বাংলাদেশ ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জরিনা অধ্যায় : টি এইচ বকুল 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১৬:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫
  • ৮০ Time View

 

বাবার আঙ্গুল ধরে, জরিনার শৈশব স্মৃতিরা হাঁটে, তার অবচেতন মনে।

বলে উঠে, বাজান ঐ দ্যাহো, ঘাস ফড়িংডা ক্যাবা কইরা লাফাইয়া লাফাইয়া ঘাসের পিডে বহে। দ্যাহো দ্যাহো দইওল পহিডা ক্যাবা কইরা বইস্যা আছে আনসুপারির চিহন ডালে। কি সুন্দর না বাজান? চলো গাঙে যাই বক দেহি, ক্যাবা কইরা ঠুঁডের মইধ্যি মাছ ধরে,

চলো বাজান চলো,,,,,,

তখনো অবচেতন জরিনার স্নায়ু।

মেঝের বুকে শুয়ে আছে,তার জীর্ণ নিথর দেহটা।

 

জরিনার খুনতির ঘা’ডা অহনও শুহায় নাই, বলে উঠে পাশের বাড়ির করিমন বিবি।

ফুলবানু বলে, কি কও বুবু?

হ্যারা কী মানুষ, না জানোয়ার?

জরিনারে এ্যাবা কইরা ছ্যাঁকা দিলো!

চাইরডা ভাতের লাইগ্যা না’অয়, মিয়া বাড়িতে কাইজ কাম হরে,

তাই বইল্যা,,,,,,,,,,,

 

জয়নাল আর ফিরে আসেনি। কোথায় যেন নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে। তবে, যাবার ক’দিন আগে, ময়ফুল কে বলেছিল। জরিনার মা’রে,

এহোন আর কিছুই যেন্ ভাল্ ঠ্যাহেনা।

ক্যাবা যেন্ কইলজাডা ছিঁড়া লইয়া গেছে

বুহের মইধ্যি থাইক্কা। মাইয়াডারে এ্যাল্লা দুইচোহে দেহনের লাগি পিপাস জাইগ্যা উডে মরুর বুহে।

 

ময়ফুল স্বামীর কথা গুলো শুনে, তার ছেঁড়া মলিন আঁচলে মুখ ঢাকে। আর শব্দহীন কান্নায় তার অজান্তেই ক’ফোটা অশ্রুজল গড়িয়ে পরে আঁচলে ঢাকা চিবুক বেয়ে।

 

জ্বর’টা মেপে দিয়ে যায়, গ্রামের করিম ডাক্তার। সাথে কিছু ঔষুধও দিয়ে যায় খাওয়ার জন্য আর প্রলেপের জন্য।

আর বলে যায়, আমারে আর ডাইকো না তোমরা,

পারলে সদরে লইয়া যাও মাইয়াডারে।

 

একটা কাক, মিয়া বাড়ির পুরনো আমগাছটার মগডালে বসে, ভরদুপুরে শুধু ডেকেই চলেছে।

তখনো শুকোয়নি মিয়া বাড়ির ঘরের মেঝে।

যা, জরিনার চোখের জলে এখনো ঝকঝক করে কাঁচের মত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

জরিনা অধ্যায় : টি এইচ বকুল 

Update Time : ০৬:১৬:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫

 

বাবার আঙ্গুল ধরে, জরিনার শৈশব স্মৃতিরা হাঁটে, তার অবচেতন মনে।

বলে উঠে, বাজান ঐ দ্যাহো, ঘাস ফড়িংডা ক্যাবা কইরা লাফাইয়া লাফাইয়া ঘাসের পিডে বহে। দ্যাহো দ্যাহো দইওল পহিডা ক্যাবা কইরা বইস্যা আছে আনসুপারির চিহন ডালে। কি সুন্দর না বাজান? চলো গাঙে যাই বক দেহি, ক্যাবা কইরা ঠুঁডের মইধ্যি মাছ ধরে,

চলো বাজান চলো,,,,,,

তখনো অবচেতন জরিনার স্নায়ু।

মেঝের বুকে শুয়ে আছে,তার জীর্ণ নিথর দেহটা।

 

জরিনার খুনতির ঘা’ডা অহনও শুহায় নাই, বলে উঠে পাশের বাড়ির করিমন বিবি।

ফুলবানু বলে, কি কও বুবু?

হ্যারা কী মানুষ, না জানোয়ার?

জরিনারে এ্যাবা কইরা ছ্যাঁকা দিলো!

চাইরডা ভাতের লাইগ্যা না’অয়, মিয়া বাড়িতে কাইজ কাম হরে,

তাই বইল্যা,,,,,,,,,,,

 

জয়নাল আর ফিরে আসেনি। কোথায় যেন নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে। তবে, যাবার ক’দিন আগে, ময়ফুল কে বলেছিল। জরিনার মা’রে,

এহোন আর কিছুই যেন্ ভাল্ ঠ্যাহেনা।

ক্যাবা যেন্ কইলজাডা ছিঁড়া লইয়া গেছে

বুহের মইধ্যি থাইক্কা। মাইয়াডারে এ্যাল্লা দুইচোহে দেহনের লাগি পিপাস জাইগ্যা উডে মরুর বুহে।

 

ময়ফুল স্বামীর কথা গুলো শুনে, তার ছেঁড়া মলিন আঁচলে মুখ ঢাকে। আর শব্দহীন কান্নায় তার অজান্তেই ক’ফোটা অশ্রুজল গড়িয়ে পরে আঁচলে ঢাকা চিবুক বেয়ে।

 

জ্বর’টা মেপে দিয়ে যায়, গ্রামের করিম ডাক্তার। সাথে কিছু ঔষুধও দিয়ে যায় খাওয়ার জন্য আর প্রলেপের জন্য।

আর বলে যায়, আমারে আর ডাইকো না তোমরা,

পারলে সদরে লইয়া যাও মাইয়াডারে।

 

একটা কাক, মিয়া বাড়ির পুরনো আমগাছটার মগডালে বসে, ভরদুপুরে শুধু ডেকেই চলেছে।

তখনো শুকোয়নি মিয়া বাড়ির ঘরের মেঝে।

যা, জরিনার চোখের জলে এখনো ঝকঝক করে কাঁচের মত।