
রাশেদ ইসলাম, বিশেষ সংবাদদাতাঃ
জয়পুরহাট শহরের প্রশস্ত সড়কগুলো যেন এখন আর যান চলাচলের পথ নয়, বরং পরিণত হয়েছে ইজিপাওয়ার ও মোটরসাইকেলের অবৈধ পার্কিংয়ের অঘোষিত স্থানে। প্রতিদিনই এই বিশৃঙ্খলার কারণে মানুষকে পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে। এতে রোগী, শিক্ষার্থী, অফিসগামীসহ সাধারণ পথচারীরা হয়ে পড়েছেন সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী।
আল মদিনা ক্লিনিকের সামনে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এলোমেলোভাবে দাঁড়ানো ইজিপাওয়ার গাড়ির কারণে প্রায়ই আটকে যাচ্ছে জরুরি গাড়ি। সম্প্রতি এ সড়কে ঘটে এক বিব্রতকর ঘটনা। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গাড়ি নিয়ে ডান পাশ থেকে বাম পাশে যেতে গিয়ে পড়েন বিপাকে। মাত্র কয়েক মিটার অতিক্রম করতে তার লেগে যায় প্রায় ৩ মিনিট। এ সময় রাস্তা দখল করে রাখা এক ইজিপাওয়ার চালক হর্ন বাজানোর পরও সঙ্গে সঙ্গে আসেননি; প্রায় ২ মিনিট পর এসে গাড়ি সরান। এতে শুধু সাধারণ মানুষই নয়, দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও পড়ছেন চরম সমস্যায়।
আল মদিনা ক্লিনিকের এক স্বেচ্ছাসেবী জানিয়েছেন, তিনি বহুবার ড্রাইভারদের সতর্ক করেছেন এলোমেলোভাবে গাড়ি না দাঁড় করাতে। কিন্তু কেউ কর্ণপাত করছেন না। অভিযোগ রয়েছে, জয়পুরহাট বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে বাটার মোড় ও মসজিদ মার্কেট পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশ জুড়ে দখল করে রেখেছে ইজিপাওয়ার গাড়িগুলো।
তবে শুধু ইজিপাওয়ার নয়, শহরের প্রধান সড়কে আরও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে মোটরসাইকেলের অবৈধ পার্কিং। বিভিন্ন পেশার মানুষ নির্বিচারে রাস্তার দুই পাশে মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে রাখছেন। এতে প্রশস্ত রাস্তা থাকা সত্ত্বেও যানবাহন ও পথচারীরা প্রতিনিয়ত ভয়াবহ যানজটের শিকার হচ্ছেন।
ক্ষুব্ধ শহরবাসী বলছেন—
“জয়পুরহাটের রাস্তা যেন এখন মৃত্যুফাঁদ। প্রতিদিনই আতঙ্ক নিয়ে চলতে হয়। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।”
সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে অবৈধ পার্কিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে শহরের এই বিশৃঙ্খলা দিন দিন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। জরুরি ভিত্তিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকর পদক্ষেপই পারে জয়পুরহাট শহরবাসীকে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে।
Reporter Name 


















