বাংলাদেশ ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাক কাকের মাংস খায় না, কিন্তু জয়পুরহাটে বিএনপি বিএনপির মাংস খায়!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:২২:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ৮১ Time View

 

জয়পুরহাট প্রতিনিধি:

জয়পুরহাট জেলা কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে মঙ্গলবার বিকেলে জমায়েত হন শতাধিক মানুষ। কারও চোখে ছিল আগ্রহের ঝিলিক, কেউবা গল্পে মশগুল, আবার কেউ উদ্দিগ্নভাবে কারাগারের দিকে তাকিয়ে। সবারই এক অপেক্ষা— মুক্তি পাবেন বিএনপি কর্মী ও সাবেক বড়তারা ইউপি সদস্য মাসুদার রহমান মাসুদ।

 

দশ দিনের কারাবাস শেষে সন্ধ্যা সাতটায় জামিনে মুক্তি পান তিনি। আর সেই মুক্তির মুহূর্তেই ফুলেল শুভেচ্ছা ও আনন্দের জোয়ারে ভেসে ওঠে জয়পুরহাট জেলা কারাগারের ফটক। শতাধিক বিএনপি নেতা-কর্মী ফুলের মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান তাদের এই সহযোদ্ধাকে।

 

পরে শহর থেকে মোটরসাইকেল বহরে নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে হোপ হাট হয়ে হোপ গ্রামের রাস্তা দিয়ে পাঠানপাড়া বাজারের বিএনপি কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ ও মতবিনিময় সভা।

 

সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, ৩০ সেপ্টেম্বর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিক্রয়কে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির এক পক্ষ অন্য পক্ষকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে ১২ জনের নামে মামলা দায়ের করেছে।

যেখানে ১১ জন জামিন পেলেও মাসুদার রহমান মাসুদকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

 

সভায় খাড়িতা ১নং ওয়ার্ড বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বড়তারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হালিম মাস্টার।

তিনি বলেন, “এক গোত্রের মানুষ হয়ে কিভাবে মিথ্যা মামলা করা যায়, তা বুঝে উঠতে পারি না। যদি ছাত্রদল নেতা নুর ইসলাম নিজের ভুলে বা অন্যের প্ররোচনায় পড়ে মামলা করে থাকেন, তাহলে তিনি যেন দ্রুত তা প্রত্যাহার করে দলের মর্যাদা রক্ষা করেন।”

 

এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা নুর ইসলাম-এর সঙ্গে ফেসবুক মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি বর্তমানে অসুস্থ, তাই যথাযথভাবে মন্তব্য করতে পারছেন না। তবে মামলা প্রত্যাহার করবেন কিনা, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

বড়তারা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন শহিদুল বলেন,

“বিএনপির ভেতরেই একটি পক্ষ রাজনৈতিকভাবে অন্য পক্ষকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্রে নেমেছে। তারা আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে দলের কর্মীদের হেনস্তা করছে।”

 

বক্তাদের মধ্যে বিএনপির সক্রিয় সদস্য সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন,

“মামলার ১২ নম্বর আসামি ঘটনার দিন জেলার বাইরে ছিলেন, তারপরও তার নাম দেওয়া হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অন্যায় ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

 

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন—

৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক আনিছুর রহমান, যুবদল কর্মী জুয়েল রানা, সাবেক ১ নং ওয়ার্ড সভাপতি মাহাতাব হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল করিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোকছেদ আলী সরকার, ৩ নং ওয়ার্ড কর্মী জুলহাউজ ইসলাম, ৮ নং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুত ফকিরসহ ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন,

 

 

“বিএনপির ভেতরে একটি লোভী মহল ব্যক্তিস্বার্থে দলের ঐক্য নষ্টের পাঁয়তারা করছে। এই বিভাজন বন্ধ না হলে বিষয়টি আমরা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তুলে ধরব।”

 

সভা শেষে মাসুদার রহমান মাসুদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে “বিএনপি ঐক্যবদ্ধ থাকুক, ভেতরের বিভাজন মুছে যাক”— এমন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পাঠানপাড়া বাজারের বিএনপি কার্যালয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

কাক কাকের মাংস খায় না, কিন্তু জয়পুরহাটে বিএনপি বিএনপির মাংস খায়!

