বাংলাদেশ ০৮:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জকিগঞ্জে ৩১ শয্যার হাসপাতালে একদিনে ৭২ রোগী ভর্তি! নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক, মেঝেতে চিকিৎসা!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪২:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৯ Time View

 

আব্দুস শহীদ শাকির 

জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি।

সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবার চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের জনবল ও শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতালটি এখন নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। মাত্র ৩১ শয্যার এই হাসপাতালে গতকাল একদিনে রেকর্ড সংখ্যক ৭২ জন রোগী ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কাগজে-কলমে ৩১ শয্যার জনবল কাঠামো দিয়ে চলছে, যদিও এটি প্রায় এক যুগ আগেই ৫০ শয্যায় উন্নীত করার অনুমোদন পেয়েছে। অনুমোদিত জনবল কাঠামো অনুসারে এখানে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ২০টি। কিন্তু বাস্তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাদে মাত্র ৩ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে হাসপাতালের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা কার্যক্রম।এই স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে একদিকে বহিঃবিভাগে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে জরুরি ও অন্তঃবিভাগের এতো বিপুল সংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে।

শয্যা সংকট- ৩১ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন এবং সাম্প্রতিক সময়ে ৭২ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন।

চিকিৎসক শূন্যতা- ২০টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ৩ জন।

অন্যান্য জনবল সংকট- নার্স, টেকনিশিয়ানসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদেও রয়েছে চরম শূন্যতা।অকার্যকর অপারেশন থিয়েটার-বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে অপারেশন থিয়েটার অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে, ফলে প্রসূতি ও জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীদের সিলেট বা অন্য উপজেলায় পাঠাতে হচ্ছে।স্থানীয় ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, শয্যা না পেয়ে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। সময়মতো ডাক্তার পাওয়া কঠিন, আর যে ক’জন আছেন, তারাও রোগীর চাপে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। ওষুধ সরবরাহেও ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।এ অবস্থায় স্থানীয় জনগণ ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি উঠেছে—দ্রুত জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য অনুমোদিত ৫০ শয্যার কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে নতুন ভবন ও বর্ধিত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে এবং শূন্য পদে অবিলম্বে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক (বিশেষজ্ঞসহ), নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ দিতে হবে। দীর্ঘদিনের এই স্বাস্থ্য সংকট নিরসনে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

জকিগঞ্জে ৩১ শয্যার হাসপাতালে একদিনে ৭২ রোগী ভর্তি! নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক, মেঝেতে চিকিৎসা!

Update Time : ০১:৪২:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

 

আব্দুস শহীদ শাকির 

জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি।

সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবার চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের জনবল ও শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতালটি এখন নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। মাত্র ৩১ শয্যার এই হাসপাতালে গতকাল একদিনে রেকর্ড সংখ্যক ৭২ জন রোগী ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কাগজে-কলমে ৩১ শয্যার জনবল কাঠামো দিয়ে চলছে, যদিও এটি প্রায় এক যুগ আগেই ৫০ শয্যায় উন্নীত করার অনুমোদন পেয়েছে। অনুমোদিত জনবল কাঠামো অনুসারে এখানে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ২০টি। কিন্তু বাস্তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাদে মাত্র ৩ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে হাসপাতালের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা কার্যক্রম।এই স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে একদিকে বহিঃবিভাগে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে জরুরি ও অন্তঃবিভাগের এতো বিপুল সংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে।

শয্যা সংকট- ৩১ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন এবং সাম্প্রতিক সময়ে ৭২ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন।

চিকিৎসক শূন্যতা- ২০টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ৩ জন।

অন্যান্য জনবল সংকট- নার্স, টেকনিশিয়ানসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদেও রয়েছে চরম শূন্যতা।অকার্যকর অপারেশন থিয়েটার-বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে অপারেশন থিয়েটার অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে, ফলে প্রসূতি ও জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীদের সিলেট বা অন্য উপজেলায় পাঠাতে হচ্ছে।স্থানীয় ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, শয্যা না পেয়ে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। সময়মতো ডাক্তার পাওয়া কঠিন, আর যে ক’জন আছেন, তারাও রোগীর চাপে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। ওষুধ সরবরাহেও ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।এ অবস্থায় স্থানীয় জনগণ ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি উঠেছে—দ্রুত জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য অনুমোদিত ৫০ শয্যার কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে নতুন ভবন ও বর্ধিত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে এবং শূন্য পদে অবিলম্বে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক (বিশেষজ্ঞসহ), নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ দিতে হবে। দীর্ঘদিনের এই স্বাস্থ্য সংকট নিরসনে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।