বাংলাদেশ ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে দেশে সাংবাদিক নিরাপদ নয়, সাধারণ জনগণ কীভাবে নিরাপদ থাকবে?

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৫৮:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৮৮ Time View

হারুন অর রশিদ,স্টাফ রিপোর্টার:

যে কোনো সমাজ বা রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের চারটি স্তম্ভের মধ্যে চতুর্থ স্তম্ভ হলো গণমাধ্যম। সাংবাদিকরা সমাজের চোখ-কান হিসেবে কাজ করেন। তাঁরা জনগণের পক্ষে কথা বলেন, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করেন এবং সমাজের অসংগতি, দুর্নীতি ও অন্যায় তুলে ধরেন। কিন্তু যখন সাংবাদিকরাই নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত হন, যখন তাঁদের ওপর হামলা হয়, তাঁদের জীবন হুমকির মুখে পড়ে, তখন এটি কেবল তাঁদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্ন থাকে না, বরং এটি পুরো সমাজের নিরাপত্তার প্রতি একটি গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার অর্থ হলো জনগণের কণ্ঠরোধ করা। যখন একজন সাংবাদিককে অন্যায়, দুর্নীতি বা কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন লেখার জন্য হুমকি দেওয়া হয় বা আক্রমণ করা হয়, তখন তার মূল বার্তাটি হলো—’এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলা যাবে না।’ এই বার্তা কেবল সেই সাংবাদিকের জন্যই নয়, বরং সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্যই। এর ফলে সাধারণ মানুষ তাঁদের অধিকার সম্পর্কে কথা বলতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে এবং নিজেদের সমস্যা নিয়ে সোচ্চার হতে ভয় পায়। কারণ তাঁরা জানেন যে, সত্য প্রকাশ করতে গেলেই তাঁদের ওপরও আঘাত আসতে পারে।

যে দেশে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন না, সেখানে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বৃদ্ধি পায়। কারণ কোনো জবাবদিহি থাকে না। সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত অর্থ আত্মসাৎ করা হলেও কেউ প্রশ্ন করতে পারে না। হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা, শিক্ষাব্যবস্থার করুণ দশা—এগুলো নিয়েও কথা বলার সাহস থাকে না। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান হ্রাস পায়, তাঁরা প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হন এবং তাঁদের মৌলিক অধিকারগুলোও লঙ্ঘিত হয়।

সুতরাং, সাংবাদিক নিরাপত্তা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। এটি একটি সুস্থ, গণতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল সমাজের প্রতিচ্ছবি। যে সমাজে সাংবাদিকরা নিরাপদ, সেই সমাজে সাধারণ জনগণও নিরাপদ। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি মৌলিক দায়িত্ব। সাংবাদিকরা নিরাপদে কাজ করতে পারলে, তাঁরা নির্ভয়ে সত্য তুলে ধরতে পারবেন। এর ফলে সাধারণ জনগণ তাঁদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবেন, সরকার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান জবাবদিহিতার আওতায় থাকবে এবং একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

যে দেশে সাংবাদিক নিরাপদ নয়, সাধারণ জনগণ কীভাবে নিরাপদ থাকবে?

Update Time : ০৩:৫৮:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫

হারুন অর রশিদ,স্টাফ রিপোর্টার:

যে কোনো সমাজ বা রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের চারটি স্তম্ভের মধ্যে চতুর্থ স্তম্ভ হলো গণমাধ্যম। সাংবাদিকরা সমাজের চোখ-কান হিসেবে কাজ করেন। তাঁরা জনগণের পক্ষে কথা বলেন, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করেন এবং সমাজের অসংগতি, দুর্নীতি ও অন্যায় তুলে ধরেন। কিন্তু যখন সাংবাদিকরাই নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত হন, যখন তাঁদের ওপর হামলা হয়, তাঁদের জীবন হুমকির মুখে পড়ে, তখন এটি কেবল তাঁদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্ন থাকে না, বরং এটি পুরো সমাজের নিরাপত্তার প্রতি একটি গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার অর্থ হলো জনগণের কণ্ঠরোধ করা। যখন একজন সাংবাদিককে অন্যায়, দুর্নীতি বা কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন লেখার জন্য হুমকি দেওয়া হয় বা আক্রমণ করা হয়, তখন তার মূল বার্তাটি হলো—’এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলা যাবে না।’ এই বার্তা কেবল সেই সাংবাদিকের জন্যই নয়, বরং সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্যই। এর ফলে সাধারণ মানুষ তাঁদের অধিকার সম্পর্কে কথা বলতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে এবং নিজেদের সমস্যা নিয়ে সোচ্চার হতে ভয় পায়। কারণ তাঁরা জানেন যে, সত্য প্রকাশ করতে গেলেই তাঁদের ওপরও আঘাত আসতে পারে।

যে দেশে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন না, সেখানে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বৃদ্ধি পায়। কারণ কোনো জবাবদিহি থাকে না। সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত অর্থ আত্মসাৎ করা হলেও কেউ প্রশ্ন করতে পারে না। হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা, শিক্ষাব্যবস্থার করুণ দশা—এগুলো নিয়েও কথা বলার সাহস থাকে না। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান হ্রাস পায়, তাঁরা প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হন এবং তাঁদের মৌলিক অধিকারগুলোও লঙ্ঘিত হয়।

সুতরাং, সাংবাদিক নিরাপত্তা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। এটি একটি সুস্থ, গণতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল সমাজের প্রতিচ্ছবি। যে সমাজে সাংবাদিকরা নিরাপদ, সেই সমাজে সাধারণ জনগণও নিরাপদ। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি মৌলিক দায়িত্ব। সাংবাদিকরা নিরাপদে কাজ করতে পারলে, তাঁরা নির্ভয়ে সত্য তুলে ধরতে পারবেন। এর ফলে সাধারণ জনগণ তাঁদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবেন, সরকার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান জবাবদিহিতার আওতায় থাকবে এবং একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।