Update Time : ০৫:২২:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

 

জয়পুরহাট প্রতিনিধি:

জয়পুরহাট জেলা কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে মঙ্গলবার বিকেলে জমায়েত হন শতাধিক মানুষ। কারও চোখে ছিল আগ্রহের ঝিলিক, কেউবা গল্পে মশগুল, আবার কেউ উদ্দিগ্নভাবে কারাগারের দিকে তাকিয়ে। সবারই এক অপেক্ষা— মুক্তি পাবেন বিএনপি কর্মী ও সাবেক বড়তারা ইউপি সদস্য মাসুদার রহমান মাসুদ।

 

দশ দিনের কারাবাস শেষে সন্ধ্যা সাতটায় জামিনে মুক্তি পান তিনি। আর সেই মুক্তির মুহূর্তেই ফুলেল শুভেচ্ছা ও আনন্দের জোয়ারে ভেসে ওঠে জয়পুরহাট জেলা কারাগারের ফটক। শতাধিক বিএনপি নেতা-কর্মী ফুলের মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান তাদের এই সহযোদ্ধাকে।

 

পরে শহর থেকে মোটরসাইকেল বহরে নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে হোপ হাট হয়ে হোপ গ্রামের রাস্তা দিয়ে পাঠানপাড়া বাজারের বিএনপি কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ ও মতবিনিময় সভা।

 

সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, ৩০ সেপ্টেম্বর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিক্রয়কে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির এক পক্ষ অন্য পক্ষকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে ১২ জনের নামে মামলা দায়ের করেছে।

যেখানে ১১ জন জামিন পেলেও মাসুদার রহমান মাসুদকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

 

সভায় খাড়িতা ১নং ওয়ার্ড বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বড়তারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হালিম মাস্টার।

তিনি বলেন, “এক গোত্রের মানুষ হয়ে কিভাবে মিথ্যা মামলা করা যায়, তা বুঝে উঠতে পারি না। যদি ছাত্রদল নেতা নুর ইসলাম নিজের ভুলে বা অন্যের প্ররোচনায় পড়ে মামলা করে থাকেন, তাহলে তিনি যেন দ্রুত তা প্রত্যাহার করে দলের মর্যাদা রক্ষা করেন।”

 

এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা নুর ইসলাম-এর সঙ্গে ফেসবুক মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি বর্তমানে অসুস্থ, তাই যথাযথভাবে মন্তব্য করতে পারছেন না। তবে মামলা প্রত্যাহার করবেন কিনা, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

বড়তারা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন শহিদুল বলেন,

“বিএনপির ভেতরেই একটি পক্ষ রাজনৈতিকভাবে অন্য পক্ষকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্রে নেমেছে। তারা আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে দলের কর্মীদের হেনস্তা করছে।”

 

বক্তাদের মধ্যে বিএনপির সক্রিয় সদস্য সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন,

“মামলার ১২ নম্বর আসামি ঘটনার দিন জেলার বাইরে ছিলেন, তারপরও তার নাম দেওয়া হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অন্যায় ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

 

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন—

৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক আনিছুর রহমান, যুবদল কর্মী জুয়েল রানা, সাবেক ১ নং ওয়ার্ড সভাপতি মাহাতাব হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল করিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোকছেদ আলী সরকার, ৩ নং ওয়ার্ড কর্মী জুলহাউজ ইসলাম, ৮ নং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুত ফকিরসহ ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন,

 

 

“বিএনপির ভেতরে একটি লোভী মহল ব্যক্তিস্বার্থে দলের ঐক্য নষ্টের পাঁয়তারা করছে। এই বিভাজন বন্ধ না হলে বিষয়টি আমরা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তুলে ধরব।”

 

সভা শেষে মাসুদার রহমান মাসুদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে “বিএনপি ঐক্যবদ্ধ থাকুক, ভেতরের বিভাজন মুছে যাক”— এমন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পাঠানপাড়া বাজারের বিএনপি কার্যালয়।