বাংলাদেশ ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেট ভাসছে মাদক ও চোরাচালানে — এসএমপির আংশিক সাফল্যেও অন্ধকারে শহরের তৃণমূল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
  • ৮৩ Time View

 

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ 

অপরাধমুক্ত সিলেট গড়ার প্রত্যয়ে মাঠে এসএমপি — মাদক উদ্ধার ও অপরাধ দমনে সাফল্যের দাবি, কিন্তু কাস্টঘর সুইপার কলোনীসহ নগরীর বিভিন্ন স্পটে মাদকের রমরমা ব্যবসা।

 

অপরাধমুক্ত সিলেট গড়ার প্রত্যয়ে মাঠে নেমেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। নবাগত পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম-এর নেতৃত্বে পুলিশের সব ইউনিট সক্রিয় থাকলেও, মাদক ও চোরাচালানের ভয়াবহ বিস্তার রোধে এখনও পুরোপুরি সফল হয়নি এসএমপি। কাস্টঘর সুইপার কলোনীসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বেপরোয়াভাবে চলছে মাদক বেচাকেনা।

 

সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কঠোর অভিযানে আটক হয়েছে দুই শতাধিক অপরাধী। অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ৪৬৯টি গাড়ি জব্দ করেছে পুলিশ। অপরাধ দমন, মাদক উদ্ধার ও অসামাজিক কার্যকলাপ ঠেকাতে নানা অভিযান চললেও নগরীর কিছু এলাকায় পুলিশের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগরবাসী।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এসএমপি’র এক সপ্তাহের অভিযানে ইয়াবা ২৫০ পিস, বিদেশী মদ ৫৮৭ বোতল, গাঁজা ২০০ গ্রাম ও চোলাই মদ ১০২ লিটার জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় চোরাচালানকৃত ২,০৭১ পিস শাড়ি, ৩১ প্যাকেট চকলেট, ১,৬০০ পিস স্কিন কেয়ার ক্রিম, ১,৬৮,০০০ শলাকা বিড়ি, ৭৭০ প্যাকেট সিগারেট ও ২০টি কম্বল আটক করেছে এসএমপি। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য কোটি টাকার বেশি।

 

অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ১২ জনকে আটক ও চারটি আবাসিক হোটেল সিলগালা করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে মাদক ব্যবসায়ী ১৬ জন, তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী ১০ জন ও চিহ্নিত চোর ২৪ জনসহ দুই শতাধিক অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে এসএমপি পুলিশ।

 

তবে অভিযোগ রয়েছে—এসএমপির নিচের স্তরের কিছু কর্মকর্তা, যেমন ওসি, ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টর ও টহল টিমের ড্রাইভাররা চোরাচালান ও জুয়াড়িদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছে। ফলে কিছু অভিযানে গোপনে তথ্য ফাঁস হয়ে যায় বলে অভিযোগ পুলিশের ভেতর থেকেই।

 

গত এক সপ্তাহে জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে ৪২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এরা সকলেই কাটাকাটি ও শিলং তীর জুয়া চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

 

নগরীর কাস্টঘর সুইপার কলোনী এখন মাদক ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র। পুলিশের নজরদারি কম থাকায় এখানে দেদারসে চলছে ইয়াবা, গাঁজা ও চোলাই মদের বেচাকেনা। প্রতিদিনই নগরীর বিভিন্ন এলাকার তরুণ-যুবকেরা এখানে ভিড় জমায়।

 

অভিজাত এলাকা শাহজালাল উপশহর, দক্ষিণ সুরমা ব্রিজের নিচে, ভর্তখলা মসজিদ বাজারের পিছনে মেথর পট্টি কাশবন, জিঞ্জির শাহ মাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় গাঁজা সেবনের আসর বসে প্রতিদিন।

 

 

এছাড়া চাঁদনীঘাট, নতুন রেলস্টেশনের টেকনিকেল রোড, বাবুল মিয়ার কলোনি, কুমিল্লা পট্টি, তীর শিলং জুয়া ও কিশোর গ্যাং ভার্থখলা মসজিদ বাজারের পিছন, মাছিমপুর, বউবাজার, সুবহানিঘাট, কদমতলী, মদিনা মার্কেট, কুমারগাঁও, পাঠানটুলা ও ঘাসিটুলা—এসব এলাকা থেকেও মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

 

বিজ্ঞমহল বলছেন, এসএমপি’র অভিযান প্রশংসনীয় হলেও, কাস্টঘর সুইপার কলোনী ও আশপাশের এলাকাগুলোয় স্থায়ী অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি ছাড়া সিলেট নগরীকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব নয়।

 

 

অপরাধ দমনে এসএমপি’র আংশিক সাফল্য থাকলেও নগরীর অন্দরমহলে এখনো সক্রিয় চোরাচালান ও মাদক সিন্ডিকেট। পুলিশ কমিশনারের উদ্যোগ যেন বাস্তবায়নে পূর্ণতা পায়—এটাই নগরবাসীর প্রত্যাশা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

