
আব্দুস শহীদ শাকির
জকিগঞ্জ (সিলেট)প্রতিনিধি।
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের আনন্দপুর গ্রামের প্রবাসী সোহেল আহমদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পরিবারের সদস্যরা এবং স্কুল-মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা নিয়মিত হুমকি, ভয়ভীতি ও মানহানিকর প্রচেষ্টার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।৩ নভেম্বর সোমবার পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর, বুধবার রাত অনুমান ১১টার দিকে প্রবাসী সোহেল আহমদের ছোট ভাই তোফায়েল আহমদকে শরিফগঞ্জ বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে হত্যা বা গুম করার চেষ্টা করা হয়।অপহরণকারীরা তাকে মারধর করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং পরে আনন্দপুর গ্রামের হারু মিয়ার বাড়ির পাশে ধানের মাঠে ফেলে যায়। অল্পের জন্য মৃত্যু থেকে বেঁচে ফেরা তোফায়েল আহমদকে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসা শেষে তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন।এ ঘটনায় তোফায়েল আহমদ বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে জকিগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৪, তারিখ: ১১/১০/২০২৫)। তবে মামলাটি চলমান থাকলেও অভিযুক্তরা জামিনে মুক্তি পেয়ে নিয়মিতভাবে পরিবারটিকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে বলে অভিযোগ করা হয়।বিশেষ করে গত ৩১ অক্টোবর, শুক্রবার দিবাগত রাত অনুমান সাড়ে ১২টার দিকে মুখোশধারী কয়েকজন ব্যক্তি সরাসরি বাড়িতে প্রবেশ করে তোফায়েল আহমদ ও তার চাচাতো ভাই আহমদ আলীর নাম ধরে ডাকতে শুরু করে। তারা ঘরে না থাকায় দরজা খোলার দাবি জানায় এবং চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ভয় পেয়ে গেলে মুখ বন্ধ করারও চেষ্টা চালায়। এসময় মুখোশধারীরা হুমকি দেয় “তোমাদের মারতে এখন আসিনি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপোষের মাধ্যমে সমাধান না হলে পরিবারের একজনকে হত্যা করা হবে। প্রয়োজনে খুনের মামলায় জেল কাটতেও আমাদের সমস্যা নেই।” সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী সোহেল আহমদের স্ত্রী নাজিরা আক্তার কেঁদে কেঁদে বলেন, “আমি ও আমার মেয়ে সহ পরিবারের সদস্যরা এখন ভয় ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। আমাদের নিরাপত্তা নেই।”চাচাতো ভাই আহমদ আলী বলেন, “আমার ভাই সোহেল আহমদ সৌদি আরবে প্রবাসে আছেন। ছোট ভাইরা দিনমজুরের কাজ করেন। অথচ আমাদের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে।আমাদের ছবি ব্যবহার করে ‘চুর’ আখ্যা দিয়ে মানহানির চেষ্টা চলছে এবং খুনের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।”প্রবাসী সুহেল আহমদের মা রুসনা বেগম বলেন, “এই হুমকির কারণে আমার নাতি-নাতনিরা স্কুল-মাদ্রাসায় যেতে ভয় পাচ্ছে। প্রতিদিন আতঙ্কে সময় পার করছি।”সংবাদ সম্মেলনে পরিবারটি প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানান, সঠিক তথ্য তুলে ধরে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখার।
Reporter Name 






















