বাংলাদেশ ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পশুপাখিও শরমে মুখ লুকায় – তৌহিদুল ইসলাম 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:১৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৫৮ Time View

স্টাফ রিপোর্টার:

প্রেম, ভালবাসা, স্নেহ, মায়া-মমতা কমবেশি সকলপ্রাণীর মধ্যেই বিদ্যমান। মানুষের মধ্যে এই গুণ গুলি অধিক মাত্রায় থাকে। একারণেই মানুষ মহানুভব ও মনীষী উপাধি লাভ করে। পশুর মধ্যে পশুত্ব বেশি মাত্রায় থাকার কারণে তাদের প্রেম ভালবাসা স্নেহ মায়া-মমতার উদাহরণ গুলো খুবই গৌণ। যেমন গাভী তার বাচ্চা বড় হলে আর কাছে জায়গা দিতে চায় না। বাচ্চা ভিড়তে চাইলে শিং দিয়ে তাড়া করে। মুরগী ওর ছাও গুলিকে পাকনার নিচে রেখে বড় করে। কিন্তু একটা সময় পার হয়ে গেলে ঠুকরিয়ে দূর করে দেয়। পুরুষ সিংহ ও জলহস্তী নাকি ওর ছেলে বাচ্চাকে মেরে ফেলে সুযোগ পেলেই।

 

তার মানে মানুষ দয়া মায়া-মমতার দিক বিবেচনায় অতি উঁচু স্থান অধিকার করে আছে প্রাণীকূলের মধ্যে। কিন্তু এই মানুষই যখন নিষ্ঠুর হয়, হিংস্র হয়ে উঠে তখন পশুর চেয়েও ভয়াবহ ও নিকৃষ্টতর নিষ্ঠুরতার ঘটনা ঘটাতে পারে। দর্শন শাস্রে তখন একে পশুত্বের আধিক্য হিসেবে দেখা হয়। ধর্মদর্শনগুলিতেও একই মত পাওয়া যায়। কারো সাথে প্রতারণা করা, বেইনসাফি করা, চালাকি করা, নিকৃষ্ট কৌশল অবলম্বন করে একজন ঠকানোর চেষ্টা করা, কাউকে দুঃখকষ্ট দিয়ে সুখ উপভোগ ও অনুভব করা পশুপ্রবৃত্তির পৈশাচিক উল্লাস ছাড়া আর কিছু নয়। একজন শিক্ষিত মানুষ যখন পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠে তখন বুঝতে হবে সে দুর্জন ও দুর্বৃত্ত।

 

মানবতাবোধ, দয়া, মায়া-মমতা কখনও কোন মানুষকে সম্মান এনে দেয় নাই এমন উদাহরণ বিরল। কিন্তু ঐ যে পশুত্ব তাকে তো বশমানাতে হবে। আজকাল আধুনিকতার আধিপত্যে পশুত্বের জয়জয়কার দেখে পশুপাখিও শরমে মুখ লুকায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

পশুপাখিও শরমে মুখ লুকায় – তৌহিদুল ইসলাম 

Update Time : ০৫:১৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার:

প্রেম, ভালবাসা, স্নেহ, মায়া-মমতা কমবেশি সকলপ্রাণীর মধ্যেই বিদ্যমান। মানুষের মধ্যে এই গুণ গুলি অধিক মাত্রায় থাকে। একারণেই মানুষ মহানুভব ও মনীষী উপাধি লাভ করে। পশুর মধ্যে পশুত্ব বেশি মাত্রায় থাকার কারণে তাদের প্রেম ভালবাসা স্নেহ মায়া-মমতার উদাহরণ গুলো খুবই গৌণ। যেমন গাভী তার বাচ্চা বড় হলে আর কাছে জায়গা দিতে চায় না। বাচ্চা ভিড়তে চাইলে শিং দিয়ে তাড়া করে। মুরগী ওর ছাও গুলিকে পাকনার নিচে রেখে বড় করে। কিন্তু একটা সময় পার হয়ে গেলে ঠুকরিয়ে দূর করে দেয়। পুরুষ সিংহ ও জলহস্তী নাকি ওর ছেলে বাচ্চাকে মেরে ফেলে সুযোগ পেলেই।

 

তার মানে মানুষ দয়া মায়া-মমতার দিক বিবেচনায় অতি উঁচু স্থান অধিকার করে আছে প্রাণীকূলের মধ্যে। কিন্তু এই মানুষই যখন নিষ্ঠুর হয়, হিংস্র হয়ে উঠে তখন পশুর চেয়েও ভয়াবহ ও নিকৃষ্টতর নিষ্ঠুরতার ঘটনা ঘটাতে পারে। দর্শন শাস্রে তখন একে পশুত্বের আধিক্য হিসেবে দেখা হয়। ধর্মদর্শনগুলিতেও একই মত পাওয়া যায়। কারো সাথে প্রতারণা করা, বেইনসাফি করা, চালাকি করা, নিকৃষ্ট কৌশল অবলম্বন করে একজন ঠকানোর চেষ্টা করা, কাউকে দুঃখকষ্ট দিয়ে সুখ উপভোগ ও অনুভব করা পশুপ্রবৃত্তির পৈশাচিক উল্লাস ছাড়া আর কিছু নয়। একজন শিক্ষিত মানুষ যখন পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠে তখন বুঝতে হবে সে দুর্জন ও দুর্বৃত্ত।

 

মানবতাবোধ, দয়া, মায়া-মমতা কখনও কোন মানুষকে সম্মান এনে দেয় নাই এমন উদাহরণ বিরল। কিন্তু ঐ যে পশুত্ব তাকে তো বশমানাতে হবে। আজকাল আধুনিকতার আধিপত্যে পশুত্বের জয়জয়কার দেখে পশুপাখিও শরমে মুখ লুকায়।