
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় কোনভাবেই বন্ধ হচ্ছেনা মাদকের রমরমা বাণিজ্য। বরং দিনদিন বেড়েই চলেছে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার। মাদকের নীল দংশন থেকে যুব সমাজকে বাঁচাতে স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের শত চেষ্টা কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাদক ব্যাবসায়ীরা তাদের ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে। মাদক বিরোধী র্যালী সেমিনার কোনো কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছেনা মাদকের ভয়াবহ বিস্তার। মাদকের এই ভয়াবহ বিস্তারে উদ্বেগ উৎকন্ঠায় রয়েছেন দক্ষিণ সুরমা এলাকাবাসী।
আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাদক প্রতিরোধ নিয়ে সবাই ভালো ভালো কথা বললেও বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ফলে এখন প্রকাশ্যেই চলছে মাদক বিক্রি। প্রশাসনের উদ্যোগ থাকলেও গুটিকয়েক অসাধু কর্মকর্তার কারণে কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভবতো নয় বরং আরো ভয়াবহ রুপ ধারণ করবে।
মাদকাসক্ত এক ভয়াবহ মরণব্যাধি। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে যে সকল সমস্যা রয়েছে তার মধ্যে একটি অন্যতম সমস্যা হচ্ছে মাদকের ভয়াল বিস্তৃতি। মাদকের এই ভয়াল বিস্তৃতি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে সিলেটের বিভিন্ন আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তার অন্যতম হচ্ছে সিলেটের প্রবেশধার দক্ষিণ সুরমা উপজেলা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সড়ক পথে অথবা রেলপথে মাদকের চালান ঢুকে প্রথমেই দক্ষিণ সুরমায়। ফলে দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে দক্ষিণ সুরমায় মাদকের ভয়াবহতা। এতে করে হুমকির মুখে পড়েছে দক্ষিণ সুরমা যুবসমাজ ও কিশোররা। মাদকের ভয়াল বিস্তারে উদ্বিগ্ন এই দক্ষিণ সুরমা উপজেলার অভিবাবকরাও। ৫ই আগষ্টের আগে প্রশাসনের তৎপরতা থাকায় দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় মাদক ব্যবসা কিছুটা কম থাকলেও সম্প্রতি আবার বেড়েছে মাদকের রমরমা ব্যবসা ও বিস্তার।
বিশ্বস্থ সুত্র জানিয়েছে, দক্ষিণ সুরমার বেশ কয়েকটি জায়গায় মাদক কারবারীরা মাদকের কেনাবেচা করে থাকে। তাদের মধ্যে অন্যতম ভার্তখলা মসজিদ বাজারের গলির ভেতর মেথর পট্টি, এই মেথর পট্টির গলিতে মাদক ব্যবসায়ী নাজু, মজনু, রহিমার আস্তানা, কুমিল্লা পট্টি, খোঁজারখলার হিরোইন সম্রাট মৃত বাবুল মিয়ার কলোনিতে তাহার ছেলে ইয়াবা সম্রাট সাধু মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। টেকনিক্যাল রোডে রুটি ওয়ালার বাড়ির শাহীন মোটরসাইকেলে ফেরি করে অর্ডার নিয়ে বিক্রি করেন। বড়ইকান্দি এলাকার বাসিন্দা জিয়া তিনি বাড়িতে ও মোটরসাইকেলে ফেরি করে বিক্রি করেন, আল শামসির পিছনে গোলাম আলীর কলোনিতে, চাঁদনীঘাট মাছ বাজারের ভিতরে হোটেল আল তকদির, কদমতলী বালুর মাঠ, ফেরিঘাট, চায়না কলোনি, চন্ডিপুল, কাশবন, লাউয়াই, মোল্লার গ্যারেজ, মার্কাস পয়েন্ট, শিববাড়ি, সাবেক কাউন্সিলর আশিক কমিশনার এর বাড়ির পাশে মোমিনখলা, সহ এর আশেপাশে বেশ কয়েকটি মাদক বিক্রির স্পট রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রটি জানায়, সাধুর বাজার বাঁশপালা মার্কেটে জিঞ্জিরশাহ মাজারের পাশে তীর শিলং জুয়ার আস্তানা হিসেবে পরিচিত সুরমা মহল আস্তানা রয়েছে, যেখানে ইয়াবা ও গাজার রমরমা ব্যবসা চলে। এসব স্পটের নিয়ন্ত্রক ওই এলাকার প্রভাবশালী মৃত কালো মিয়ার ছেলে জুয়ারী আবুল কাশেম । এদের রয়েছে বেশ শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের হাত ধরে মাদকের চালান পৌছে যায় খুচরা ব্যাবসায়ীদের হাতে।
সুত্রটি আরো জানায় এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যে রয়েছে অটোরিকশা ড্রাইভার, মটরসাইকেল ড্রাইভার, রিক্সা চালক, ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী এরা তাদের ব্যবসা ও চাকুরীর পাশাপাশি মাদক বহন করে নিরাপদে কাষ্টমারের কাছে মাদকের চালান পৌছে দেয়।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার জিঞ্জিরশাহ মাজারের পুকুরের পাড়ে একটি আসন ঘরের পাশে প্রতিদিন অবাধে চলছে গাঁজা ইয়াবা সেবন স্থানীয়দের অভিযোগ এই এলাকার প্রভাবশালী মাদক সেবনকারীরা হওয়ায় তাদেরকে কিছুই থামানো যাচ্ছে না। জিঞ্জিরশাহ মাজারের পবিত্রতা নষ্ট করছে এই মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদক সেবন কারীরা । তারা তাদের অবৈধ ব্যবসাকে নিরাপদ করতে আধ্যাতিক নগরীর একজন আউলিয়ার মাজারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। যা অত্যান্ত গর্হিত কাজ। স্থানীয়রা এবং মাজার কর্তৃপক্ষ মাদকের বিরুদ্ধে কোন ভূমিকা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কি তারাও মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে জড়িত?
জীবন বিধ্বংসী ক্ষতিকারক মাূদক দ্রব্য সেবনের ফলে যুবসমাজের সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটছে। এরই পরিণাম স্বরূপ ছেলেমেয়ের হাতে মা-বাবা খুন, মাদকের টাকা জোগাড় করতে না পেরে, বাবা- মায়ের কাছে টাকা চেয়ে টাকা না পেয়ে অভিমান করে আত্নহত্যা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, রাহাজানি এখনকার নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। মাদকাসক্ত হওয়ার প্রধান কারণ হলো মাদকের সহজলভ্যতা ও যত্রতত্র বেচাকেনা।
পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উদ্যেগ জরুরী, পাশাপাশি পুলিশের টহল জোরদার করে মাদক বিক্রেতাদের আইনের আওতায় আনতে পারলে যুবসমাজকে মাদক থেকে দুরে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন এখানকার সচেতন মহল।
Reporter Name 
























