বাংলাদেশ ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতিবন্ধকতা জয় করে এইচএসসিতেও মাহামুদুরের সাফল্য।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:২০:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৪৩ Time View

 

মন্জুরুল আহসান শামীম

স্টাফ রিপোটারঃ জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী, কিন্তু মনোবল ও মেধায় অদম্য এক তরুণ মাহমুদুর রহমান নিহাদ।

কাউনিয়া কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে অংশগ্রহণ করে হুইল চেয়ারে বসেই পরীক্ষা দেয়। অসাধারণ ফলাফল করে জিপিএ–৫ অর্জন করে সবার নজর কাড়ে। এর আগে, ২০২৩ সালে খোপাতি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষাতেও পেয়েছেন জিপিএ–৫। তার এই অর্জনে এলাকায় বইছে অভিনন্দনের ঢল।

 

কাউনিয়া কলেজের মানবিক বিভাগেন শিক্ষার্থী মাহামুদুর রহমান। দুই পা না থাকায় প্রতিদিন হুইল চেয়ারে করে কলেজে যেতেন। প্রতিবন্ধকতাকে কখনো দুর্বলতা মনে করেননি তিনি। বরং তা হয়ে উঠেছে তার অনুপ্রেরণার উৎস। জিপিএ-৫ পেয়ে অবাক করে দিয়েছেন সবাইকে।

 

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের খোপাতী গ্রামের দরিদ্র মুরগি বিক্রেতা আব্দুল হান্নান মিয়ার ছেলে মাহামুদুর রহমান নিহাদ। জন্মগতভাবেই তার দুটি পা অচল। হুইল চেয়ারে বসে পড়ালেখার হাতেখড়ি। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর বাবা-মায়ের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসক হওয়ার স্বপ্ন তার। এজন্য সবার সহযোগিতা চেয়েছেন মাহামুদুর রহমান নিহাদ।

 

কাউনিয়া কলেজের অধ্যক্ষ ফারুক আযম জানান, তার প্রতিষ্ঠান থেকে এ বছর ৫২০ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করে ৩৯৮ জন। মাহামুদুর রহমান নিহাদের এই অর্জন পুরো প্রতিষ্ঠানের গর্ব। সে অধ্যাবসায়ী, ভদ্র ও পরিশ্রমী। সঠিক সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে সে বড় কিছু করবে।”আমরা তার সাফল্যে গর্বিত।

 

এলাকাবাসী ও সহপাঠীরা মাহামুদুর রহমান নিহাদের সাফল্যে গর্বিত। তারা চান, সরকার বা কোনো সামাজিক সংগঠন যেন তার উচ্চশিক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তার দায়িত্ব নেয়।

প্রতিবন্ধী হয়েও যে দৃঢ় মনোবল, অধ্যাবসায় ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে সাফল্য ধরা যায় — মাহমুদুর রহমান নিহাদ তারই জীবন্ত উদাহরণ। তার গল্প প্রমাণ করে — “শরীর নয়, মনই আসল শক্তি।”

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মহিদুল হক বলেন, প্রতিবন্ধীতা কোনো বাধা নয়, মাহামুদুর রহমান নিহাদ তা প্রমাণ করেছে। এই সাফল্য অন্য অনেক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাবে। তার এই অর্জন সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

প্রতিবন্ধকতা জয় করে এইচএসসিতেও মাহামুদুরের সাফল্য।

Update Time : ০৩:২০:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

 

মন্জুরুল আহসান শামীম

স্টাফ রিপোটারঃ জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী, কিন্তু মনোবল ও মেধায় অদম্য এক তরুণ মাহমুদুর রহমান নিহাদ।

কাউনিয়া কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে অংশগ্রহণ করে হুইল চেয়ারে বসেই পরীক্ষা দেয়। অসাধারণ ফলাফল করে জিপিএ–৫ অর্জন করে সবার নজর কাড়ে। এর আগে, ২০২৩ সালে খোপাতি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষাতেও পেয়েছেন জিপিএ–৫। তার এই অর্জনে এলাকায় বইছে অভিনন্দনের ঢল।

 

কাউনিয়া কলেজের মানবিক বিভাগেন শিক্ষার্থী মাহামুদুর রহমান। দুই পা না থাকায় প্রতিদিন হুইল চেয়ারে করে কলেজে যেতেন। প্রতিবন্ধকতাকে কখনো দুর্বলতা মনে করেননি তিনি। বরং তা হয়ে উঠেছে তার অনুপ্রেরণার উৎস। জিপিএ-৫ পেয়ে অবাক করে দিয়েছেন সবাইকে।

 

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের খোপাতী গ্রামের দরিদ্র মুরগি বিক্রেতা আব্দুল হান্নান মিয়ার ছেলে মাহামুদুর রহমান নিহাদ। জন্মগতভাবেই তার দুটি পা অচল। হুইল চেয়ারে বসে পড়ালেখার হাতেখড়ি। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর বাবা-মায়ের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসক হওয়ার স্বপ্ন তার। এজন্য সবার সহযোগিতা চেয়েছেন মাহামুদুর রহমান নিহাদ।

 

কাউনিয়া কলেজের অধ্যক্ষ ফারুক আযম জানান, তার প্রতিষ্ঠান থেকে এ বছর ৫২০ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করে ৩৯৮ জন। মাহামুদুর রহমান নিহাদের এই অর্জন পুরো প্রতিষ্ঠানের গর্ব। সে অধ্যাবসায়ী, ভদ্র ও পরিশ্রমী। সঠিক সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে সে বড় কিছু করবে।”আমরা তার সাফল্যে গর্বিত।

 

এলাকাবাসী ও সহপাঠীরা মাহামুদুর রহমান নিহাদের সাফল্যে গর্বিত। তারা চান, সরকার বা কোনো সামাজিক সংগঠন যেন তার উচ্চশিক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তার দায়িত্ব নেয়।

প্রতিবন্ধী হয়েও যে দৃঢ় মনোবল, অধ্যাবসায় ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে সাফল্য ধরা যায় — মাহমুদুর রহমান নিহাদ তারই জীবন্ত উদাহরণ। তার গল্প প্রমাণ করে — “শরীর নয়, মনই আসল শক্তি।”

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মহিদুল হক বলেন, প্রতিবন্ধীতা কোনো বাধা নয়, মাহামুদুর রহমান নিহাদ তা প্রমাণ করেছে। এই সাফল্য অন্য অনেক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাবে। তার এই অর্জন সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।