সিলেট ভাসছে মাদক ও চোরাচালানে — এসএমপির আংশিক সাফল্যেও অন্ধকারে শহরের তৃণমূল

Update Time : ০৭:২৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

 

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ 

অপরাধমুক্ত সিলেট গড়ার প্রত্যয়ে মাঠে এসএমপি — মাদক উদ্ধার ও অপরাধ দমনে সাফল্যের দাবি, কিন্তু কাস্টঘর সুইপার কলোনীসহ নগরীর বিভিন্ন স্পটে মাদকের রমরমা ব্যবসা।

 

অপরাধমুক্ত সিলেট গড়ার প্রত্যয়ে মাঠে নেমেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। নবাগত পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম-এর নেতৃত্বে পুলিশের সব ইউনিট সক্রিয় থাকলেও, মাদক ও চোরাচালানের ভয়াবহ বিস্তার রোধে এখনও পুরোপুরি সফল হয়নি এসএমপি। কাস্টঘর সুইপার কলোনীসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বেপরোয়াভাবে চলছে মাদক বেচাকেনা।

 

সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কঠোর অভিযানে আটক হয়েছে দুই শতাধিক অপরাধী। অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ৪৬৯টি গাড়ি জব্দ করেছে পুলিশ। অপরাধ দমন, মাদক উদ্ধার ও অসামাজিক কার্যকলাপ ঠেকাতে নানা অভিযান চললেও নগরীর কিছু এলাকায় পুলিশের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগরবাসী।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এসএমপি’র এক সপ্তাহের অভিযানে ইয়াবা ২৫০ পিস, বিদেশী মদ ৫৮৭ বোতল, গাঁজা ২০০ গ্রাম ও চোলাই মদ ১০২ লিটার জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় চোরাচালানকৃত ২,০৭১ পিস শাড়ি, ৩১ প্যাকেট চকলেট, ১,৬০০ পিস স্কিন কেয়ার ক্রিম, ১,৬৮,০০০ শলাকা বিড়ি, ৭৭০ প্যাকেট সিগারেট ও ২০টি কম্বল আটক করেছে এসএমপি। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য কোটি টাকার বেশি।

 

অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ১২ জনকে আটক ও চারটি আবাসিক হোটেল সিলগালা করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে মাদক ব্যবসায়ী ১৬ জন, তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী ১০ জন ও চিহ্নিত চোর ২৪ জনসহ দুই শতাধিক অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে এসএমপি পুলিশ।

 

তবে অভিযোগ রয়েছে—এসএমপির নিচের স্তরের কিছু কর্মকর্তা, যেমন ওসি, ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টর ও টহল টিমের ড্রাইভাররা চোরাচালান ও জুয়াড়িদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছে। ফলে কিছু অভিযানে গোপনে তথ্য ফাঁস হয়ে যায় বলে অভিযোগ পুলিশের ভেতর থেকেই।

 

গত এক সপ্তাহে জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে ৪২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এরা সকলেই কাটাকাটি ও শিলং তীর জুয়া চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

 

নগরীর কাস্টঘর সুইপার কলোনী এখন মাদক ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র। পুলিশের নজরদারি কম থাকায় এখানে দেদারসে চলছে ইয়াবা, গাঁজা ও চোলাই মদের বেচাকেনা। প্রতিদিনই নগরীর বিভিন্ন এলাকার তরুণ-যুবকেরা এখানে ভিড় জমায়।

 

অভিজাত এলাকা শাহজালাল উপশহর, দক্ষিণ সুরমা ব্রিজের নিচে, ভর্তখলা মসজিদ বাজারের পিছনে মেথর পট্টি কাশবন, জিঞ্জির শাহ মাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় গাঁজা সেবনের আসর বসে প্রতিদিন।

 

 

এছাড়া চাঁদনীঘাট, নতুন রেলস্টেশনের টেকনিকেল রোড, বাবুল মিয়ার কলোনি, কুমিল্লা পট্টি, তীর শিলং জুয়া ও কিশোর গ্যাং ভার্থখলা মসজিদ বাজারের পিছন, মাছিমপুর, বউবাজার, সুবহানিঘাট, কদমতলী, মদিনা মার্কেট, কুমারগাঁও, পাঠানটুলা ও ঘাসিটুলা—এসব এলাকা থেকেও মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

 

বিজ্ঞমহল বলছেন, এসএমপি’র অভিযান প্রশংসনীয় হলেও, কাস্টঘর সুইপার কলোনী ও আশপাশের এলাকাগুলোয় স্থায়ী অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি ছাড়া সিলেট নগরীকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব নয়।

 

 

অপরাধ দমনে এসএমপি’র আংশিক সাফল্য থাকলেও নগরীর অন্দরমহলে এখনো সক্রিয় চোরাচালান ও মাদক সিন্ডিকেট। পুলিশ কমিশনারের উদ্যোগ যেন বাস্তবায়নে পূর্ণতা পায়—এটাই নগরবাসীর প্রত্যাশা।