
এম এ কাদের, হবিগঞ্জ ( সিলেট) প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসির নগর উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ফান্দাউক দরবার শরীফের বর্তমান গদ্দিনসীন পীর সাহেব বলেন, ইবলিস সোজাসুজি আল্লাহ’কে ডাকে, মাধ্যমে মানে না।
আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা:
১. ইবলিসের অহংকার ও গর্ব:
ইবলিস একসময় আল্লাহর খুব ইবাদতগার ছিল। কিন্তু যখন তাকে আদম (আঃ)-কে সেজদা করতে বলা হল, সে বলল,
> “আমি তার চেয়ে উত্তম; তুমি আমাকে আগুন দিয়ে সৃষ্টি করেছো, আর তাকে মাটি দিয়ে।”
(সূরা আল-আ’রাফ ৭:১২)
এখানে ইবলিস সরাসরি আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চাইলেও, আল্লাহর নির্ধারিত “মাধ্যম” (আদম আঃ) মানতে চায়নি। অর্থাৎ, সে চেয়েছিল নিজে নিজেই আল্লাহর নিকটবর্তী হতে—কোনো নির্দেশ, নবী বা মাধ্যম ছাড়া।
২. মাধ্যমের গুরুত্ব (Wasila):
সত্যিকারের তাসাউফ বা রূহানিয়াতে, মধ্যস্থতা বা মাধ্যম (wasila) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন:
নবী করীম (সা.) হচ্ছেন আল্লাহ ও উম্মতের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম।
মুর্শিদ বা গাইড হলেন রূহানিয়াতের পথে এক মাধ্যম, যিনি মুরীদকে আল্লাহর দিকে নিয়ে যান।
যারা মাধ্যম মানে না, তারা আত্মিক অহংকারে পড়ে যায়—যা ইবলিসের মতন।
৩. “ঘৃণা বোধ করে” — মানে কী?
ইবলিস নিজেকে এত উত্তম ভাবতো যে, সে মনে করতো কারো মাধ্যম গ্রহণ করা তার জন্য “লজ্জার” বা “অপমানের” ব্যাপার। আজও অনেকেই এই ইবলিসি মনোভাব পোষণ করে—তারা বলে, “আমার আল্লাহর সাথে সরাসরি সম্পর্ক আছে, আমার কাউকে দরকার নেই।”
এটি আধ্যাত্মিক অহংকার, যা আত্মশুদ্ধির পথে সবচেয়ে বড় বাধা।
সারাংশ:
সরাসরি আল্লাহর দিকেই ছুটে যাওয়া উত্তম, কিন্তু আল্লাহর নির্ধারিত নিয়ম ও মাধ্যমের পথেই যেতে হবে।
নবী, রাসূল, মুর্শিদ ও অলিদের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও হেদায়েত আসে।
ইবলিস মাধ্যম মানে না বলেই ধ্বংস হয়েছে — আমরা যেন সেই পথে না যাই।
আধ্যাত্মিক শিক্ষা:
আল্লাহর নৈকট্য পেতে হলে, অহংকার নয়—নম্রতা, মাধ্যম ও নির্দেশ মানতে হবে।
“সোজাসুজি যাওয়ার” নামে যদি অহংকার থাকে, তাহলে সেটা হবে ইবলিসের পথ।
তাসাউফে শেখানো হয়—নিজেকে ছোট মনে করো, মুর্শিদকে মাধ্যম বানাও, তাহলেই আল্লাহর নূরে পৌঁছানো সম্ভব।
Reporter Name 
























