মূল্য বাড়িয়ে সরকারের কাছ থেকে ভূমি মালিকদের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

 

এসব অপকর্মের কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মহাসড়কের কাজ সম্পন্ন হওয়ার সংশয় সৃষ্টি হয়েছে জনমনে। অনেকে মনে করছেন, মহাসড়ক উন্নয়ন কাজে সংশ্লিষ্টদের সাথে উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তা যুক্ত থাকলে তাদের মাঠ পর্যায়ে কাজের দক্ষতায় উন্নয়ন কাজ আরো টেকসই হতো।

 

 

এ ব্যপারে সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন সিসিডিবি’র কাজ হচ্ছে ডিজিটাল নকশা, জমির পর্চা ও প্রকৃত মালিকের তথ্য সংগ্রহ করা। টাকা পাইয়ে দেওয়ার কোন চুক্তি তারা করতে পারেনা। যদি করে তাহলে সেটা অবৈধ। তিনি আরো বলেন নারায়নগঞ্জ থেকে তামাবিল পর্যন্ত প্রায় ৪০হাজার কাঠা জমি অধিগ্রহণ করা হবে।

 

 

চুক্তির বিষয়টি নিয়ে সিসিডিবি’র টিম লিডার আতিকুল ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন আমার একজন সুপারভাইজার মারা গেছে এখন কথা বলতে পারবোনা। আপনি সিলেট অফিসে ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করেন। চলবে